📌 যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে সাতজন মুসলিম আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আবদুল এল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। নির্বাচনী প্রচারে তারা ফিলিস্তিন অধিকার ও গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা বিরোধিতা করে জয়লাভ করেছেন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস রচনা করেছে সাতজন মুসলিম আইনপ্রণেতা। সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে তাদের জয়কে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচিতদের মধ্যে আবদুল এল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। তারা ফিলিস্তিন অধিকার, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা বিরোধিতা করে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **সাতজন মুসলিম আইনপ্রণেতা** যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়েছেন, যার মধ্যে আবদুল এল-সাইয়েদ প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।
- 📌 **ডেমোক্র্যাটরা** সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে, রিপাবলিকানদের হারিয়ে দেয়া হয়েছে।
- 📌 **আবদুল এল-সাইয়েদ** (৪২ বছর) মিশিগান থেকে নির্বাচিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হন। তিনি ইসরাইলের নিঃশর্ত মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের বিরোধিতা করে জয়লাভ করেন।
- 📌 **আদম হামাউয়ি** (৫৬ বছর) নিউ জার্সির প্রথম মুসলিম প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি চিকিৎসক হিসেবে গাজার হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবা দিয়েছেন।
- 📌 **দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ে** (নিউইয়র্ক) ৮৫ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন। তিনি ফিলিস্তিন অধিকার ও নাগরিক অধিকার বিষয়ে প্রচার চালিয়েছেন।
- 📌 **রাশিদা তালিব** (মিশিগান) পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হন। তিনি ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করার দাবি করেন।
- 📌 **ইলহান ওমর** (মিনেসোটা) পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হন। তিনি মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি ও মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের নজরদারি চান।
- 📌 **প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় আক্রমণ** চালানো হয়। আবদুল এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে মুসলিম আইনপ্রণেতাদের জয়কে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচিত সাতজন মুসলিম আইনপ্রণেতার মধ্যে আবদুল এল-সাইয়েদ (৪২ বছর) মিশিগান থেকে নির্বাচিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। তিনি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন এবং আগে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ছিলেন। এল-সাইয়েদ রিপাবলিকান দলের সাবেক প্রতিনিধি মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি ইসরাইলের নিঃশর্ত মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের বিরোধিতা করেন এবং গাজায় চলমান ইসরাইলি সামরিক অভিযানকে গণহত্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন।
নিউ জার্সির প্রথম মুসলিম প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন আদম হামাউয়ি (৫৬ বছর)। তিনি প্লাস্টিক সার্জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সামরিক চিকিৎসক। ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। হামাউয়ি নির্বাচনী প্রচারে সবার জন্য মেডিকেয়ার চালু, চিকিৎসা ও শিক্ষাঋণ মওকুফ এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) বিলুপ্ত করার দাবি করেন। তিনি ইসরাইলের মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধেরও দাবি করেন।
নিউইয়র্কের প্রতিনিধি পরিষদে দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ে (৮৫ শতাংশ ভোট পেয়ে) নির্বাচিত হন। তিনি নাগরিক অধিকার বিষয়ক তদন্তকারী এবং ইসলাম গ্রহণকারী। শেভালিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কাজ করেছেন। পুনর্নির্বাচিত চার মুসলিম আইনপ্রণেতা প্রতিনিধি পরিষদের আসনে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাশিদা তালিব (মিশিগান) ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এবং ইলহান ওমর (মিনেসোটা) প্রথম সোমালি-আমেরিকান ফেডারেল আইনপ্রণেতা। তারা পররাষ্ট্রনীতি ও ফিলিস্তিন অধিকার নিয়ে কংগ্রেসে বিতর্কে অব্যাহত থাকবেন।
এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। রিপাবলিকানদের হারিয়ে দেয়া হয়েছে। আবদুল এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তার ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়।
"গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে গণহত্যা বলেই আমি আখ্যা দিয়েছি। আমি নিঃশর্ত মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের বিরোধিতা করছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওয়াশিংটন (সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ), মিশিগান, নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, মিনেসোটা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল এল-সাইয়েদ, আদম হামাউয়ি, দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ে, রাশিদা তালিব, ইলহান ওমর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২ বছর (আবদুল এল-সাইয়েদ), ৫৬ বছর (আদম হামাউয়ি), ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট, ৮৫ শতাংশ ভোট (দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!