📌 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে অস্ট্রিয়া ইরানের ন্যুক্লিয়ার প্রধান মোহাম্মদ এসলামিকে ভিয়েনা-ভিত্তিক আইএএইচএ-এর বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ থেকে বরখাস্ত করেছে। ইরান ও রাশিয়া এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সংস্থার রাজনৈতিকায়ন বলে অভিযোগ করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে অস্ট্রিয়া সরকার ইরানের ন্যুক্লিয়ার প্রধান মোহাম্মদ এসলামিকে আইএএইচএ-এর বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনে অংশগ্রহণ থেকে বরখাস্ত করেছে। ইরানের প্রতিনিধি দলের সাথে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয় এসলামিকে, কারণ অস্ট্রিয়া তার ভিসা প্রত্যাহার করে নেয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাগহাই এই পদক্ষেপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের ফল বলে অভিযোগ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবাদে অস্ট্রিয়া ইরানের ন্যুক্লিয়ার প্রধান মোহাম্মদ এসলামির ভিসা প্রত্যাহার করে, যিনি ২০২১ সাল থেকে প্রতি বছর আইএএইচএ-এর সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতেন।
- 📌 স্ন্যাপব্যাক স্যানকশন পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশসমূহ ইরানের ন্যুক্লিয়ার ও মিসাইল কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বাধা দিচ্ছে।
- 📌 ইরান ও রাশিয়া এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সংস্থার রাজনৈতিকায়ন বলে অভিযোগ করেছে, যেখানে ইরানের প্রতিনিধিরা আইএএইচএ-এর বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
- 📌 আইএএইচএ-এর সভাপতি রেজা নাজাফি বলেছেন, অস্ট্রিয়ার এই পদক্ষেপ ইরানের সদস্যপদ ও আইনগত অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
- 📌 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ইরান আইএএইচএ-এর বৈঠকে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দিতে ব্যবহার করবে, যা সংস্থার নিরপেক্ষতা ও নিরীক্ষণ ক্ষমতা হ্রাস করবে।
- 📌 জুন ২০২৫-এ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইরান আইএএইচএ-এর নিরীক্ষকদের নিষিদ্ধ অঞ্চলে প্রবেশ দিয়েছে না, যা ন্যুক্লিয়ার নন-প্রোলিফারেশন চুক্তির লঙ্ঘন।
📰 বিস্তারিত
আইএএইচএ-এর বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনে ইরানের ন্যুক্লিয়ার প্রধান মোহাম্মদ এসলামির অংশগ্রহণ বাতিলের পিছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অস্ট্রিয়া সরকারের সিদ্ধান্তের পিছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ছিল বলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাগহাই বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ন্যুক্লিয়ার কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বাধা দিচ্ছে, যা ইরানের আন্তর্জাতিক অধিকার লঙ্ঘন।
ইরানের আইএএইচএ-এর দূত রেজা নাজাফি বলেছেন, অস্ট্রিয়ার সিদ্ধান্ত ইরানের সদস্যপদ ও আইএএইচএ-এর বৈধ অধিকার লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেছেন, “আমাদের পূর্ণ ও কার্যকর অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করা আইনগত কাঠামোর বাক্য ও আত্মার উভয়ই লঙ্ঘন করেছে। অস্ট্রিয়ার সিদ্ধান্ত ইরানের সদস্যপদে থাকা দেশের অধিকার লঙ্ঘন করেছে।”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূত প্রেস্টন ওয়েলস গ্রিফিথ তর্ক করেছেন যে, ইরান আইএএইচএ-এর বৈঠকে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দিতে ব্যবহার করবে। তিনি বলেছেন, “এসলামির অংশগ্রহণ শুধু ইরানের ন্যুক্লিয়ার প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করার জন্য আইএএইচএ-এর নিরীক্ষণ ক্ষমতা হ্রাস করবে, যা সংস্থার নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”
২০১৫ সালে জোট সম্মেলন চুক্তি (জিসিপিওএ) বাতিলের পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে সরে আসেন। এরপর ইউরোপীয় দেশসমূহ স্ন্যাপব্যাক স্যানকশন পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করে। এই স্যানকশনগুলোতে ইরানের ন্যুক্লিয়ার ও মিসাইল কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বাধা দেওয়া, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, নিষিদ্ধ প্রযুক্তি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং কনভেনশনাল অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরান ও রাশিয়া এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সংস্থার রাজনৈতিকায়ন বলে অভিযোগ করেছে। ইরানের আইএএইচএ-এর দূত বলেছেন, “এই বাতিলকরণ ও এর জন্য দেওয়া ‘আইনি’ যুক্তি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক পদক্ষেপ এবং এই সংস্থার রাজনৈতিকায়নের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।”
"বাধা দেওয়া আমাদের পূর্ণ ও কার্যকর অংশগ্রহণকে লঙ্ঘন করেছে, যা আইনগত কাঠামোর বাক্য ও আত্মার উভয়ই লঙ্ঘন করেছে। অস্ট্রিয়ার সিদ্ধান্ত ইরানের সদস্যপদে থাকা দেশের অধিকার লঙ্ঘন করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভিয়েনা (অস্ট্রিয়া), আইএএইচএ-এর সদর দফতর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ এসলামি (ইরানের ন্যুক্লিয়ার প্রধান), রেজা নাজাফি (ইরানের আইএএইচএ-এর দূত), প্রেস্টন ওয়েলস গ্রিফিথ (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূত)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ দিন (জুন ২০২৫-এ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!