📌 জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৬৪-১ ভোটে আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা নতুন মানচিত্রের প্রচারের পক্ষে প্রস্তাব পাস হয়। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র বিপক্ষে ভোট দেয়। টোগোর নেতৃত্বে আফ্রিকার দেশগুলো মারকেটর মানচিত্রের পরিবর্তে 'ইকুয়াল আর্থ' মানচিত্রের প্রচার চায়
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা নতুন মানচিত্রের প্রচারের পক্ষে ১৬৪-১ ভোটে প্রস্তাব পাস হয়। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ভোটে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই বিপক্ষে ভোট দেয়। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছে টোগো। আফ্রিকার দেশগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহৃত মারকেটর মানচিত্রের পরিবর্তে 'ইকুয়াল আর্থ' মানচিত্রের প্রচার চায়, যা প্রকৃত ভূখণ্ডের আয়তন সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৬৪-১ ভোটে আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন দেখাতে নতুন মানচিত্রের প্রচারের পক্ষে প্রস্তাব পাস হয়।
- 📌 একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।
- 📌 টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসেই বলেন, 'একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে ন্যায্য বিশ্ব শুরু হয়'।
- 📌 মারকেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার সমান দেখানো হয়, কিন্তু বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের ১৪ গুণ বড়।
- 📌 টোগো এ বছরের শেষ নাগাদ স্কুলের ভূগোল বইয়ে নতুন মানচিত্র চালু করবে।
📰 বিস্তারিত
আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা নতুন মানচিত্রের প্রচারের পক্ষে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোট হয়। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ভোটে ১৬৪টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই বিপক্ষে ভোট দেয়। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। প্রস্তাবটি আফ্রিকার দেশগুলোর উদ্যোগে উত্থাপিত হয়, যার নেতৃত্ব দেয় টোগো। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ষোড়শ শতকে তৈরি ও বহুল ব্যবহৃত মারকেটর মানচিত্রের পরিবর্তে 'ইকুয়াল আর্থ' মানচিত্রের প্রচার করা উচিত।
মারকেটর মানচিত্রে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি থাকা ভূখণ্ডগুলো বাস্তবের তুলনায় বড় দেখায়। উদাহরণস্বরূপ, গ্রিনল্যান্ডকে প্রায় আফ্রিকার সমান আয়তনের মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়। এই আয়তনগত বিকৃতি আফ্রিকাকে বিশ্বের প্রান্তিক অঞ্চল হিসেবে দেখার ধারণাকে আরও জোরদার করেছে বলে মনে করে আফ্রিকার দেশগুলো।
টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসেই বলেন, 'একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে ন্যায্য বিশ্ব শুরু হয়'। তিনি বলেন, স্কুলের বইয়ে মানচিত্র বদলানো প্রথম দেশ হবে টোগো। এ বছরের শেষ নাগাদ টোগোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন মানচিত্র চালু করা হবে। দুসেই আরও জানান, টোগো অন্যান্য সরকার, স্কুল, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে মারকেটর মানচিত্রের পরিবর্তে 'ইকুয়াল আর্থ' মানচিত্র ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করবে।
"এই কাজে মারকেটর মানচিত্র এখনো পুরোপুরি উপযোগী। প্রস্তাব কোনো বাধা সৃষ্টি করছে না।"
যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই উদ্যোগ একটি 'আদর্শিক এজেন্ডা' এগিয়ে নিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও সমৃদ্ধির মতো প্রকৃত সমস্যাগুলো থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে। টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুসেই বলেন, মানচিত্র পরিবর্তনের উদ্যোগটি ঔপনিবেশিক আমলের উত্তরাধিকার মোকাবিলায় আফ্রিকার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। তবে তিনি বলেন, এটি ইউরোপ বা অন্য কোনো সভ্যতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, টোগো, আফ্রিকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রবার্ট দুসেই (টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬৪ (পক্ষে ভোট), ১ (বিপক্ষে ভোট), ১৪ (গুণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!