📌 প্রেতোরিয়া চুক্তি স্বাক্ষর করার চার বছর পর ইথিওপিয়ার তিগ্রায়ে তিগ্রায়ান লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে পুনর্গঠিত হয়েছে। চুক্তির শর্তাবলী অমান্য করে পুনরায় সশস্ত্রকরণ ও রাজনৈতিক সংঘাতের লক্ষণ দেখা দিয়েছে
ইথিওপিয়ার তিগ্রায় অঞ্চলে প্রেতোরিয়া শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করার চার বছর পরও পুরাতন দ্বন্দ্বের জ্বালা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পরিবর্তে নতুন রূপ নিচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে তিগ্রায়ান লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে পুনর্গঠিত হয়েছে এবং চুক্তির মূল শর্তাবলী অমান্য করে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রেতোরিয়া চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে তিগ্রায়ে টিপিএলএফ সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে পুনর্গঠিত হয়েছে এবং চুক্তির মূল শর্তাবলী অমান্য করে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
- 📌 চুক্তির ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী সশস্ত্রকরণ নিষিদ্ধ থাকলেও ২০২৬ সালে তিগ্রায়ে পুনরায় সশস্ত্রকরণ ও বাধ্যতামূলক সৈনিক সংগ্রহের খবর পাওয়া গেছে।
- 📌 তিগ্রায়ের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২০২৫ সালে গেটাচিউ রেডা পদত্যাগের পর লেঃ জেনারেল তাদেসে ওয়েরেডে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রধান হন।
- 📌 মে ২০২৬ সালে তিগ্রায়ের অঞ্চলীয় পরিষদ পুনরায় গঠিত হয় এবং ডেব্রেসিয়ন গেব্রেমিকিয়েলকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়, যা টিপিএলএফ-এর একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অবস্থানকে মজবুত করেছে।
- 📌 তিগ্রায়ান জনগণের মধ্যে শান্তির আকাঙ্ক্ষা থাকলেও পুনরায় সশস্ত্রকরণের খবর তাদেরকে দ্বিতীয় যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার ভয় দেখায়।
📰 বিস্তারিত
২০২২ সালের নভেম্বর মাসে ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ও তিগ্রায়ান লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) প্রেতোরিয়া চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই বছরের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের অবসান ঘটানো হয়েছিল। চুক্তির শর্তাবলীতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, টিপিএলএফ-এর সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্রহীনকরণ, পুনর্বাসন ও রাজনৈতিক আলোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে চুক্তির ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী টিপিএলএফকে সশস্ত্রকরণ, প্রশিক্ষণ, বাহিনী প্রেরণ ও নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার চার বছর পর, ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, টিপিএলএফ সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে পুনর্গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরিত্রিয়ান সরকারের সাথে টিপিএলএফ-এর যোগাযোগ, ডুবাই ও জালাম্বেসা শহরে অনুষ্ঠিত বলে জানা গেছে। এছাড়াও, তিগ্রায়ে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন সংঘাত দেখা দিয়েছে।
২০২৬ সালে তিগ্রায়ে পুনরায় সশস্ত্রকরণ ও বাধ্যতামূলক সৈনিক সংগ্রহের খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনাগুলো চুক্তির ৬ নম্বর ধারার অস্ত্রহীনকরণ, পুনর্বাসন ও পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ার অসম্পূর্ণতা এবং ৭ নম্বর ধারার সশস্ত্রকরণ নিষেধাজ্ঞাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে।
তিগ্রায়ান জনগণের মধ্যে শান্তির আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। একটি গোপন সূত্রের সাথে আল জাজেরার কথায়, “তিগ্রায়ের লোকেরা শান্তি চায়; আমরা দ্বিতীয় যুদ্ধ চাই না।” তবে পুনরায় সশস্ত্রকরণের খবর তাদেরকে দ্বিতীয় যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার ভয় দেখায়।
২০২৪ সাল থেকে টিপিএলএফ-এর মধ্যে যুদ্ধোত্তর সময়ে রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ সংঘাত শুরু হয়। এই অভ্যন্তরীণ সংঘাতের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক ম্যানুভারিং ও টিপিএলএফ-এর ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা হয়। এই সংঘাত তিগ্রায়ের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পৌঁছায়। গেটাচিউ রেডা ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রধান পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং লেঃ জেনারেল তাদেসে ওয়েরেডে তার স্থলাভিষিক্ত হন।
২০২৬ সালের মে মাসে তিগ্রায়ের অঞ্চলীয় পরিষদ পুনরায় গঠিত হয় এবং ডেব্রেসিয়ন গেব্রেমিকিয়েলকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়। এই পদে তার নির্বাচন টিপিএলএফ-এর একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অবস্থানকে মজবুত করেছে।
"তিগ্রায়ের লোকেরা শান্তি চায়; আমরা দ্বিতীয় যুদ্ধ চাই না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তিগ্রায়, ইথিওপিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডেব্রেসিয়ন গেব্রেমিকিয়েল, গেটাচিউ রেডা, লেঃ জেনারেল তাদেসে ওয়েরেডে, তিগ্রায়ান লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২২ (চুক্তি স্বাক্ষর), ২০২৬ (পুনরায় সশস্ত্রকরণের খবর), ৭ (চুক্তির ধারা), ২০২৫ (গেটাচিউ রেডার পদত্যাগ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!