📌 জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ১৬৪টি দেশের সমর্থনে মার্কেটর মানচিত্র প্রজেকশন বাদ দিয়ে নতুন ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। এই পরিবর্তনের লক্ষ্য আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রকৃত আকার ফুটিয়ে তোলা, যেখানে আফ্রিকা মহাদেশের আসল আকার গ্রিনল্যান্ডের ১৪ গুণ বড়। যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ বিপক্ষে ভোট দেয়
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। ১৬৪টি দেশের সমর্থনে ১৬ শতকের পুরাতন ‘মারকেটর’ মানচিত্র প্রজেকশন বাদ দিয়ে নতুন ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলের প্রকৃত আকার সঠিকভাবে প্রতিফলিত করা, বিশেষ করে আফ্রিকা মহাদেশের আসল আকার ফুটিয়ে তোলা, যা আগের মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডের সমান দেখানো হতো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৬৪টি দেশের সমর্থনে মার্কেটর মানচিত্র প্রজেকশন বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়
- 📌 আফ্রিকা মহাদেশের প্রকৃত আকার গ্রিনল্যান্ডের ১৪ গুণ বড়, কিন্তু মার্কেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার সমান দেখানো হতো
- 📌 মার্কেটর প্রজেকশন ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাকে বড় দেখিয়ে মানসিক আধিপত্য বজায় রাখতো
- 📌 নতুন মানচিত্রে ইউরোপকে ছোট, ব্রাজিলকে প্রসারিত ও আফ্রিকাকে বড় দেখানো হবে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ বিপক্ষে ভোট দেয়, ৬টি দেশ ভোট দেয় না
- 📌 আফ্রিকান ইউনিয়ন ও টোগোর নেতৃত্বে এই প্রচারণা শুরু হয়, যা ইতিহাসে প্রথম আফ্রিকার প্রকৃত গুরুত্ব তুলে ধরবে
📰 বিস্তারিত
১৫৬৯ সালে ইউরোপীয় মানচিত্রকার জেরার্ডাস মারকেটর তৈরি করা ‘মারকেটর প্রজেকশন’ মানচিত্র বিশ্বব্যাপী বহুল ব্যবহৃত হলেও এটি দেশগুলোর প্রকৃত আয়তন ফুটিয়ে তোলতে ব্যর্থ। এই প্রজেকশনে বিষুবরেখা থেকে দূরের দেশগুলোকে আকারে বড় দেখানো হতো, ফলে আফ্রিকা মহাদেশের প্রকৃত আকার বোঝা যায়নি। আফ্রিকা মহাদেশের প্রকৃত আকার গ্রিনল্যান্ডের ১৪ গুণ বড়, কিন্তু মার্কেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার সমান বড় দেখানো হতো। এই মানচিত্রের বিকৃতি শুধু ভূগোলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আফ্রিকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও অবকাঠামোগত প্রয়োজনকে ছোট করে দেখার মানসিকতা তৈরি করেছে।
আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রচেষ্টায় এই পরিবর্তন আসে। টোগো এই প্রচারণার নেতৃত্ব দেয়। ২০১৮ সালে আফ্রিকান ইউনিয়ন ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’ মানচিত্র গ্রহণ করে, যা ইউরোপকে ছোট, ব্রাজিলকে প্রসারিত ও আফ্রিকাকে বড় দেখায়। এই মানচিত্রে আফ্রিকার প্রকৃত গুরুত্ব ও আকার বিশ্বজুড়ে তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে। জাতিসংঘের নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তন ঐতিহাসিক অন্যায্যতার বিচার ও স্মারক ক্ষতিপূরণের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।
২০১৮ সালের উত্তর আমেরিকান কার্টোগ্রাফিক ইনফরমেশন সোসাইটি সম্মেলনে ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’ প্রথম তুলে ধরা হয়। এই মানচিত্রের বিভিন্ন সংস্করণ রয়েছে, যার একটিতে ওশেনিয়া অঞ্চলকে কেন্দ্রে রেখে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্নের একটি পর্যটন বিজ্ঞাপনে এই সমস্যার উল্লেখ ছিল, যেখানে বলা হয়েছিল, মানচিত্রের এক কোনায় অবস্থান হওয়ায় নিউজিল্যান্ড বিশ্বের মানচিত্র থেকে গায়েব হয়ে যাচ্ছে।
"যে আফ্রিকাকে এত দিন মানচিত্রে ছোট করে দেখানো হতো, তা এখন ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক, নৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সব দিক থেকেই নিজের প্রকৃত গুরুত্ব ও আকার বিশ্বজুড়ে তুলে ধরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ"
— আফ্রিকার স্বাস্থ্য, মানবিক বিষয় ও সামাজিক উন্নয়ন বিভাগের কমিশনার আম্মা টুম-আমোআহ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, নিউ ইয়র্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আম্মা টুম-আমোআহ (আফ্রিকার কমিশনার), জেসিন্ডা আর্ডার্ন (নিউজিল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬৪টি দেশ সমর্থন, ৬টি দেশ ভোট দেয় না, যুক্তরাষ্ট্র বিপক্ষে ভোট, আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের ১৪ গুণ বড়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!