📌 জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশের ৪৮ জনের পাচার করা হয়েছে। বেসামরিক চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করা হয়েছে। ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে অনেকের মৃত্যু বা নিখোঁজ হয়েছে
জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশের ৪৮ জনের পাচার ও সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার ঘটনা উন্মোচন করেছে। বেসামরিক চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে আসা এই ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং তাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে অনেকের মৃত্যু, আহত, বন্দী বা নিখোঁজ হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৯টি দেশের ৪৮ জনের পাচার**: রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশের নাগরিকদের পাচার করা হয়েছে বলে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন জানিয়েছে। তালিকায় রয়েছে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ফিলিপাইন, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া ও উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ।
- 📌 **বেসামরিক চাকরির প্রতারণা**: বেসামরিক চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে আসা ব্যক্তিদেরকে সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছে।
- 📌 **যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো**: রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের পর ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। অনেকের মৃত্যু, আহত, বন্দী বা নিখোঁজ হয়েছে।
- 📌 **বয়স ও অর্থনৈতিক অবস্থা**: প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা সবাই পুরুষ, বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছর। অধিকাংশ অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল এবং শিক্ষার সুযোগ সীমিত।
- 📌 **বাংলাদেশের ঘটনা**: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যবসায়িক ভিসা দিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে আসা হয়েছে। রাশিয়ার একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠান তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু তাদেরকে সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশের নাগরিকদের পাচার ও সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার ঘটনা উন্মোচন করেছে। কমিশনের তদন্তে দেখা গেছে, বিভিন্ন দেশের সক্রিয় নিয়োগকারী এজেন্ট ও সংস্থাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে রাশিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিত। নিরাপত্তাকর্মী, গাড়িচালক, নির্মাণশ্রমিক, মেকানিক, ইলেকট্রিশিয়ান, কারখানার শ্রমিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশায় চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হতো।
কমিশনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর অনেক বিদেশি নাগরিককে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। চুক্তিটি শুধু রুশ ভাষায় লেখা থাকায় অনেকেই এর শর্ত বুঝতে পারেননি। কারও কারও পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করা হয়। পরে তারা জানতে পারেন, প্রতিশ্রুত বেসামরিক চাকরির পরিবর্তে তাদের রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশের এক ভুক্তভোগীর স্ত্রী জানান, তাঁর স্বামীর পাসপোর্ট নিয়ে তাঁকে চুক্তির বিভিন্ন জায়গায় স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল। চুক্তিটি ছিল শুধু রুশ ভাষায়। ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর স্বামী প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছিলেন এবং তাঁর সামনে কার্যত কোনো বিকল্প ছিল না।
"তাঁর পাসপোর্ট নিয়ে তাঁকে চুক্তির বিভিন্ন জায়গায় স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল। চুক্তিটি ছিল শুধু রুশ ভাষায়। ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর স্বামী প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছিলেন এবং তাঁর সামনে কার্যত কোনো বিকল্প ছিল না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাশিয়া, ইউক্রেন, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ফিলিপাইন, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, উজবেকিস্তান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন, বাংলাদেশি ভুক্তভোগী, রাশিয়ার নিয়োগকারী এজেন্ট
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯টি দেশ, ৪৮ জন নাগরিক, ১৮-৬০ বছর বয়স, ৮১তম অধিবেশন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!