📌 সুদানের যুদ্ধের কারণে ৮০ শতাংশ স্কুল বন্ধ রয়েছে, যার ফলে ৮০ লাখ শিশু শিক্ষা হারাচ্ছে। শিশুদের মধ্যে কোরান শিক্ষা ছাড়া আর কোনো শিক্ষা সুযোগ নেই। বাস্তুচ্যুতি ও যুদ্ধের কারণে শিশুদের মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি হচ্ছে
সুদানের চলমান যুদ্ধের কারণে দেশের ৮০ শতাংশ স্কুল বন্ধ রয়েছে, যার ফলে ১৭ মিলিয়ন শিক্ষাগ্রহণযোগ্য বয়সের শিশুদের মধ্যে ৮০ লাখেরও বেশি শিক্ষা হারাচ্ছে। এছাড়াও, যুদ্ধের কারণে স্কুলে যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষা থেকে দূরে সরে গেছে। এসব শিশুদের মধ্যে অনেকেই বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং তাদের শিক্ষা জীবন সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৯ বছর বয়সী আবকার মোহাম্মদ** দৈনিক পোড়াশুঁড়ি পরিষ্কার করে ১০,০০০ সুদানি পাউন্ড (১.০৮ ডলার) আয় করে, যা পরিবারের দৈনন্দিন খরচে ব্যবহার হয়।
- 📌 **৮০ শতাংশ স্কুল বন্ধ** রয়েছে সুদানের দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল ডারফুরে, যেখানে ৭০ শতাংশ শিশু স্কুলে যাচ্ছে না।
- 📌 **৪৮৪ দিনেরও বেশি** শিক্ষা হারিয়েছে শিশুদের, কারণ যুদ্ধের কারণে স্কুল বন্ধ রয়েছে, লড়াই চলছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- 📌 **৩৩০,০০০টি** স্কুল বই ও শিক্ষা সামগ্রী ধ্বংস হয়েছে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ উত্তর কর্ডোফান অঞ্চলে ড্রোন আক্রমণে।
- 📌 **সুলাইমা ইশাগ** (সুদানের মহিলা ও শিশু বিষয়ক সরকারি পরামর্শক পরিষদের প্রধান) বলেছেন, যুদ্ধের কারণে শিশুদের মধ্যে স্কুল ছেড়ে দেওয়া, শিশু বিবাহ, যৌন সহিংসতা এবং শিশু শ্রমের মতো সমস্যা বেড়েছে।
- 📌 **ইভা হিন্ডস** (ইউনিসেফের সুদান প্রতিনিধি) বলেছেন, যুদ্ধের কারণে দেশের অর্ধেক স্কুল বন্ধ রয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত শিশুদের শিক্ষা জীবন আরও বেশি বিঘ্নিত হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সুদানের রাজধানী খার্তুম থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে পোড়াশুঁড়ি পরিষ্কার করে জীবিকা নির্বাহ করছেন ৯ বছর বয়সী আবকার মোহাম্মদ। তিনি তার মা এবং তিন ভাইবোনের সাথে পোর্ট সুদানে এসেছেন। তার বাবা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই মারা গিয়েছিলেন। পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তিনি স্কুলে যেতে পারেন না, কিন্তু তিনি একটি "খালওয়া" নামক ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা কেন্দ্রে কোরান শিক্ষা লাভ করেন। তিনি বলেছেন, “আমার পাঠ শেষ হলে আমি পোড়াশুঁড়ি পরিষ্কার করার সরঞ্জাম নিয়ে ব্যস্ত এলাকায় যাই। সন্ধ্যায় আমি পরিবারের জন্য বাড়ি ফিরে আসি, যাতে আমি সূর্যাস্তের আগেই পৌঁছাতে পারি।” তিনি দৈনিক ১০,০০০ সুদানি পাউন্ড (১.০৮ ডলার) আয় করেন, যা পরিবারের দৈনন্দিন খরচে ব্যবহার হয়। তার ২৩ বছর বয়সী ভাই বাজারে কাজ করে পরিবারের বেশিরভাগ খরচ বহন করেন।
সুদানের যুদ্ধের কারণে ৮০ শতাংশ স্কুল বন্ধ রয়েছে, যার ফলে ৮০ লাখেরও বেশি শিশু শিক্ষা হারাচ্ছে। বিশেষত ডারফুর অঞ্চলে ৮০ শতাংশ স্কুল বন্ধ রয়েছে এবং ৭০ শতাংশ শিশু শিক্ষা থেকে দূরে সরে গেছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে শিশুদের শিক্ষা জীবনে প্রায় ৪৮৪ দিনেরও বেশি সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সুদানের র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) এবং সুদান সেনাবাহিনী (এসএএফ) এর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। আরএসএফের দাবি, তারা স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়কে লক্ষ্য করে ড্রোন আক্রমণ চালাচ্ছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ উত্তর কর্ডোফান অঞ্চলে দুটি গুদামে ড্রোন আক্রমণে ৩৩০,০০০টি স্কুল বই ও শিক্ষা সামগ্রী ধ্বংস হয়েছে।
সুদানের মহিলা ও শিশু বিষয়ক সরকারি পরামর্শক পরিষদের প্রধান সুলাইমা ইশাগ বলেছেন, যুদ্ধের কারণে শিশুদের মধ্যে স্কুল ছেড়ে দেওয়া, শিশু বিবাহ, যৌন সহিংসতা এবং শিশু শ্রমের মতো সমস্যা বেড়েছে। তিনি বলেছেন, “যুদ্ধের কারণে শিশুদের মধ্যে স্কুল ছেড়ে দেওয়া, শিশু বিবাহ, যৌন সহিংসতা এবং শিশু শ্রমের মতো সমস্যা বেড়েছে। বিশেষত, গার্লসদের জন্য এই সমস্যা আরও বেশি। তারা স্কুলে ফিরে আসার সুযোগ হারাচ্ছে।”
ইভা হিন্ডস, ইউনিসেফের সুদান প্রতিনিধি, বলেছেন, যুদ্ধের কারণে দেশের অর্ধেক স্কুল বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেছেন, “বাস্তুচ্যুত শিশুদের শিক্ষা জীবন আরও বেশি বিঘ্নিত হয়েছে। তারা বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়ায় তাদের শিক্ষা জীবন বিঘ্নিত হয়েছে এবং তারা শিক্ষা সামগ্রী বা একটি নিরাপদ জায়গা পায় না।” তিনি আরও বলেছেন, শিশুদের শিক্ষা জীবন থেকে দূরে থাকলে তারা শিশু শ্রম, সশস্ত্র দলের দ্বারা নিয়োগ এবং অন্যান্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে পারে।
"আমার পাঠ শেষ হলে আমি পোড়াশুঁড়ি পরিষ্কার করার সরঞ্জাম নিয়ে ব্যস্ত এলাকায় যাই। সন্ধ্যায় আমি পরিবারের জন্য বাড়ি ফিরে আসি, যাতে আমি সূর্যাস্তের আগেই পৌঁছাতে পারি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পোর্ট সুদান, ডারফুর, উত্তর কর্ডোফান, সুদান
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: আবকার মোহাম্মদ, সুলাইমা ইশাগ, ইভা হিন্ডস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ লাখ শিশু, ৮০ শতাংশ স্কুল বন্ধ, ৭০ শতাংশ শিশু শিক্ষা থেকে দূরে, ৪৮৪ দিন শিক্ষা হারানো, ৩৩০,০০০টি স্কুল বই ধ্বংস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!