📌 সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির সাথে জড়িত পশ্চিমবঙ্গের বন্দী শ্রমিক শেখ সাহাবুদ্দিনের পরিবার উদ্বিগ্ন। সাহাবুদ্দিনের মা কোহিনুর বিবি দাবি করেন, তার সন্তান কোনো অপরাধ করেননি, শুধু ভুলবশত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। পরিবার আশা করছে ভারতের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে সাহাবুদ্দিনকে মুক্তি পাবে
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির সাথে জড়িত পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বলরামপুর গ্রামের বন্দী শ্রমিক শেখ সাহাবুদ্দিনের পরিবার গভীর উদ্বেগে ভুগছে। পবিত্র মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজের ভিডিও শেয়ার করার অভিযোগে সাহাবুদ্দিনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা তার পরিবারকে আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপদে ফেলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সৌদি মৃত্যুদণ্ডের ভয়াবহতা: মক্কার মসজিদে অনৈতিক কাজের ভিডিও শেয়ার করার অভিযোগে সৌদি আরবের আদালত দুই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।
- 📌 বন্দী শ্রমিকের পরিবার উদ্বিগ্ন: পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ সাহাবুদ্দিনের পরিবার দিশাহারা — তার মা কোহিনুর বিবি দাবি করেন, সন্তান কোনো অপরাধ করেননি, শুধু ভুলবশত ভিডিও শেয়ার করেছিলেন।
- 📌 সাহাবুদ্দিনের দোষ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট: ২০২৩ সালে মসজিদে অনৈতিক কাজের ভিডিও ধারণ করে সাহাবুদ্দিন তা শেয়ার করেছিলেন, যা সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে 'পবিত্র স্থানের অপমান' হিসেবে বিবেচিত হয়।
- 📌 পরিবারের আর্থিক ও মানসিক চাপ: সাহাবুদ্দিন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য — তার কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা পরিবারকে দিনদিন উদ্বিগ্ন করে তুলছে।
- 📌 কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের আশা: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে, কিন্তু স্পষ্ট আইনি সুরাহা না পাওয়ায় পরিবার অসহায়।
📰 বিস্তারিত
সৌদি আরবে বন্দী অবস্থায় থাকা পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ সাহাবুদ্দিনের পরিবার গভীর উদ্বেগে ভুগছে। সাহাবুদ্দিনের মা কোহিনুর বিবি বলেছেন, তার সন্তান কোনো বড় অপরাধ করেননি। শুধু ভুলবশত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজের ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে এই ভিডিও 'পবিত্র স্থানের অপমান' হিসেবে বিবেচিত হয়, ফলে সাহাবুদ্দিনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালে মক্কার একটি মসজিদে পরিছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত সাহাবুদ্দিন, দুজন বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আব্দুল বসির ও সুইটি আক্তারকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত দেখে তাদের ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে তিনি তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে এই ঘটনা 'তাজির' আইনের অধীনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, ফলে সাহাবুদ্দিনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয় এবং কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অক্টোবর মাসে দুই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘোষণা দিলে সাহাবুদ্দিনের পরিবার আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য সাহাবুদ্দিনের কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা পরিবারকে আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপদে ফেলেছে। স্থানীয় প্রবীণ আবু তালেব বলেছেন, 'সাহাবুদ্দিন ছোট থেকেই শান্ত ও ধীরস্থির ছিলেন। কোনো ঝামেলায় জড়াননি, কিন্তু পেটের টানে বিদেশে গিয়ে বিনা দোষে বিপদে পড়েছেন।'
সাহাবুদ্দিনকে মুক্ত করে ভারতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে স্পষ্ট আইনি সুরাহা না পাওয়ায় পরিবার অসহায়। ভারতের প্রবাসী শ্রমিকদের সহায়তায় বিভিন্ন সংগঠন ও সমাজকর্মীরা সাহাবুদ্দিনের মুক্তির জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে।
"তাঁর রোজগারের ওপরেই নির্ভর করে পুরো পরিবার। কিন্তু তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা সবাই খুব চিন্তিত।"
— বলরামপুর গ্রামের প্রবীণ আবু তালেব
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বলরামপুর গ্রাম, সৌদি আরবের মক্কা নগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ সাহাবুদ্দিন, কোহিনুর বিবি, নজরুল ইসলাম আব্দুল বসির, সুইটি আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৩ (সাহাবুদ্দিনের গ্রেপ্তার), অক্টোবর ২০২৬ (মৃত্যুদণ্ড কার্যকর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!