📌 যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর চীনা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন-নীতিতে আরও কঠোরতা আসতে পারে। তাইওয়ান ও চিপ রপ্তানির নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপের সম্ভাবনা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয় চীনের জন্য আপাতদৃষ্টিতে সুখবর মনে হলেও, বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন-নীতিতে আরও কঠোরতা আসতে পারে। বিশেষ করে তাইওয়ান ও চিপ রপ্তানির নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপের সম্ভাবনা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর ট্রাম্পের চীন-নীতিতে কঠোরতা বাড়ার আশঙ্কা চীনা বিশ্লেষকদের
- 📌 ট্রাম্পের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়েছে, যা তার নির্বাচনী পরাজয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন
- 📌 ১৮ ও ১৯ নভেম্বর শেনজেনে এপেক সম্মেলনে যোগ দেবেন ট্রাম্প, সেখানে সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে
- 📌 চীনা বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলই চীনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে একমত, তবে কীভাবে তা করা যায় সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে
- 📌 ডেমোক্র্যাটরা মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করতে পারে, কিন্তু কংগ্রেস তাইওয়ান ও চিপ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর বিল পাস করতে পারে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয় চীনের জন্য আপাতদৃষ্টিতে সুখবর মনে হলেও, চীনা বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন-নীতিতে আরও কঠোরতা আসতে পারে। বিশেষ করে তাইওয়ান ও চিপ রপ্তানির নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপের সম্ভাবনা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
৩ নভেম্বর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর, ট্রাম্পের চীন-নীতিতে কঠোরতা বাড়ার আশঙ্কা চীনা বিশ্লেষকদের। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই পরাজয়ের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। ওই যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়েছে। পরে ভ্যান্সের এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হন ট্রাম্পও।
চীনা বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলই চীনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে একমত, তবে কীভাবে তা করা যায় সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। চীনকে মোকাবিলা করার বিষয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। চীনের বিরুদ্ধে প্রযুক্তি রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগে বিধিনিষেধ ইতিমধ্যে আইনে পরিণত হয়েছে। এসব বহাল থাকবে, এমনকি আরও কঠোর হতে পারে। বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে কে বেশি কঠোর, তা প্রমাণ করতে দুই দলই প্রতিযোগিতায় নামতে পারে।
চীনের শানডং প্রদেশের লেখক ওয়েইচাং বলেছেন, ‘ট্রাম্প বড় পরাজয়ের মুখে পড়েছেন এবং তাঁর ক্ষমতা কমে এসেছে—এমন খবর দেখে চীনের অনেকেই উল্লাস করেছেন। তাঁদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছে এবং চীনের ওপর চাপ কমেছে। এই ধারণা শুনতে স্বস্তিদায়ক হলেও বিষয়টি অনেক বেশি জটিল।’
১৮ ও ১৯ নভেম্বর শেনজেনে এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (এপেক) সম্মেলনে যোগ দেবেন ট্রাম্প। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকও হতে পারে। গত সেপ্টেম্বরে ক্রেমলিন জানিয়েছিল, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে তিন নেতার একটি বৈঠকের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পুতিনও ওই সম্মেলনে যোগ দেবেন।
"চীনকে কীভাবে আটকে রাখা যায়, তা নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বিরোধ আছে; কিন্তু চীনকে আটকে রাখা উচিত কি না, সে বিষয়ে তাঁদের কোনো মতপার্থক্য নেই। স্বল্প মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সমস্যা নিয়েই ব্যস্ত থাকবে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে চীনকে নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা আরও পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত হতে পারে।"
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করে আবার এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মনোযোগ দিতে পারেন। একই সঙ্গে তাইওয়ানের কাছে আরও বেশি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিতে পারেন। ডেমোক্র্যাটরা মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করতে পারে, কিন্তু কংগ্রেস তাইওয়ান, শিনজিয়াং এবং চিপ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একের পর এক বিল উত্থাপন করতে পারে। এতে ট্রাম্পকেও কোনো না কোনো অবস্থান নিতে বাধ্য হতে হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (মধ্যবর্তী নির্বাচন), শেনজেন (এপেক সম্মেলন), বেইজিং (চীনা বিশ্লেষকদের বক্তব্য)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স, সি চিন পিং, ভ্লাদিমির পুতিন, ওয়েইচাং (লেখক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ নভেম্বর (নির্বাচন), ১৮ ও ১৯ নভেম্বর (এপেক সম্মেলন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!