📌 সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ১-০ জয়ে নায়ক ভূমিকা পালন করেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। চার বছর ধরে জাতীয় দলের গোলহীনতা এবং বাদ পড়ার কষ্টের মধ্য দিয়ে গোল করার মুহূর্তে তিনি কান্না চেপে রাখতে পারেননি। ইব্রাহিম বলেছেন, ‘গোল দিয়ে প্রমাণ করেছি আমি শেষ হয়ে যাইনি’
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ১-০ জয়ে মোহাম্মদ ইব্রাহিমের গোলটি ছিল ক্যারিয়ারের একটি মাইলফলক। ৬৫তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র চার মিনিট পরই তিনি দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেন। চার বছর ধরে জাতীয় দলের জার্সিতে গোল না করার কষ্ট, বারবার দল থেকে বাদ পড়ার অপমান এবং মানসিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এই গোলটি তার জীবনে নতুন মোড় আনে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র গোল করেন, যা দলকে ১-০ জয় এনে দেয়।
- 📌 গোলটি করেন মাত্র ৪ মিনিট বদলি হিসেবে মাঠে নামার পর, যা তার ক্যারিয়ারে একটি নতুন মোড় খুলে দেয়।
- 📌 চার বছর ধরে জাতীয় দলের গোলহীনতা এবং সানমারিনো সফর ও আসিয়ান কাপের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার কষ্টের কথা উল্লেখ করে ইব্রাহিম বলেন, ‘আমাকে খেলতেই হবে, গোল করে প্রমাণ করতে হবে আমি শেষ হয়ে যাইনি’।
- 📌 কোচ তাকে নম্বর ১০ পজিশনে খেলতে বলেন এবং বলেন, ‘ডি-বক্সের আশপাশে বল পেলে শট নিতে’।
- 📌 ইব্রাহিমের মতে, ফর্টিস এফসিতে যোগদানের পর থেকে তার লক্ষ্য ছিল সাফের স্কোয়াডে থাকা এবং গোল করা।
- 📌 তিনি বলেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে যদি ফারহান আলী ওয়াহিদ ও হামজা চৌধুরী দলে যোগ দেন।
📰 বিস্তারিত
মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র গোল করার পর তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আজকের আজকের পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘গোল করার পর অবশ্যই খুব ভালো লাগছে। চার বছর আগে জাতীয় দলে শেষ গোল করেছিলাম, কিন্তু ওই ম্যাচের পর আর সেভাবে খেলার সুযোগ পাইনি। এই গোলটি এবং জয়টি আমার জন্য অত্যন্ত বিশেষ’।
ইব্রাহিমের জাতীয় দলের জার্সিতে গোল না করার কষ্ট এবং বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সময়টা খুব কঠিন ছিল। ক্লাব পরিবর্তন করতে হয়েছে, অনেক ক্লাব ঘুরে ভালো খেলার চেষ্টা করেছি, কিন্তু জাতীয় দলের জন্য চেষ্টা করলেও সানমারিনো সফর ও আসিয়ান কাপের স্কোয়াডে থেকেও বাদ পড়েছি। এসবের মধ্যে বাদ পড়ার পরও আমি একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। মানসিকভাবে এই সময়টা খুব কষ্টের ছিল। মানুষ নানা কথা বলত, অপমানজনক কথাবার্তা শুনতাম—কথা উঠত আমার ক্যারিয়ার নাকি শেষ!’
গোল করার মুহূর্তে তিনি বলেন, ‘মাঠে নামার সময় এসব কথাই মাথায় ঘুরছিল। তবে আমার ভেতরে একটা জেদ ছিল যে, আমাকে খেলতেই হবে, আরও ভালো খেলতে হবে এবং গোল করে প্রমাণ দিতে হবে আমি শেষ হয়ে যাইনি। সেই আবেগ আর কষ্টের জায়গা থেকেই গোল করার পর কান্না চেপে রাখতে পারিনি’।
প্রথমার্ধে বাংলাদেশ গোল পাচ্ছিল না, কিন্তু ইব্রাহিমের মতে, ‘ডাগআউটে থাকার সময়ও আমার মনে হয়েছিল সুযোগ পেলে সেটা কাজে লাগাতে হবে। কোচ আমাকে নামানোর সময় নাম্বার টেন পজিশনে খেলতে বলেন। আমি নামার পর শমিতকে স্ট্রাইকার বানিয়ে আমি ১০ নম্বর পজিশনে যাই। কোচ শুধু বলেছিলেন সামনে খেলতে আর ডি-বক্সের আশপাশে বল পেলেই শট নিতে। শমিতের হেডার থেকে বক্সে বলটা পাওয়ার পর আমার আত্মবিশ্বাস ছিল যে শট নিলে গোল হবে’।
"আমাকে খেলতেই হবে, আরও ভালো খেলতে হবে এবং গোল করে প্রমাণ দিতে হবে আমি শেষ হয়ে যাইনি। সেই আবেগ আর কষ্টের জায়গা থেকেই গোল করার পর কান্না চেপে রাখতে পারিনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচ, ভুটানের বিপক্ষে
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ ইব্রাহিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন, ৪ মিনিট পর গোল করেন; নম্বর ১০ পজিশনে খেলেন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!