📌 ইউরোপের সাতটি দেশের শ্রমিক ও নাগরিক সংগঠন ২০, ২১ ও ২২ নভেম্বর একযোগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সঙ্কট ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে। আন্দোলনকারীরা আবাসন অধিকার নিশ্চিতকরণ, খাদ্য ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সামরিক খাতে ব্যয় কমিয়ে জনকল্যাণে বিনিয়োগের দাবি জানিয়েছেন
ইউরোপের সাতটি দেশের শ্রমিক ও নাগরিক সংগঠন একযোগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সঙ্কট ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে। ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, গ্রিস ও বেলজিয়ামের সংগঠনগুলো ২০, ২১ ও ২২ নভেম্বর তিন দিনের সমন্বিত কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এই আন্দোলনে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে কয়েক মিলিয়ন মানুষ অংশ নিতে আশা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৭ দেশের একযোগে বিক্ষোভ**: ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, গ্রিস ও বেলজিয়ামের সংগঠন ২০-২২ নভেম্বর তিন দিনের সমন্বিত কর্মসূচী পালন করবে।
- 📌 **আবাসন সঙ্কটের দাবি**: ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইউরোপে আবাসনের দাম ৬০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে, বাড়িভাড়া ২৯ শতাংশ।
- 📌 **জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিরুদ্ধে**: ১৬.৫ মিলিয়নের বেশি পরিবার তাদের মোট আয়ের ৪০ শতাংশেরও বেশি আবাসন ব্যয়ে খরচ করছে।
- 📌 **সামরিক খাতে ব্যয় কমানোর দাবি**: আন্দোলনকারীরা সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিবর্তে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসনে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
- 📌 **মজুরি ও পেনশন বৃদ্ধির দাবি**: শ্রমিকদের মজুরি ও অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানানো হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সঙ্কট ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বড় ধরনের গণআন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে। এই আন্দোলনে ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, গ্রিস ও বেলজিয়ামের সংগঠনগুলো অংশ নিচ্ছে। প্যারিসে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাত দেশের প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচীর ঘোষণা দিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি গোটা ইউরোপের সাধারণ মানুষের জীবনকে সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
স্পেনের ভাড়াটিয়া অধিকার সংগঠনগুলোর কনফেডারেশনের মুখপাত্র কারমে আরকারাজো বলেছেন, ‘আমরা একসাথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সাধারণ মানুষের আবাসন, খাদ্য, জ্বালানি ও ন্যায্য মজুরির প্রশ্নে ইউরোপের সরকারগুলোর আরও কার্যকর ভূমিকা নেয়া জরুরি।’
আবাসন সঙ্কটের কারণে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তরুণ, শিক্ষার্থী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আবাসনের দাম ৬০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৬.৫ মিলিয়নের বেশি পরিবার তাদের মোট আয়ের ৪০ শতাংশেরও বেশি আবাসন খাতে ব্যয় করেছে।
আন্দোলনকারীরা আবাসনকে মুনাফা অর্জনের পণ্য হিসেবে বিবেচনা না করে, প্রত্যেক মানুষের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, আবাসন বাজারে কার্যকর সরকারি নজরদারি এবং সরকারি উদ্যোগে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নির্মাণের দাবি করেছেন।
"আমরা একসাথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সাধারণ মানুষের আবাসন, খাদ্য, জ্বালানি ও ন্যায্য মজুরির প্রশ্নে ইউরোপের সরকারগুলোর আরও কার্যকর ভূমিকা নেয়া জরুরি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্রান্স (প্যারিস), স্পেন, ইতালি, যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, গ্রিস, বেলজিয়াম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কারমে আরকারাজো (স্পেনের ভাড়াটিয়া অধিকার সংগঠনের মুখপাত্র)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭টি দেশ, ৩ দিনের কর্মসূচি (২০-২২ নভেম্বর), ৬০% আবাসন মূল্য বৃদ্ধি, ২৯% বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, ১৬.৫ মিলিয়ন পরিবার, ৪০% আয়ের আবাসন ব্যয়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!