📌 যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি হাইস্কুলে শিক্ষার্থীদের লেখার দক্ষতার অভাব দেখে শিক্ষক ড্যারিয়াস উইলিয়ামস কান্নায় ভেঙে পড়েন। একই সময়ে নিউইয়র্কের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ব্যর্থতার হার বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনের হুইটলি হাই স্কুলের শিক্ষক ড্যারিয়াস উইলিয়ামস শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের লেখার দক্ষতার অভাব দেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি শ্রেণিকক্ষেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের হুইটলি হাই স্কুলের শিক্ষক ড্যারিয়াস উইলিয়ামস শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের লেখার দক্ষতার অভাব দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন
- 📌 উইলিয়ামস জানান, তার ক্লাসের শিক্ষার্থীরা চারটি শব্দও সম্পূর্ণ করতে পারেনি, যদিও তাদের বয়স ছিল ১৭ ও ১৮ বছর
- 📌 শিক্ষার্থীরা একটি সহজ লেখার অনুশীলন শেষ করতে না পারায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন
- 📌 উইলিয়ামসের ভিডিও প্রকাশের পর তার যোগ্যতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়
- 📌 নিউইয়র্কে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি পরীক্ষায় ব্যর্থতার হার যথাক্রমে ৫৭%, ৫২% ও ৫৭% ছিল
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের হুইটলি হাই স্কুলের শিক্ষক ড্যারিয়াস উইলিয়ামস শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের লেখার দক্ষতার অভাব দেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি শ্রেণিকক্ষেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। উইলিয়ামস নিউ এডুকেশন সিস্টেমের ক্যারিয়ার অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন বিভাগের একজন কর্মী।
মঙ্গলবার দুপুরের খাবারের বিরতিতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে উইলিয়ামস জানান, তিনি টানা তিন ঘণ্টা ক্লাস নেওয়ার পর শ্রেণিকক্ষের মাঝেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের লেখার দক্ষতা এতটাই দুর্বল ছিল যে, তাদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি।’
উইলিয়ামস তার ক্লাসে থাকা উচ্চ মাধ্যমিকের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের দুটি অনুচ্ছেদ পড়তে দিয়েছিলেন। এরপর একটি বাক্য সম্পূর্ণ করতে বলেন। তবে বাক্যটির বেশিরভাগ অংশ তিনি আগেই লিখে দিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেই বাক্যটিও সম্পূর্ণ করতে না পারায় তিনি হতবাক হয়ে যান। উইলিয়ামস বলেন, ‘আমি তাদের জন্য মূলত বাক্যটি প্রায় পুরোপুরিই লিখে দিয়েছিলাম। এরা ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। অথচ তারা চারটি শব্দও পূরণ করতে পারেনি। মাত্র চারটি শব্দ!’
উইলিয়ামস বলেন, ‘আমি তাদের লিখার বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। আমরা একসঙ্গে বিষয়টি চিহ্নিত ও বিশ্লেষণ করেছি। এমনকি প্রশ্ন দেওয়ার আগেই আমি তাদের উত্তরগুলোও বলে দিয়েছিলাম। তারপরও তারা কাজটি করতে পারেনি। সমস্যাটা কোথায়, আমি সত্যিই জানি না।’
হতাশা প্রকাশ করে উইলিয়ামস বলেন, ‘এটা স্কুলের মাত্র দ্বিতীয় দিন। অথচ আমার ক্লাসে এমন শিক্ষার্থী আছে, যারা ঠিকমতো পড়তে পারে না। এমনকি শেষ বর্ষের কিছু শিক্ষার্থী লিখতেও পারে না। তারা লিখতে পারে না।’ এ কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ভিডিওটি প্রকাশের পর উইলিয়ামস সমালোচনার মুখে পড়েন। সমালোচকেরা প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার্থীদের পড়া ও লেখার দক্ষতা নিয়ে কথা বলার মতো প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তার আছে কি না। উইলিয়ামস জানান, তার বেশ কয়েকটি পেশাগত সনদ রয়েছে। এর মধ্যে টেক্সাস অঙ্গরাজ্য এবং টেক্সাস এডুকেশন এজেন্সির সনদও রয়েছে।
উইলিয়ামস বলেন, ‘আপনাদের মধ্যে যারা মনে করেন, তরুণ শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য আমার যোগ্যতা নিয়ে সমস্যা আছে, তারা দায়িত্ব নিয়ে দেখান। আপনারা সনদ নিন, এসব উচ্চ বিদ্যালয়ে যান, একটি শ্রেণিকক্ষ নিন। প্রতি ক্লাসে ২২ জন শিক্ষার্থীর সামনে দাঁড়িয়ে পড়ান। তারপর আমি দেখব, আপনারা কতটা ভালো করতে পারেন।’
শ্রেণিকক্ষে উইলিয়ামসের কান্নায় ভেঙে পড়ার ঘটনার কয়েক দিন পর নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দক্ষতা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, গত শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৪৮ শতাংশ পরীক্ষায় নির্ধারিত দক্ষতার স্তরে পৌঁছেছে। আগের বছরের তুলনায় এই হার ৫ শতাংশ কমেছে।
‘শিক্ষার্থীদের লেখার দক্ষতা এতটাই দুর্বল ছিল যে, তাদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড্যারিয়াস উইলিয়ামস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪টি শব্দ, ৫৭ শতাংশ, ৫২ শতাংশ, ৪৮ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!