📌 দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন যে বিশেষ ধরনের কেবিনযুক্ত ক্যাফেগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। আদালতের মতে, এসব কক্ষ যৌন কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে
দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন যে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ক্যাফের বিশেষ কেবিনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। আদালতের মতে, টেলিভিশন, মাদুর ও বালিশসহ ব্যক্তিগত পরিবেশ তৈরি করা এসব কক্ষ যৌন কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে—বিশেষ কেবিনযুক্ত ক্যাফেগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিষিদ্ধ
- 📌 আদালতের যুক্তি: ব্যক্তিগত পরিবেশ যৌন কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে
- 📌 সুয়নের একটি ক্যাফেতে ৮ কিশোর-কিশোরীকে বয়স যাচাই ছাড়াই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল
- 📌 ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ১২ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী রুম ক্যাফেতে গিয়েছিল
- 📌 সুপ্রিম কোর্ট আপিল আদালতের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে
📰 বিস্তারিত
দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন যে বিশেষ ধরনের কেবিনযুক্ত ক্যাফেগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। আদালতের মতে, এসব কক্ষ ব্যক্তিগত পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে যৌন কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসবিএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুয়নের একটি ক্যাফেতে পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলার সূত্র ধরে এই রায় এসেছে।
অভিযোগ ছিল, ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত ওই ক্যাফেতে ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৮ কিশোর-কিশোরীকে বয়স যাচাই না করেই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ক্যাফেটিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিষিদ্ধ—এমন কোনো সাইনবোর্ডও ছিল না।
দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘রুম ক্যাফে’ বেশ জনপ্রিয়। এসব ক্যাফেতে সাধারণত বড় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ছোট ছোট আলাদা কক্ষ বা বুথ থাকে, যেখানে গ্রাহকেরা অর্থের বিনিময়ে সিনেমা দেখেন, গেম খেলেন, খাবার খান বা আড্ডা দেন। অনেক কক্ষে মাদুর, বালিশ বা বিছানার ব্যবস্থাও থাকে, যা ব্যক্তিগত পরিবেশ তৈরি করে।
২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় পরিচালিত সরকারি এক জরিপে দেখা যায়, আগের এক বছরে ১৫ হাজার ৫৩ জন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী রুম ক্যাফেতে গিয়েছিল।
মামলার প্রথম পর্যায়ে ক্যাফের মালিককে ২০ লাখ ওন জরিমানা করা হলেও আপিল আদালত তাঁকে খালাস দেন। আপিল আদালতের যুক্তি ছিল, অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার আইনটি শুধুমাত্র এমন ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে কর্মী ও গ্রাহকের মধ্যে বা অপরিচিতদের মধ্যে শারীরিক যোগাযোগের সুযোগ থাকে। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে বলে যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ধরন ও সুবিধাগুলো যৌন কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করছে কি না তা বিবেচনায় নিতে হবে।
সুয়নের ওই ক্যাফের ১৬টি কক্ষের মধ্যে মাত্র দুটিতে স্বচ্ছ জানালা ছিল। বাকি ১৪টি কক্ষ দরজা বন্ধ করলে প্রায় সম্পূর্ণ আড়ালে চলে যেত।
"ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ধরন ও সেখানে থাকা সুবিধাগুলো যৌন কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ কোরিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্যাফের মালিক, শিক্ষার্থী, তরুণ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ জন কিশোর-কিশোরী, ১৬টি কক্ষ, ১২ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!