📌 রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী গমের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের গম রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উৎপাদনের তুলনায় পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধিই মূল কারণ।
বিশ্ববাজারে গমের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের ফলে গম রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খরা ও তাপপ্রবাহে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে গম রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে
- 📌 ইউক্রেনের গম রপ্তানি ব্যাহত করতে রাশিয়ার মিসাইল হামলা এবং রাশিয়ার গম রপ্তানি ব্যাহত করতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা
- 📌 দক্ষিণ আফ্রিকার স্বার্টল্যান্ড অঞ্চলে খরা ও তাপপ্রবাহে গম উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে
- 📌 শিকাগো গম ফিউচারস তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে
- 📌 মিশর বিশ্বের বৃহত্তম গম আমদানিকারক দেশ, যার ৮২ শতাংশ গমের সরবরাহ আসে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে
📰 বিস্তারিত
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে গম রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। রাশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম গম রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এবং ইউক্রেন শীর্ষ ১০ গম উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় এই যুদ্ধ বিশ্ববাজারে গমের সরবরাহ ও দামকে প্রভাবিত করছে। যুদ্ধের কারণে গম পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় গমের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া, দক্ষিণ আফ্রিকার স্বার্টল্যান্ড অঞ্চলে চলমান খরা ও তাপপ্রবাহের কারণে দেশটির গম উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বার্টল্যান্ড অঞ্চল দক্ষিণ আফ্রিকার মোট গম উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশের উৎস। এছাড়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশও রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম আমদানি করে থাকে। যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এসব দেশকে বিকল্প উৎস যেমন বুলগেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, রোমানিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে গম আমদানি করতে হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লাওয়ার মিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের কাছে খাদ্যশ্রেণির গমের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তবে অতিরিক্ত সরবরাহ নেই। তিনি বলেন, "আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। আমাদেরকে অন্যান্য উৎস যেমন বুলগেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, রোমানিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে গম আমদানি করতে হবে।"
"রাশিয়া ও ইউক্রেনে প্রচুর গম রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত সেই গম বাজারে আসবে। কিন্তু বর্তমানে তা সম্ভব হচ্ছে না অথবা খুব উচ্চ ব্যয়ে আসছে। ফলে গমের দামেও তার প্রভাব পড়েছে। বিশ্বে প্রচুর গম রয়েছে...এটি প্রাপ্যতার প্রশ্ন নয়, এটি সাশ্রয়ীতার প্রশ্ন।"
"আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। আমাদেরকে অন্যান্য উৎস যেমন বুলগেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, রোমানিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে গম আমদানি করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বব্যাপী
- 👥 গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি: জো গ্লাবার (গবেষণা ফেলো, ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ শতাংশ (দক্ষিণ আফ্রিকার গম উৎপাদনে স্বার্টল্যান্ড অঞ্চলের অবদান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮২ শতাংশ (মিশরের গম আমদানিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবদান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!