📌 দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশকে দুটি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৪ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেবে। এর মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচনে ৩ কোটি ৯২ লাখ ডলার এবং চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণে ২০ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হবে। আজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়
দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশকে উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ৪ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান প্রদানের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই অনুদানের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়নে ৩ কোটি ৯২ লাখ ৮৬ হাজার ডলার এবং চট্টগ্রামে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণে ২০ লাখ ডলার অন্তর্ভুক্ত। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সরকার ও দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (কোয়িকা) দুটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশকে মোট ৪ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেবে — এর মধ্যে ৩ কোটি ৯২ লাখ ৮৬ হাজার ডলার দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পে এবং ২০ লাখ ডলার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণে
- 📌 চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিকেটিটিসি) জরাজীর্ণ একাডেমিক ভবনের জায়গায় নতুন দুই তলা ভবন নির্মাণ করা হবে — ভিত্তি ছয়তলা ভবনের জন্য উপযোগী
- 📌 দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার মিনিস্ট্রি অব দ্য ইন্টেরিয়র অ্যান্ড সেফটি (এমওআইএস) ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ডলার এবং রুরাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আরডিএ) ৩৬ লাখ ডলার অতিরিক্ত অনুদান দেবে
- 📌 প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা ও ফেনী এবং রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার ১১৪টি গ্রামে কার্যক্রম পরিচালিত হবে
- 📌 চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাছুমা আকতার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে কোয়িকার কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম স্বাক্ষর করেন
📰 বিস্তারিত
দক্ষিণ কোরিয়ার অনুদান প্রকল্পের মধ্যে একটি হলো ‘সেমাউল প্লাস এন্ড পভার্টি প্রোগ্রাম (এসপিইপিপি) ইন বাংলাদেশ’। এই প্রকল্পে ২০২৬ থেকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের লক্ষ্য হলো টেকসই পল্লি সম্প্রদায় গড়ে তোলা, কৃষি উৎপাদনশীলতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং পল্লি পরিবারের আয় বাড়ানো। এর জন্য কৃষি প্রযুক্তি ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিপণ্যের মূল্য শৃঙ্খল ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
অপর প্রকল্প ‘এক্স-পোস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট ফর এনহ্যান্সিং দ্য ভকেশনাল ট্রেনিং প্রোগ্রাম অব টিটিসি, চট্টগ্রাম’। এই প্রকল্পে ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিকেটিটিসি) জরাজীর্ণ একাডেমিক ভবনের জায়গায় নতুন দুই তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবনটি ছয়তলা ভবনের জন্য উপযোগী ভিত্তি রাখা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এশিয়া, জেইসি ও এফঅ্যান্ডএফ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও অনুবিভাগ প্রধান মাছুমা আকতার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে কোয়িকার কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম উপস্থিত ছিলেন।
"দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার সক্রিয় সহযোগিতা নিশ্চিত হয়েছে। এই অনুদান প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, বগুড়া, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাছুমা আকতার (বাংলাদেশ), জিহুন কিম (দক্ষিণ কোরিয়া)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার (মোট অনুদান), ৩ কোটি ৯২ লাখ ৮৬ হাজার ডলার (দারিদ্র্য বিমোচন), ২০ লাখ ডলার (প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভবন), ১১৪টি গ্রাম (কার্যক্রম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!