📌 ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি শিক্ষা বরাদ্দের অর্থ অনিয়মিতভাবে আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচার তৈরির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, নির্বাচনী কেন্দ্র সংস্কারের অর্থ কেটে রাখা, দুর্যোগ খাতের বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা বরাদ্দের অর্থ অনিয়মিতভাবে ব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচার তৈরির পাশাপাশি শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ও অন্যায়ভাবে অর্থ কেটে রাখার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা খাতের বিভিন্ন অনুদান যেমন খেলাধুলা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সরঞ্জাম, নির্বাচনী কেন্দ্র সংস্কার ও দুর্যোগকালীন জরুরি খাতের অর্থে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষকরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট ও প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৫৫ হাজার ও ৮৪ হাজার টাকা ইউনিয়ন পর্যায়ে না পাঠিয়ে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
- 📌 ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দকৃত প্রতিবন্ধী শিশুদের বিশেষ ডিভাইস ক্রয়ের অর্থ সরঞ্জাম কেনা না করে ভুয়া ভাউচারে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 ৪২টি নির্বাচনী কেন্দ্রের নামে আসা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনে শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগে, নির্বাচন শেষ হওয়ার চার মাস পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতি ৯ হাজার টাকা করে কেটে রাখা হয়েছে।
- 📌 ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের ৩ লাখ টাকা (২০২৪-২৫) ও ৯টি বিদ্যালয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের পরও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
- 📌 ১৮ লাখ ১৫ হাজার ২০০ টাকা ডিজিটাল সেবার নামে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশ করে অর্থ আত্মসাৎের অভিযোগ রয়েছে।
- 📌 ৭-৮ জন অনুগত শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা বণ্টনের অভিযোগ উঠেছে।
📰 বিস্তারিত
ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের কাছে একদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, খেলাধুলার আয়োজন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সরঞ্জাম কেনা, নির্বাচনী ভোটকেন্দ্র সংস্কার এবং দুর্যোগকালীন জরুরি খাতের অনুদান—সবখানেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট ও প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৫৫ হাজার ও ৮৪ হাজার টাকা ইউনিয়ন পর্যায়ে না পাঠিয়ে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিশুদের বিশেষ ডিভাইস ক্রয়ের ৯০ হাজার টাকা সরঞ্জাম না কিনে ভুয়া ভাউচারে তুলে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
নির্বাচনী কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ৪২টি বিদ্যালয়ের নামে আসা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনে শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ উঠে এসেছে। নির্বাচন শেষ হওয়ার প্রায় চার মাস পর অর্থ ছাড় করার সময় বিদ্যালয়প্রতি প্রায় ৯ হাজার টাকা করে কেটে রাখা হয়েছে।
সর্বশেষ, ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের ৩ লাখ টাকা (২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২টি বিদ্যালয়ে) এবং ৯টি বিদ্যালয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের পরও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একাধিকবার কিংবা নির্দিষ্ট ব্যক্তিসংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে বারবার একই বরাদ্দ দিয়ে বাস্তবে কাজ না করে অর্থ ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হয়েছে।
ডিজিটাল সেবার নামে অনিয়মের অভিযোগও কম নয়। উপজেলার বহু বিদ্যালয়ে ওয়াইফাই সংযোগ না থাকা ও নেট চালু না হওয়ার তথ্য থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রত্যয়ন ছাড়া একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশ করে ১৮ লাখ ১৫ হাজার ২০০ টাকা তুলে নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দ থেকে স্কুলপ্রতি ৫০০ টাকা কেটে রাখা, ৯৬ জন শিক্ষকের চিত্তবিনোদনের টাকা আটকে রেখে ৫০০ টাকা করে আদায় এবং কনটিনজেন্সি ও ভ্রমণ ভাতার বকেয়া সরাসরি অ্যাকাউন্টে না দিয়ে চেকের মাধ্যমে অতিরিক্ত অংশ তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের নামে হয়রানির কথা উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়েছে, মুজিবনগর ইউনিয়নের তিনটি বিদ্যালয় পরিদর্শনের পর প্রশাসনিক ভয় দেখিয়ে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রায় দুই মাস বন্ধ রাখা হয়। পরে শিক্ষকপ্রতি ৫ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে বিল ছাড় করা হয়।
"তারা যেসব অভিযোগ করেছে, আমার কাছে তার সব অফিশিয়াল কাগজপত্র আছে। নিয়ম মেনেই সব টাকা খরচ করা হয়েছে।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান সব দায় অস্বীকার করে বলেছেন, 'তারা যেসব অভিযোগ করেছে, আমার কাছে তার সব অফিশিয়াল কাগজপত্র আছে। নিয়ম মেনেই সব টাকা খরচ করা হয়েছে।' অন্যদিকে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, 'আমার কাছে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি। যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা তদন্ত করে দেখবে। অভিযোগপত্র আমার দপ্তরে এলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মিজানুর রহমান (টিইও), মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন (সংসদ সদস্য), শিক্ষকদের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, ৮৪ হাজার টাকা, ৯০ হাজার টাকা, ৪২টি বিদ্যালয়, ৩ লাখ টাকা, ১৮ লাখ ১৫ হাজার ২০০ টাকা, ৫ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!