📌 পাবনা সদর উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কলি ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা নিহত শিশুটিকে ধর্ষণ করে গলাটিপে হত্যা করে। খুনিরা নিখোঁজ শিশু খোঁজার নাটক করতেও লিপ্ত ছিলেন
পাবনা সদর উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কলি ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস ঘটনায় পুলিশ রহস্য উদঘাটন করেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর আইসক্রিম কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ১০ বছর বয়সী কলির মরদেহ তার বাড়ির পাশের ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পিছনে জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাবনা সদর উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পুলিশ রহস্য উন্মোচিত করেছে
- 📌 গ্রেপ্তারকৃত: মোস্তফা প্রামানিক (৫৫) ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী (২৫)
- 📌 খুনিরা নিহত শিশুটিকে ধর্ষণ করে গলাটিপে হত্যা করে, তারপর মরদেহ লুকিয়ে রাখে
- 📌 খুনিরা নিখোঁজ শিশু খোঁজার নাটক করতেও লিপ্ত ছিলেন
- 📌 পুলিশ শুক্রবার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার পর পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে
📰 বিস্তারিত
পাবনা সদর উপজেলার কুলোনিয়া এলাকায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কলি ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পুলিশ রহস্য উদঘাটন করেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর কলি আইসক্রিম কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। তার বস্তাবন্দি মরদেহ গত বুধবার তার বাড়ির পাশের ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় আল ফালাহ একাডেমির শিক্ষার্থী কলি ছিলেন পাওয়ারলুম তাঁত কারখানার মালিক কামাল প্রামাণিকের মেয়ে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মোস্তফা প্রামানিক (৫৫) ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী (২৫) এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পিছনে জড়িত। ইয়াছিন কলির বাবার কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং মোস্তফার বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা কলিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোস্তফা আগে থেকেই বিকৃত চরিত্রের মানুষ ছিলেন। তিনি বিভিন্ন নারীদের ছবি তুলে রাখতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কলি মোস্তফার দোকানে আইসক্রিম কিনতে গিয়েছিলেন। মোস্তফা তাকে ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম দেওয়ার কথা বলে নিজের বাড়ির ভেতরে ডেকে নেন। পরে মোস্তফা ও ইয়াছিন মিলে তাকে ধর্ষণ করেন। মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা তাকে গলাটিপে হত্যা করে। এরপর মরদেহ বস্তায় ভরতে গিয়ে তার দুপা কেটে ফেলা হয় এবং লাশটি ঘরের ভেতরেই লুকিয়ে রাখা হয়।
চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, কলি নিখোঁজের পর তার পরিবার যখন চারদিকে খোঁজাখুঁজি করছিল এবং মানববন্ধন করছিল, তখন খুনিরাও তাদের সাথে খোঁজাখুঁজির নাটক করতেন। একপর্যায়ে ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে এবং তল্লাশির সময় স্যাভলনের গন্ধ ও মোস্তফার আচরণে সন্দেহ হয় পুলিশের। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা বেরিয়ে আসে।
"মোস্তফা আগে থেকেই বিকৃত চরিত্রের মানুষ ছিলেন এবং দোকানে আসা নারীদের বিভিন্ন ছবি তুলে রাখতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কলি মোস্তফার দোকানে গিয়ে আইসক্রিম কিনতে গেলে তিনি তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন। পরে তারা মিলে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনা সদর উপজেলা, কুলোনিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কলি (১০), মোস্তফা প্রামানিক (৫৫), ইয়াছিন আলী (২৫), পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বছর বয়সী কলি, ৯ সেপ্টেম্বর, ৫৫ বছর বয়সী মোস্তফা, ২৫ বছর বয়সী ইয়াছিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!