📌 স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের প্রধান লোনি বাঞ্চ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকানিজম’-ভিত্তিক সমালোচনার কারণে তিনি পদত্যাগ করছেন। বাঞ্চ বলেছেন, তিনি প্রতিষ্ঠানের অখণ্ডতা রক্ষা ও মার্কিন ইতিহাসের জটিলতা তুলে ধরার জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন
স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের প্রধান লোনি বাঞ্চ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের চাপে তিনি এই পদ থেকে বেরিয়ে আসছেন। বাঞ্চের মতে, তিনি প্রতিষ্ঠানের অখণ্ডতা রক্ষা ও মার্কিন ইতিহাসের জটিলতা তুলে ধরার জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লোনি বাঞ্চ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের প্রধান হিসেবে।
- 📌 ট্রাম্প প্রশাসন ‘আমেরিকানিজম’ ও ‘আমেরিকান ইতিহাসের সত্য’ নিয়ে সমালোচনা করে প্রতিষ্ঠানকে চাপ দিচ্ছে।
- 📌 স্মিথসোনিয়ানের ১৮০ বছরের ইতিহাসতে প্রথমবারের মতো একজন আফ্রিকান আমেরিকান প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বাঞ্চ।
- 📌 ট্রাম্পের প্রশাসন ‘ডিভার্সিটি, ইকুইটি অ্যান্ড ইনক্লুশন’ (ডিইআই) নীতি ও ‘বামপন্থী’ ইতিহাসবিবরণকে সমালোচনা করে আসছে।
- 📌 ওয়াশিংটন ডিসি’র ন্যাশনাল মলতে অবস্থিত স্মিথসোনিয়ানের ৫টি প্রধান মিউজিয়াম — এয়ার অ্যান্ড স্পেস, আমেরিকান হিস্টরি, আমেরিকান ইন্ডিয়ান, ন্যাচারাল হিস্টরি ও ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারি — এর উপর প্রশাসনের চাপ বাড়ছে।
📰 বিস্তারিত
লোনি বাঞ্চের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের প্রধান হিসেবে। তিনি বলেছেন, “আমি গর্ব, দুঃখ, ধন্যবাদ ও আনন্দের সাথে এই পদ থেকে বেরিয়ে আসছি। আমার বিশ্বাস, প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতে কাজ করার জন্য যথেষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন লোক রয়েছে।” বাঞ্চের মতে, তিনি পরবর্তী জীবনে স্মিথসোনিয়ানের অখণ্ডতা রক্ষা ও মার্কিন ইতিহাসের জটিলতা তুলে ধরার কাজ চালিয়ে যাবেন।
স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল মল, ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম মিউজিয়াম নেটওয়ার্কের একটি। এখানে রয়েছে এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়াম, ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব আমেরিকান হিস্টরি, ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব দ্য আমেরিকান ইন্ডিয়ান, ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্টরি ও ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারি।
বাঞ্চ ২০১৯ সালে স্মিথসোনিয়ানের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ১৮০ বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান প্রধান ছিলেন। পূর্বে তিনি ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব আফ্রিকান আমেরিকান হিস্টরি অ্যান্ড কালচারের পরিচালক ছিলেন, যা ২০১৬ সালে উদ্বোধন হয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন স্মিথসোনিয়ানকে ‘বামপন্থী’ বা ‘আমেরিকান বিরোধী’ হিসেবে দেখছে। তারা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসবিবরণে রেসিজম, কলোনিয়ালিজম ও মার্কিন ইতিহাসের ‘অনুচিত’ দিকগুলিকে তুলে ধরার জন্য সমালোচনা করছে। ট্রাম্পের প্রশাসন স্মিথসোনিয়ানের বাজেটের উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বাজেটের উপর নির্ভরশীল।
২০২৫ সালের শুরুতে ট্রাম্প একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডার জারি করেন, যার শিরোনাম ছিল ‘রেস্টোরিং ট্রুথ অ্যান্ড স্যানিটি টু আমেরিকান হিস্টরি’। এই আদেশে স্মিথসোনিয়ানকে ‘আমেরিকান গ্রেটনেসের’ প্রতীক হিসেবে ফিরিয়ে আনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসন আরও বলেছে, স্মিথসোনিয়ানের ‘ডিভার্সিটি, ইকুইটি অ্যান্ড ইনক্লুশন’ (ডিইআই) নীতি ও ‘বামপন্থী’ ইতিহাসবিবরণকে সমালোচনা করে আসছে।
স্মিথসোনিয়ানের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় উদ্যান ও সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ‘ডিইআই’ নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারা ‘বামপন্থী’ বা ‘বৈষম্যমূলক’ নীতিগুলি থেকে মুক্তি দিতে চায়।
“আমি গর্ব, দুঃখ, ধন্যবাদ ও আনন্দের সাথে এই পদ থেকে বেরিয়ে আসছি। আমার বিশ্বাস, প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতে কাজ করার জন্য যথেষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন লোক রয়েছে।”
“আমার পরবর্তী জীবনে আমি স্মিথসোনিয়ানের অখণ্ডতা রক্ষা ও মার্কিন ইতিহাসের জটিলতা তুলে ধরার কাজ চালিয়ে যাবেন।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওয়াশিংটন ডিসি, ন্যাশনাল মল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লোনি বাঞ্চ (স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের প্রধান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮০ বছর (স্মিথসোনিয়ানের প্রতিষ্ঠাকাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!