📌 লিবিয়ার উপকূল থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হওয়া সুনামগঞ্জের সাত যুবক নয় দিন পর মিশরের উপকূলে উদ্ধার। তাদের মধ্যে চারজনের পরিচয় মিললেও বাকিদের নাম-পরিচয় অজানা। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকা ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় দীর্ঘ নয় দিন ধরে খাবার ও পানির অভাবে মৃত্যুঝুঁকিতে ছিলেন তারা
লিবিয়ার তবরুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার নয় দিন পর ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হওয়া সুনামগঞ্জের সাত যুবক মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে উদ্ধার হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকিদের নাম-পরিচয় এখনো অজানা রয়ে গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লিবিয়ার তবরুক উপকূল থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মধ্যে ৩৮ জন ছিলেন বাংলাদেশি
- 📌 নৌকার ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় নয় দিন ধরে ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর উদ্ধার
- 📌 উদ্ধার হওয়া ১৮ জন বাংলাদেশিকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে
- 📌 অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন
- 📌 দালাল আল আমিনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে যাত্রা শুরু করেছিলেন যুবকরা
📰 বিস্তারিত
গত ৩ আগস্ট রাতে লিবিয়ার তবরুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা। ওই নৌকায় থাকা ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। যাত্রা শুরুর পরপরই ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটির খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। পরবর্তীতে গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ফলে টানা নয় দিন ধরে ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকতে হয় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের।
মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছানোর পর সেখানকার নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম জানান, তারা ৪২ জন মিলে গ্রিস যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। তবে ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় সামনে এগোতে পারেননি তারা।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে খাবার বা পানি কিছুই ছিল না। চোখের সামনে নয়জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে হয়েছে। পরে আরও দুজন মারা যান। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে।’ তিনি জানান, তারা এখন মারসা মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং দেশে ফিরে যেতে চান।
নিখোঁজ রিপন মিয়ার বাবা রাজ মিয়া জানান, লিবিয়াপ্রবাসী দালাল আল আমিনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তারা গ্রিস যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। যাত্রার শুরুতে দালাল আল আমিনকে ৬ লাখ টাকা অগ্রিম দেয়া হয়। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর বাকি টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যুবকদের পরিবার। চলতি বছরের জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে তারা বাড়ি থেকে বের হন এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দুবাই ও সৌদি আরব হয়ে লিবিয়া যান।
‘আমরা ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলাম। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আমাদের নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আর সামনে এগোতে পারিনি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লিবিয়া থেকে গ্রিস যাত্রাপথ, উদ্ধার মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল করিম, রাজ মিয়া, দালাল আল আমিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ জন নিখোঁজ, ৪২ জন যাত্রী, ৩৮ জন বাংলাদেশি, ১৮ জন উদ্ধার, ১২ লাখ টাকা চুক্তি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!