📌 সৌদি আরব ইরানের মধ্যস্থতায় হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলার প্রদানের প্রস্তাব করেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। তবে সৌদি সরকার এ প্রস্তাবের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। তেহরানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনা চলছে, যেখানে হুতি-সৌদি বিরোধের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে
সৌদি আরব ইরানের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলার প্রদানের প্রস্তাব করেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরায়েল হায়োম’। তবে রিয়াদ সরকার এ প্রস্তাবের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাতের সমাধান খোঁজার এই নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা তেহরানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনার অংশ হিসেবে এসেছে বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুসারে, সৌদি আরব ইরানের মধ্যস্থতায় হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলার প্রদানের প্রস্তাব করেছে। তবে রিয়াদ এ প্রস্তাবের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
- 📌 সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের তেহরান সফরে হুতি সমস্যা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের আলোচনা হয়েছে।
- 📌 গত সোমবার তেহরানে ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
- 📌 ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাতের সমাধান খোঁজার জন্য ২০১৪ সাল থেকে চলমান যুদ্ধে সৌদি আরবের হস্তক্ষেপের পাশাপাশি হুতি বিদ্রোহীদের দখলকৃত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বেতন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য অর্থ প্রদানের কথা ছিল।
- 📌 হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ার পরিস্থিতিতে এই আলোচনা নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরায়েল হায়োম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইরানের মধ্যস্থতায় হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বন্ধ ও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ১০০ কোটি ডলার প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের তেহরান সফরে এই বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। সূত্রের দাবি, সামরিক পরিবহন উড়োজাহাজে করে অর্থ তেহরানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে এ দাবিরও কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।
গত সোমবার তেহরানে ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমনের আলোচনা হয়েছিল। বৈঠকে অংশ নেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন এবং ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব মোহসেন রেজায়ি। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা, উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার ঠেকানোর লক্ষ্যে এই সফর করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে হুতি বিদ্রোহীরা সংঘাত তীব্র করে। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান হয়নি। ইসরায়েলি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে হওয়া সমঝোতার আওতায় হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বেতন দেওয়া ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। বিনিময়ে হুতিদের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ রাখার প্রত্যাশা ছিল। তবে সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
"সৌদি আরবের অবস্থান হলো, সামরিক চাপের মুখে নতুন যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা যাবে না। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কাছ থেকে হুতিদের দখলকৃত এলাকা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নটিও রিয়াদের আপত্তির অন্যতম কারণ"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তেহরান (ইরান), সৌদি আরব, ইয়েমেন, উপসাগরীয় অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন, ইরানের মহাসচিব মোহসেন রেজায়ি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ কোটি ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!