📌 ইসরায়েলে ১৯৭৭ সালের পর সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। আরবদের ভোটের প্রভাব এবং ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার স্মৃতি নির্বাচনের ফলকে প্রভাব ফেলতে পারে। নেতানিয়াহু জোটের সম্ভাব্য ৫০ আসন এবং বিরোধী জোটের ৫২ আসনের প্রতিযোগিতা চলছে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটের ভাগ্যনির্ধারণী নির্বাচনে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল সাতটা থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনে ১৯৭৭ সালের পর এত বেশি ভোটার অংশগ্রহণের রেকর্ড গড়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবদের বড় অংশের ভোট এই নির্বাচনের ফলকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্থানীয় সময় দুপুর ১টা পর্যন্ত ৪৮ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে — ১৯৭৭ সালের পর রেকর্ড ভোটার উপস্থিতি
- 📌 আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ হবে ৪ নভেম্বর; নেতানিয়াহু জোটের সম্ভাব্য ৫০ আসন, বিরোধী জোটের ৫২ আসন
- 📌 ৭ অক্টোবরের হামাস হামলা ও গাজা-ইরান যুদ্ধের প্রভাব ভোটারদের মনোভাবে বড় ভূমিকা রাখছে
- 📌 আরব ভোটারদের সংখ্যা নজিরবিহীন; আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ
- 📌 নেতানিয়াহু বলেন, ‘কারচুপির চেষ্টা চলছে’; বিরোধী আইজেনকট দাবি, ‘গত তিন বছরের ভুল সংশোধন হবে’
📰 বিস্তারিত
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটের ভাগ্যনির্ধারণী নির্বাচনে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল সাতটা থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনে ১৯৭৭ সালের পর এত বেশি ভোটার অংশগ্রহণের রেকর্ড গড়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবদের বড় অংশের ভোট এই নির্বাচনের ফলকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং এর পরের গাজা-ইরান যুদ্ধের প্রভাব ভোটারদের মনোভাবে বড় ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা পর্যন্ত ৪৮ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎসের খবরে জানা গেছে। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেছেন, ১৯৭৭ সালের পর এত ভোট পড়ার ইতিহাস আর নেই। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ হবে ৪ নভেম্বর।
নির্বাচনের মূল আলোচনা নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোটকে ঘিরে। এই জোটে রয়েছে কট্টর ডানপন্থী ইতামার বেন-গভিরের দল জিউইশ পাওয়ার ও বেজালেল স্মোত্রিচের দল রিলিজিয়াস জায়োনিজম। বেন-গভির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ও স্মোত্রিচ অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অতি রক্ষণশীল ইহুদি দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমও নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য মিত্র।
বিরোধী শিবিরে রয়েছে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটসদের নেতৃত্বে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এগিয়ে রাখা হয়েছে। টুগেদারের নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদও সরকারপ্রধান হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন।
"আমি নিশ্চিত, আজকের দিন শেষে আমরা পরিবর্তন দেখতে পাব। গত তিন বছর এবং সেই ভয়াবহ দিনের ঘটনাগুলোর ভুল সংশোধনে এটি ভূমিকা রাখবে।" — সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট
পশ্চিম জেরুজালেমে ভোট দেওয়ার পর নেতানিয়াহু সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কেউ কেউ নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা করছে’। অন্যদিকে, রামাত গানের বাসিন্দা রুথ এপস্টেইন বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটসকে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার জানা সব নির্বাচনের মধ্যে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়ে আমি সত্যিই ভয় পাচ্ছি’।
জেরুজালেমের বাসিন্দা লুইস লিপস্কি নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আরব ভোটারদের মধ্যে ফিলিস্তিনি প্রার্থী আহমেদ তিবি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি রয়টার্সকে বলেছেন, ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোটাররা ‘নজিরবিহীন’ সংখ্যায় ভোট দিচ্ছেন। তবে আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমোৎস আসা-এল বলেছেন, ‘আমার ধারণা, দুই পক্ষের যেকোনো একটিরই সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে। কোনো পক্ষই বিপুল ব্যবধানে জিতবে না’। তবে নেতানিয়াহু বা আইজেনকট—কেউই যদি সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পান, তাহলে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন নেতানিয়াহু।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল (পশ্চিম জেরুজালেম, রামাত গান, গাজা, লেবানন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, গাদি আইজেনকট, নাফতালি বেনেট, ইয়ার লাপিদ, আহমেদ তিবি, ইতামার বেন-গভির, বেজালেল স্মোত্রিচ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি (১৯৭৭ সালের পর), ৪৮% ভোট পড়েছে, ১২০টি আসন, ৬১ আসন প্রয়োজন সংখ্যাগরিষ্ঠতা, ৫০ আসন নেতানিয়াহু জোটের সম্ভাব্য, ৫২ আসন বিরোধী জোটের সম্ভাব্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!