📌 রাশিয়ার জলবায়ু পরিবর্তন মামলা ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদিবাসী ইউকাঘির নেতারা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাদের জীবনযাত্রা বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
রাশিয়ার ইউকাঘির আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা এখন হুমকির মুখে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক আদমশুমারি অনুযায়ী, তাদের জনসংখ্যা মাত্র ১ হাজার ৮১৩ জনে নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিকার, মাছ ধরা ও রেইনডিয়ার পালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা এই সম্প্রদায় এখন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইউকাঘির আদিবাসীদের জনসংখ্যা মাত্র ১ হাজার ৮১৩ জনে নেমে এসেছে বলে সাম্প্রতিক আদমশুমারি তথ্য
- 📌 আদিবাসী নেতা ভিয়াচেস্লাভ শাদ্রিন জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে যাচ্ছে
- 📌 রাশিয়া বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ, যার তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি
- 📌 ২০২২ সালে রাশিয়ার সরকার বিরোধী কর্মী আর্শাক মাকিচিয়ানের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়
- 📌 ২০২১ সালে রাশিয়ায় প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার বর্গকিলোমিটার বনভূমি পুড়ে যায়
📰 বিস্তারিত
রাশিয়ার উত্তর-পূর্ব সাইবেরিয়ার হিমশীতল তুন্দ্রায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করা ইউকাঘির আদিবাসীরা এখন তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রা হারাতে বসেছে। সাম্প্রতিক আদমশুমারি অনুযায়ী, তাদের জনসংখ্যা মাত্র ১ হাজার ৮১৩ জনে নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরা, শিকার ও রেইনডিয়ার পালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা এই সম্প্রদায় এখন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন।
আদিবাসী নেতা ভিয়াচেস্লাভ শাদ্রিন বলেন, "যে কোনো জেলে তার এলাকায় কখন মাছ ধরা ভালো হবে, কোথায় মাছ পাওয়া যাবে এবং কখন তারা সবচেয়ে ভালোভাবে কামড়াবে তা জানেন। এটি একটি নির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কিত প্রকৃতির ছন্দের জ্ঞান। আদিবাসী জনগোষ্ঠীরও এই ধরনের জ্ঞান রয়েছে। এই জ্ঞান ব্যবহার করে আমরা আমাদের টিকে থাকার কৌশল তৈরি করেছি। আগামীকাল আমরা এখানে থাকব, তারপর অন্য কোথাও চলে যাব—এভাবেই আমরা প্রাকৃতিক সম্পদকে কার্যকর এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে ব্যবহার করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "বয়স্কদের অধিকাংশই বলেন প্রকৃতি আমাদের সাথে প্রতারণা করছে। তারা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন কেন এমন হচ্ছে—কারণ আমরা অনেক বেশি নিয়ম ভঙ্গ করেছি।"
রাশিয়া বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ। দেশটির তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি। এর ফলে সাইবেরিয়ার তুন্দ্রা অঞ্চলসহ পুরো গ্রহের জন্য মারাত্মক পরিবেশগত প্রভাব পড়ছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে চার বছর আগে একদল কর্মী রাশিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। প্রথমে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্টে এবং পরে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে (ইসিএইচআর)। রাশিয়ান ক্লাইমেট কেস নামে পরিচিত এই মামলায় অভিযোগ করা হয় যে রাশিয়ার সরকার আন্তর্জাতিক জলবায়ু দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তবে গত জুনে ইসিএইচআরের একজন বিচারক মামলাটি অগ্রহণযোগ্য বলে রায় দেন।
এই রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলার অন্যতম বাদী আর্শাক মাকিচিয়ানের। তিনি বলেন, "কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আমাদের আইনজীবী দল অবশ্যই একমত নয়, বিশেষ করে যেহেতু আদালত একই ধরনের মামলা বিবেচনা করে রায় দিয়েছে, তাই এই ফলাফল আমাদের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল।"
মাকিচিয়ান জানান, অনেক বাদীর জন্য এই মামলা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাকে ২০২২ সালে রাশিয়ার নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়, যা তিনি তার কর্মকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, "আমরা শুধু অনুমান করতে পারি কারণগুলো সম্পর্কে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল। আমার বিশ্বাস আদালত রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অনিচ্ছুক ছিল।"
সাইবেরিয়া এবং রাশিয়ার সুদূর উত্তর ও সুদূর পূর্বাঞ্চলে জলবায়ু সংকট একটি নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। শাদ্রিন বলেন, "পূর্বে বন্যা প্রতি তিন থেকে চার বছর পর পর হতো, আর ভয়াবহ বন্যা হতো প্রতি ১০ বছর পর পর। এখন বছরে বন্যা না হওয়াই যেন ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "বন্যা ছাড়াও প্রতি বছর বনাগ্নের ঘটনা ঘটছে। রাশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বনাগ্নের মৌসুম ছিল ২০২১ সালে, যখন প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার বর্গকিলোমিটার বনভূমি পুড়ে যায়—যা সিরিয়া বা উরুগুয়ের আয়তনের চেয়েও বেশি। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়ার অবস্থা এবং আগুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবুও আগুন প্রায় সারা বছরই লাগতে পারে, এমনকি আর্কটিক সার্কেলের মধ্যেও।"
"যে কোনো জেলে তার এলাকায় কখন মাছ ধরা ভালো হবে, কোথায় মাছ পাওয়া যাবে এবং কখন তারা সবচেয়ে ভালোভাবে কামড়াবে তা জানেন। এটি একটি নির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কিত প্রকৃতির ছন্দের জ্ঞান। আদিবাসী জনগোষ্ঠীরও এই ধরনের জ্ঞান রয়েছে। এই জ্ঞান ব্যবহার করে আমরা আমাদের টিকে থাকার কৌশল তৈরি করেছি। আগামীকাল আমরা এখানে থাকব, তারপর অন্য কোথাও চলে যাব—এভাবেই আমরা প্রাকৃতিক সম্পদকে কার্যকর এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে ব্যবহার করেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাইবেরিয়া, রাশিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভিয়াচেস্লাভ শাদ্রিন, আর্শাক মাকিচিয়ান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার ৮১৩ জন (ইউকাঘির জনসংখ্যা), ১ লাখ ৯০ হাজার বর্গকিলোমিটার (২০২১ সালের বনভূমি পোড়ার পরিমাণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!