📌 যুক্তরাজ্যের লন্ডনের আদালত ব্রিটিশ অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ডকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে। সাজা ঘোষণা হবে ৯ নভেম্বর এবং তিনি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে একজন ১৬ বছর বয়সী ছিল
যুক্তরাজ্যের লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে ব্রিটিশ অভিনেতা ও কমেডিয়ান রাসেল ব্র্যান্ডকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বিচারপতি জোয়েল বেনাথান ঘোষিত রায় অনুযায়ী, ব্র্যান্ডকে উল্লেখযোগ্য মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। সাজা ঘোষণা হবে আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) এবং আদালতের নির্দেশে তিনি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ায় ব্র্যান্ডের সম্ভাব্য সাজা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চার নারীকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্রিটিশ অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ডকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
- 📌 ২০০৪-২০০৯ সালের মধ্যে ঘটিত চারটি অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে আরও দুটি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
- 📌 ৫১ বছর বয়সী ব্র্যান্ডের স্ত্রী লরা ব্র্যান্ড রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
- 📌 ১৬ বছর বয়সী একজন নারীও ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
- 📌 ১ হাজার ৪০০টির বেশি নথি ও শতাধিক সাক্ষীর জবানবন্দি ভিত্তিতে মামলাটি সাজানো হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বিচারপতি জোয়েল বেনাথান জানান, ব্র্যান্ডের সম্ভাব্য সাজা উল্লেখযোগ্য মেয়াদের কারাদণ্ড হতে পারে। রায় ঘোষণার সময় জুরির সদস্যরা চোখ বন্ধ করে রায় ঘোষণা করলেও ব্র্যান্ডের মধ্যে কোনো আবেগের প্রকাশ দেখা যায়নি। ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগের মধ্যে একটি ধর্ষণ এবং তিনটি যৌন নির্যাতনের ঘটনা রয়েছে। তবে ১৯৯৯, ২০০৪ এবং ২০০১ সালের তিনটি অভিযোগে ব্র্যান্ডকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিচার চলাকালে ব্র্যান্ড সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, অতীতে তিনি অনেক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন, কিন্তু সব ক্ষেত্রেই শারীরিক সম্পর্ক ছিল উভয়ের সম্মতিতে। তবে প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, ব্র্যান্ড তার জনপ্রিয়তা ও প্রভাব ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণ করতেন। মামলার জ্যেষ্ঠ কৌন্সিল ডেভিড রবার্টস বলেছেন, ব্র্যান্ড নিজের ইচ্ছা পূরণের ক্ষেত্রে সম্মতি পাওয়া গেল কি না, সেটিকে গুরুত্ব দিতেন না।
তদন্তে ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে তদন্ত শুরু হয়। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ফোরের অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘ডিসপ্যাচেস’ এবং দ্য টাইমস ও সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ উঠে আসে। এরপর লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে শতাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা হয় এবং চার শতাধিক সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ ও ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহের সুযোগ সীমিত ছিল। তাই সাক্ষ্য, পুরোনো নথি এবং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মামলার প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়।
"ব্র্যান্ড তাঁর তারকাখ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে যৌন অপরাধ করেছেন। নিজের ইচ্ছা পূরণের ক্ষেত্রে সম্মতি পাওয়া গেল কি না, সেটিকে গুরুত্ব দিতেন না।" — মামলার জ্যেষ্ঠ কৌন্সিল ডেভিড রবার্টস
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্ট, যুক্তরাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাসেল ব্র্যান্ড, বিচারপতি জোয়েল বেনাথান, ডেভিড রবার্টস, লরা ব্র্যান্ড
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫১ বছর (বয়স), ৪টি অভিযোগ (দোষী), ৯ নভেম্বর (সাজা ঘোষণা), ১৬ বছর (অভিযোগকারী নারীর বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!