📌 নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে জাপানি শিক্ষাবিদ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সামাজিক ব্যবসা, কর্মী সংকট সমাধান এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার নিয়ে আলোচনা করেন
ঢাকার মিরপুরে ইউনূস সেন্টারে রোববার (১৬ আগস্ট) একাডেমিক আলোচনা শেষে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ১৬ সদস্যের জাপানি শিক্ষাবিদ প্রতিনিধিদল। বৈঠকে সামাজিক ব্যবসা, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাপানি প্রতিনিধিদলটি গঠিত ছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রের শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী নেতা ও পেশাজীবীদের নিয়ে
- 📌 বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা আরও গভীর করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়
- 📌 অধ্যাপক ইউনূস দুই দেশের মধ্যে কর্মী সংকট সমাধানে দক্ষ কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন
- 📌 সামাজিক ব্যবসার ধারণায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের তিন মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেন ইউনূস: শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণে শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীভবন এবং উদ্যোক্তাশক্তির বিকাশের মাধ্যমে শূন্য বেকারত্ব অর্জন
- 📌 গ্রামীণের উদ্যোগগুলো পরিচালিত হচ্ছে মানুষের সক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা হওয়ার শক্তিকে কেন্দ্র করে
📰 বিস্তারিত
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে ইউনূস সেন্টারে নিজ কার্যালয়ে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন জাপানি প্রতিনিধিদল। দলটির সদস্যরা ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক ও ব্যবসায়ী নেতা। বৈঠকে জাপানি প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের প্রতি তাদের আগ্রহের কথা জানান এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও গভীর করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অধ্যাপক ইউনূস বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি দুই দেশের বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবসায়িক ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও জোরদারে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। বৈঠকে তিনি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জাপান সফরের কথাও স্মরণ করেন। সেসময় জাপান সরকারের প্রতিনিধিরা দেশটির ক্রমবর্ধমান কর্মী সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন বলে জানান ইউনূস।
প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় তিনি কর্মী সংকট সমাধানে আরও সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এছাড়া বৈঠকে গ্রামীণের দর্শন ও বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কেও প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন ইউনূস। তিনি বলেন, মানুষের সক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা হওয়ার শক্তিকে কেন্দ্র করে গ্রামীণের উদ্যোগগুলো পরিচালিত হচ্ছে।
সামাজিক ব্যবসার ধারণাটি ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক স্বীকৃতি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন ইউনূস। তিনি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের তিন মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেন: শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণে শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীভবন এবং উদ্যোক্তাশক্তির বিকাশের মাধ্যমে শূন্য বেকারত্ব অর্জন। তিনি বলেন, মানুষের উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের সমাধান তৈরির মাধ্যমে গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানগুলো এসব লক্ষ্য অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
"মানুষের সক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা হওয়ার শক্তিকে কেন্দ্র করে গ্রামীণের উদ্যোগগুলো পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক ব্যবসার ধারণাটি ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক স্বীকৃতি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।"
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে শিক্ষা, ব্যবসা, সামাজিক উন্নয়ন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুহাম্মদ ইউনূস
- 🔢 প্রতিনিধিদলের সদস্য সংখ্যা: ১৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!