📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখুঁত ছবি তোলার নেশায় হাঙরের খুব কাছে চলে যাওয়ার প্রবণতা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। গত এক বছরে তিনজন ইনফ্লুয়েন্সারের হাঙরের কামড়ের শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মানুষ ও সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য মারাত্মক হুমকি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পারফেক্ট’ ছবি বা ভিডিও ধারণের নেশায় হাঙরের খুব কাছে চলে যাওয়ার প্রবণতা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এতে মানুষের জীবন যেমন ঝুঁকিতে পড়ছে, তেমনি বিরক্ত ও মানসিক চাপগ্রস্ত হচ্ছে সামুদ্রিক প্রাণীগুলো। গত এক বছরের কম সময়ে অন্তত তিনজন ইনফ্লুয়েন্সার হাঙরের কামড়ের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখুঁত ছবি তোলার জন্য হাঙরের খুব কাছে চলে যাওয়ার প্রবণতা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে
- 📌 গত এক বছরে তিনজন ইনফ্লুয়েন্সারের হাঙরের কামড়ের শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে
- 📌 ব্রাজিলের আইনজীবী তাইয়ানে দালাজেন হাঙরের কামড়ে গুরুতর আহত হন
- 📌 বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ যখন হাঙরের ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে পড়ে, তখন প্রাণীটি আত্মরক্ষামূলক কামড় দিতে পারে
- 📌 মানুষের অতিরিক্ত কাছে যাওয়া হাঙরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং মৃত্যুহার বাড়ায়
📰 বিস্তারিত
ব্রাজিলের ৩৭ বছর বয়সী আইনজীবী ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব তাইয়ানে দালাজেন গত এপ্রিলে দেশটির উপকূলে হাঙর-ডাইভিংয়ে গিয়ে এমন বিপজ্জনক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। তিনি পানির ওপর অস্বাভাবিক সংখ্যক হাঙর দেখে সন্দেহ করেছিলেন। পরে জানতে পারেন, পর্যটকদের কাছে হাঙর টেনে আনতে আয়োজকেরা প্রাণীগুলোকে খাবার দিচ্ছিলেন। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন হঠাৎ একটি সাত ফুটের বেশি লম্বা নার্স শার্ক দালাজেনের ঊরুতে কামড় বসায়। কয়েক সেকেন্ড পানির নিচে আটকে থাকার পর হাঙরটি ছেড়ে দিলে তিনি বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তাঁর ঊরুতে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। ঘটনাটির ভিডিও পরে অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
দালাজেন জানান, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য সেখানে যাননি বা হাঙরকে উত্ত্যক্ত করেননি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে তিনি প্রাণীগুলোর খুব কাছাকাছি ছিলেন। হাঙরের কামড়ে মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাঙরের সঙ্গে ছবি বা ভিডিও ধারণের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
হাঙরবিষয়ক গবেষক ক্রিস্টিয়ান পার্টন জানান, প্রতি সপ্তাহেই এমন ভিডিও তাঁর চোখে পড়ছে, যেখানে মানুষ হাঙরকে স্পর্শ করছে, খুব কাছে সাঁতার কাটছে এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাঙরের পিঠেও চড়ছে। আন্তর্জাতিক শার্ক অ্যাটাক ফাইলের গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে হাঙরের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে মানুষের কামড় খাওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ যখন হাঙরের ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে পড়ে, তখন প্রাণীটি আত্মরক্ষামূলক বা অনুসন্ধানী কামড় দিতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের স্পর্শ ও অতিরিক্ত কাছে যাওয়া হাঙরের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, যা তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, মৃত্যুহার বাড়িয়ে দেয় এবং প্রজননে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
"হাঙরকে স্পর্শ করা বা তার ওপর চড়া সংরক্ষণে কোনোভাবেই সহায়তা করে না।" — বিশেষজ্ঞ জ্যাক কুপার
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাজিলের উপকূল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাইয়ানে দালাজেন, ক্রিস্টিয়ান পার্টন, জ্যাক কুপার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৭ বছর, ৩ জন, ৭০টি, ২৪ ঘণ্টা, ৪৮ ঘণ্টা, ৭২ ঘণ্টা, ৬০ কিলোমিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!