📌 প্যারাগুয়ের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক উয়েনো ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে ৩০ লাখের আমানত স্থগিত হলে দেশের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা পদত্যাগ ঘোষণা করেন। ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়
লাতিন আমেরিকার প্যারাগুয়ে ব্যাংকিং সংকটে পতিত হয়ে ৩০ লাখের আমানত স্থগিত হলে দেশের অর্থনীতিবিদ প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এই ঘটনায় ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্যারাগুয়ের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক উয়েনো ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে ৩০ লাখের আমানত স্থগিত হয়, যা দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশের আমানতকে প্রভাবিত করেছে
- 📌 প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা (৪৭) রাজনৈতিক ও আর্থিক সংকটের মুখে পদত্যাগ ঘোষণা করেন, তিনি বলেন ‘প্রজাতন্ত্রের উপরে ব্যক্তি থাকতে পারে না’
- 📌 ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং সরকারি ও পেনশনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ৮০ থেকে ৮৫ কোটি ডলারের আমানত ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে
- 📌 জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা সরকারের কাছে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং বিরোধী দলসহ ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব জমা দিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিয়নে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময়ে সান্তিয়াগো পেনা একটি ভিডিও বার্তায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করছি, কারণ একজন ব্যক্তি বা পরিস্থিতি প্রজাতন্ত্রের উপরে থাকতে পারে না’। পেনা ২০২৩ সালের আগস্টে ক্ষমতায় আসেন এবং ২০২৮ সাল পর্যন্ত মেয়াদ পূর্ণ করতে পারতেন।
ব্যাংকিং সংকটের মূল কারণ হিসেবে উয়েনো ব্যাংককে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ব্যাংকটি ১৯৭০-এর দশকে একটি অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ২০২১ সালে গ্রুপো ভাসকেজ কোম্পানি এটি কিনে নেয় এবং ২০২৩ সালের শেষে পেনার প্রশাসনের অধীনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডিজিটাল ব্যাংক হিসেবে অনুমোদন পায়। দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এটি প্যারাগুয়ের অন্যতম বৃহৎ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
ব্যাংকটির পতনের ফলে ৩০ লাখের আমানত স্থগিত হয়ে যায়, যার মধ্যে সরকারি ও পেনশনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ৮০ থেকে ৮৫ কোটি ডলারের আমানতও রয়েছে। এই ঘটনায় ব্যাংকটির নির্বাহীদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা রাস্তায় নেমে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেন। পেনা দাবি করেন, তিনি শুধুমাত্র বিনিয়োগ করেছিলেন এবং ইতোমধ্যে নিজের সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে সরকারি ও পেনশন তহবিলের অর্থ ব্যাংকটিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উয়েনো ব্যাংক পেনার শাসনামলে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে একটি অপরিচিত ডিজিটাল ব্যাংক থেকে প্যারাগুয়ের অন্যতম বৃহৎ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ব্যাংকটি মুদি পণ্য কেনাকাটায় আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক সুবিধা দিয়ে গ্রাহক আকৃষ্ট করেছিল এবং প্যারাগুয়ের জাতীয় ফুটবল দলের স্পনসরও ছিল।
"‘প্রিয় স্বদেশবাসী, আজ আমি আমার জীবনের অন্যতম কঠিন মুহূর্তে আপনাদের উদ্দেশে কথা বলছি। প্যারাগুয়েকে হৃদয়ে ধারণ করে এবং এই বিশ্বাস থেকে যে আমাদের প্রজাতন্ত্রকে সব সময় যেকোনো ব্যক্তি বা পরিস্থিতির ঊর্ধ্বে রাখতে হবে, আমি প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি’ — সান্তিয়াগো পেনা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্যারাগুয়ে (রাজধানী আসুনসিয়ন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সান্তিয়াগো পেনা (প্রেসিডেন্ট), গ্রুপো ভাসকেজের কর্মকর্তারা, জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ লাখ (আমানতধারী), ৬০ শতাংশ (গ্রাহক), ৪৭ বছর (পেনার বয়স), ৮০-৮৫ কোটি ডলার (গভর্নমেন্ট/পেনশন আমানত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!