📌 মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল সংখ্যক সামুদ্রিক পাখির আগমন দেখা যাচ্ছে। গবেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী এল নিনোর কারণে খাদ্যের সন্ধানে চিলি ও পেরুর পাখিরা পানামায় স্থানান্তরিত হচ্ছে
মধ্য আমেরিকার দেশ পানামার রাজধানী পানামা সিটির আকাশে সম্প্রতি শত শত সামুদ্রিক পাখির চক্কর দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিরল এই দৃশ্য। কারণ, সাধারণত পানামার উপকূলে এসব পাখি খুব একটা দেখা যায় না। গবেষকদের মতে, চিলি ও পেরু থেকে আগত এসব পাখির দলবদলের কারণ প্রশান্ত মহাসাগরে চলমান শক্তিশালী এল নিনো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় সাম্প্রতিক সময়ে শত শত সামুদ্রিক পাখির আগমন ঘটেছে
- 📌 পাখিগুলো মূলত চিলি ও পেরুর উপকূল থেকে আগত
- 📌 প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী এল নিনোর কারণে খাদ্যের সন্ধানে পাখিদের স্থানান্তর ঘটছে
- 📌 চলতি বছরের জুন থেকে পানামা সিটির কাছে পেনন সে সান হোসে এলাকায় ৬০ থেকে ৪০০টি ‘ব্লু ফুটেড বুবি’ পাখি দেখা গেছে
- 📌 ২০১৪–১৬ সালের এল নিনোর সময় সেখানে ২১ থেকে ২০০টি পাখি দেখা গিয়েছিল
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশবাদী সংগঠন অডুবন সোসাইটির পরিচালক রোসাবেল মিরো জানান, খাবারের অভাবেই পাখিগুলো স্থানান্তরিত হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে এল নিনো নামে পরিচিত প্রাকৃতিক ঘটনার প্রভাব দেখা যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলের মাছগুলো খাবারের সন্ধানে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। ফলে তাদের প্রধান খাদ্য সামুদ্রিক পাখিগুলোকেও স্থানান্তরিত হতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশবাদী সংগঠন অডুবন সোসাইটির পরিচালক রোসাবেল মিরো জানান, চলতি বছরের জুন মাস থেকে পানামা সিটির কাছে পেনন সে সান হোসে এলাকায় ৬০ থেকে ৪০০টি ‘ব্লু ফুটেড বুবি’ পাখি দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এসব পাখি পরিযায়ী নয়, বরং খাদ্যের অভাবেই তারা স্থানান্তরিত হচ্ছে। এর আগে ২০১৪–১৬ সালের এল নিনোর সময় সেখানে ২১ থেকে ২০০টি পাখি দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে ২০২৩–২৪ সালের এল নিনোর সময় দেখা গিয়েছিল মাত্র ৩ থেকে ৬২টি পাখি।
গবেষকদের মতে, এল নিনোর প্রভাব শুধু পাখিদের স্থানান্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অতীতের এল নিনোগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সামুদ্রিক পাখিদের প্রজননচক্রে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ায় তাদের প্রজনন সফলতার হারও কমে গিয়েছিল। চলতি বছরের এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান রোসাবেল মিরো।
"এসব অতিথি পাখির উপস্থিতি তখনই জানান দিচ্ছিল যে প্রশান্ত মহাসাগরে এবার খুব শক্তিশালী এল নিনো হতে চলেছে। এল নিনোর প্রভাব শুধু পাখিদের স্থান বদলের মধ্যে আটকে থাকছে না। অতীতের এল নিনোগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সামুদ্রিক পাখিদের প্রজননচক্রে ব্যাঘাত ঘটায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পানামা সিটি, মধ্য আমেরিকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রোসাবেল মিরো
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ থেকে ৪০০টি (২০২৬), ২১ থেকে ২০০টি (২০১৪–১৬), ৩ থেকে ৬২টি (২০২৩–২৪)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!