📌 দখলকৃত পশ্চিম তীরের আল-মুঘাইয়ির গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ার কারণে ফিলিস্তিনি অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও নিরাপত্তাহীনতা কাটেনি। এপ্রিলে এক শিক্ষার্থীকে গুলিতে হত্যা করা হয়েছিল স্কুলের সামনে
দখলকৃত পশ্চিম তীরের আল-মুঘাইয়ির গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ার কারণে ফিলিস্তিনি অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে স্কুলে পৌঁছানোর আগেই নিরাপত্তা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। আল-মুঘাইয়ির বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাসাম আল-আসাফ জানান, শিক্ষার্থীদের আতঙ্কের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও ভয় রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আল-মুঘাইয়ির গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ায় ফিলিস্তিনি অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন
- 📌 নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে স্কুলে নিরাপত্তা বাড়াতে কাঁটাতারের বেড়া ও শক্তিশালী ফটক বসানো হয়েছে
- 📌 চলতি বছরে আল-মুঘাইয়িরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় ছয়জন নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী
- 📌 ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আওস আল-নাসানকে স্কুলের ফটকের বাইরে গুলিতে হত্যা করা হয়েছিল
- 📌 ইংরেজির শিক্ষক ওয়াহিদ আবু নাঈম জানান, শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় গুলি চালানো হয় এবং আওসকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে তিনি তাকে উল্টে দেন
- 📌 ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করে, বেসামরিক গাড়িতে পাথর নিক্ষেপের পর রিজার্ভ সেনাসদস্য গুলি চালান
- 📌 ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রিজার্ভ সেনাসদস্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
দখলকৃত পশ্চিম তীরের আল-মুঘাইয়ির গ্রামের আল-মুঘাইয়ির বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাসাম আল-আসাফ জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন ভোরের আগেই স্কুলে পৌঁছান তিনি। নিরাপত্তা বাড়াতে স্কুলজুড়ে নতুন কাঁটাতারের বেড়া এবং শক্তিশালী ফটক বসানো হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যেমন আতঙ্কে আছে, তেমনি ভয় পাচ্ছেন তাদের অভিভাবকরাও।
চলতি বছরে আল-মুঘাইয়িরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় ছয়জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে স্কুলটির তিন শিক্ষার্থীও রয়েছে। এপ্রিল মাসে স্কুলের ফটকের বাইরে এক বসতি স্থাপনকারীর গুলিতে নিহত হয় ১৪ বছর বয়সী আওস আল-নাসান। স্কুলের সামনেই এই ঘটনা ঘটে। ইংরেজির শিক্ষক ওয়াহিদ আবু নাঈম বলেন, শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় দুই শিক্ষার্থী দৌড়ে এসে জানান, স্কুলের দেয়ালের কাছে বসতি স্থাপনকারীদের দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদে স্কুলের ভেতরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন ওয়াহিদ। তখনই গুলি চালানো হয় বলে জানান তিনি।
আওসকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে তাকে উল্টে দেন ওয়াহিদ। এরপর তার মাথায় গুলি এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখেন। পরে শিশুটিকে আর বাঁচানো যায়নি। ওয়াহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপরও স্কুল ভবনের দিকে গুলি আসতে থাকে। আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের দেয়ালের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে কিংবা মেঝেতে শুয়ে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করে।
ঘটনার সময় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, ‘বেসামরিক নাগরিকদের’ বহনকারী একটি গাড়িতে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছিল। ওই গাড়িতে একজন রিজার্ভ সেনাসদস্যও ছিলেন বলে জানায় তারা। পরে ওই সেনাসদস্য গাড়ি থেকে নেমে সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে দাবি করে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে ওই রিজার্ভ সেনাকে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়।
"শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় দুই শিক্ষার্থী দৌড়ে এসে জানান, স্কুলের দেয়ালের কাছে বসতি স্থাপনকারীদের দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদে স্কুলের ভেতরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন আমি। তখনই গুলি চালানো হয়। আওসকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে তাকে উল্টে দেন। তারপর তার মাথায় গুলি এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখি।"
— ওয়াহিদ আবু নাঈম, ইংরেজির শিক্ষক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আল-মুঘাইয়ির গ্রাম, দখলকৃত পশ্চিম তীর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাসাম আল-আসাফ, ওয়াহিদ আবু নাঈম, আওস আল-নাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ বছর (আওস আল-নাসানের বয়স), ছয়জন (নিহত ব্যক্তি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!