📌 ইসরায়েলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ‘অপার্টহাইডের মতো’ শাস্তি প্রদান করছে। একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৩০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী ৪০টি প্রতিষ্ঠানে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে। অধিকাংশ শাস্তি পেয়েছেন মহিলা শিক্ষার্থীরা
ইসরায়েলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ‘অপার্টহাইডের মতো’ শাস্তি প্রদান করছে। একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ‘অপার্টহাইডের মতো’ শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে। এতে দেখা গেছে, ১৩০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী ৪০টি প্রতিষ্ঠানে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে। অধিকাংশ শাস্তি পেয়েছেন মহিলা শিক্ষার্থীরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **জাফাত একাডেমিক কলেজে** একটি ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে তার এক ভিডিও পোস্টের জন্য স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। তিনি গাজার লোকদের জন্য একটি ধর্মীয় প্রেরিতের প্রার্থনা ভিডিও পোস্ট করেছিলেন।
- 📌 **হাইফার টেকনিয়ন-ইসরায়েল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে** আরেকজন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে কুরআনের একটি আয়াত পোস্ট করার জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।
- 📌 **আদালাহ: আরব মাইনরিটি রাইটস লিগাল সেন্টার** রিপোর্টে বলেছে, ইসরায়েলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ‘দ্বি-পথের শাস্তি ব্যবস্থা’ চালু করেছে। ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীরা ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্র্যাক’-এ পড়ে যাচ্ছেন, যেখানে তাদের মৌলিক আইনি রক্ষণাবেক্ষণ বাতিল করা হয়।
- 📌 **জewish ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের** ‘কনস্টিটিউশনাল ট্র্যাক’-এ আইনি রক্ষণাবেক্ষণ রয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্র্যাক’-এ শাস্তি দেওয়া হয়।
- 📌 **গুগল ট্রান্সলেট** সহ স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের ভাষা ও সংস্কৃতি বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে।
- 📌 **আদি ম্যানসুর**, আদালাহের আইনজীবী ও ইউরোপীয় ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের পিএইচডি গবেষক বলেছেন, “এটি প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতা, যা ফিলিস্তিনি ভাষা ও সংস্কৃতির জটিলতা বুঝতে অস্বীকার করে এবং যেকোনো বিষয়কে বাদ দেয় যা জিওনিস্ট ইসরায়েলি বক্তব্যের বাইরে যায়।”
- 📌 **ইসরায়েলের শিক্ষার্থী অধিকার আইনের ১৭ নম্বর ধারা** আগে শুধুমাত্র শিক্ষাগত বিষয়ে শাস্তি দেওয়ার অনুমতি দেয়া ছিল। কিন্তু গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের জীবনের উপরও নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করেছে।
- 📌 **‘অপ্রয়োজনীয় আচরণ’ ও ‘সামাজিক শান্তি ভাঙ্গা’** মতো শব্দ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ‘স্বাভাবিক ব্যক্তির’ ধারণা ব্যবহার করে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, যা ইসরায়েলি জনগণের মনে ভাবনার উপর নির্ভর করে।
📰 বিস্তারিত
ইসরায়েলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তি প্রদান করার পদ্ধতিতে ‘অপার্টহাইডের মতো’ বৈষম্য দেখা দিয়েছে। আদালাহের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্র্যাক’ ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে তাদের মৌলিক আইনি রক্ষণাবেক্ষণ বাতিল করা হয়। অন্যদিকে, ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের ‘কনস্টিটিউশনাল ট্র্যাক’-এ আইনি রক্ষণাবেক্ষণ রয়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার যেমন গুগল ট্রান্সলেট ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের ভাষা ও সংস্কৃতি বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে না। আদি ম্যানসুর বলেছেন, “এটি প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতা, যা ফিলিস্তিনি ভাষা ও সংস্কৃতির জটিলতা বুঝতে অস্বীকার করে এবং যেকোনো বিষয়কে বাদ দেয় যা জিওনিস্ট ইসরায়েলি বক্তব্যের বাইরে যায়।”
ইসরায়েলের শিক্ষার্থী অধিকার আইনের ১৭ নম্বর ধারা আগে শুধুমাত্র শিক্ষাগত বিষয়ে শাস্তি দেওয়ার অনুমতি দেয়া ছিল। কিন্তু গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের জীবনের উপরও নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করেছে। তারা ‘অপ্রয়োজনীয় আচরণ’ ও ‘সামাজিক শান্তি ভাঙ্গা’ মতো শব্দ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া শুরু করেছে। এছাড়া ‘স্বাভাবিক ব্যক্তির’ ধারণা ব্যবহার করে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, যা ইসরায়েলি জনগণের মনে ভাবনার উপর নির্ভর করে।
"এই ‘স্বাভাবিক ব্যক্তি’ এবং ‘বুদ্ধিমান ব্যক্তি’ ধারণা মূলত ইসরায়েলি জনগণের মনে ভাবনার উপর নির্ভর করে। ফলে শিক্ষার্থীদের কী ধরনের বক্তব্য অনুমোদিত হবে তা স্পষ্ট নয়।"
আদালাহের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তি প্রদান করার সময় তাদের পরিচয় ও পরিচয়করণের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যেমন, একটি কমিটি একটি শিক্ষার্থীর গাজার শিশুদের সাথে সম্পর্কের প্রশ্ন তুলে বলেছে, “তুমি কেন ইসরায়েলি শিশুদের সাথে সম্পর্কের কথা বলছ না?”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় (জাফাত একাডেমিক কলেজ, টেকনিয়ন-ইসরায়েল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আদি ম্যানসুর, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩০ জন (শিক্ষার্থী), ৪০টি (বিশ্ববিদ্যালয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!