📌 জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহর সাংবাদিক নিধি রাজদানের সাথে বিবাহে ইসলামী নেতা মুফতি শাহাবুদ্দিন তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ের জন্য উভয় পক্ষই মুসলিম হতে হবে। বিবাহটি বিশেষ বিবাহ আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে
জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহর সাংবাদিক নিধি রাজদানের সাথে বিবাহে ভারতের ইসলামী নেতা মুফতি শাহাবুদ্দিন বেরেলভি তীব্র ধর্মীয় বৈধতার প্রশ্ন তুলেছেন। এই বিবাহ সম্পর্কে আপত্তি জানিয়ে তিনি দাবি করেছেন, ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী এই বিয়ের বৈধতা নেই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুফতি শাহাবুদ্দিন বলেছেন, ওমর আব্দুল্লাহ মুসলিম হলেও নিধি রাজদান মুসলিম নন, তাই বিয়েটি শরিয়তসম্মত নয়।
- 📌 ৩১ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওমর ও নিধি তাদের বিবাহের কথা ঘোষণা করেন।
- 📌 বিয়েটি দিল্লির বিশেষ বিবাহ আদালতে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের অধীনে সম্পন্ন হয়েছে, যা ধর্মীয় রীতি মেনে চলার প্রয়োজন নেই।
- 📌 ৩০ অক্টোবর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।
- 📌 ন্যাশনাল কনফারেন্স বলেছে, এটি ওমর আব্দুল্লাহর ব্যক্তিগত বিষয়, দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির সাথে সম্পর্ক নেই।
📰 বিস্তারিত
মুফতি শাহাবুদ্দিন বেরেলভি বলেছেন, ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, বর ও কনে উভয়কেই মুসলিম হতে হবে। ওমর আব্দুল্লাহ মুসলিম হলেও নিধি রাজদান মুসলিম নন। তাই এই বিয়ে শরিয়তসম্মত নয়। তিনি আরও বলেছেন, বিয়ের আগে নিধিকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানো উচিত ছিল। যদি নিধি ইসলাম গ্রহণ করতেন এবং তারা ইসলামী রীতি মেনে বিয়ে করতেন, তবে শরিয়াহ অনুযায়ী এই বিয়ে বৈধ হত।
ওমর আব্দুল্লাহ ও নিধি রাজদান ৩১ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিবাহের কথা ঘোষণা করেন। ওমর তাদের একাধিক ছবি পোস্ট করে নতুন যাত্রা শুরু করার কথা জানান। জানা গেছে, ৩০ অক্টোবর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে হয়। তবে এই বিবাহটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ‘নিকাহ’র মাধ্যমে নয়, বরং দিল্লির বিশেষ বিবাহ আদালতে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের অধীনে সম্পন্ন হয়েছে।
স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৯৫৪ হলো ভারতীয় আইনের একটি বিশেষ বিধান, যা ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের পার্থক্য ভুলে যেকোনো দুজন পূর্ণবয়স্ক নাগরিককে আইনিভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অধিকার দেয়। এই আইনের অধীনে বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য কোনো পক্ষকেই নিজের ধর্ম পরিবর্তন করতে হয় না বা কোনো ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতে হয় না। নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই বিবাহ সম্পন্ন হয়।
"ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত রয়েছে, যার অন্যতম হলো—বর ও কনে উভয়কেই মুসলিম হতে হবে। যদি তাদের মধ্যে একজনও মুসলিম না হন, তবে সেই বিয়ে বৈধ বলে গণ্য হতে পারে না।"
ওমর আব্দুল্লাহর এই বিবাহ ও দিল্লি-শ্রীনগরের উদযাপনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তার দল ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এনসি’র প্রাদেশিক সভাপতি শওকত আহমেদ মীর বলেছেন, এটি ওমর আব্দুল্লাহর ব্যক্তিগত জীবন। প্রতিটি মানুষেরই নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার রয়েছে এবং এর সাথে দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নেই।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জম্মু-কাশ্মীর (ভারত), দিল্লি (ভারত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুফতি শাহাবুদ্দিন বেরেলভি, ওমর আব্দুল্লাহ, নিধি রাজদান, শওকত আহমেদ মীর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ অক্টোবর (বিবাহ অনুষ্ঠান), ৩১ অক্টোবর (বিবাহ ঘোষণা), ২ অক্টোবর (মন্তব্য প্রকাশ), ৩০ দিন (স্পেশাল ম্যারেজ আইনের নোটিশ সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!