📌 ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নির্বাচনের প্রাথমিক ফল প্রকাশের পর বলেছেন, ইসরাইলের অস্তিত্বের বিরোধী আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করা সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেছেন, তার সরকার মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা চিত্র বদলে দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকার গঠনের জন্য জোটবদ্ধ হওয়া হবে
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নির্বাচনের প্রাথমিক ফল প্রকাশের পর পশ্চিম জেরুজালেমে নিজ দল লিকুদের সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। তিনি দাবি করেছেন, ইসরাইলের অস্তিত্বের বিরোধী আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করা সম্ভব নয়। নেতানিয়াহু বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডানপন্থী সরকার গঠন করা জরুরি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮৪ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দ্য টাইমস অব ইসরাইলের পূর্বাভাসে নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে, অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের জোটের আসনসংখ্যা হতে পারে ৪৯।
- 📌 লিকুদ দল ইসরাইলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে, তবে সরকার গঠনের জন্য জোটবদ্ধ হওয়া হবে।
- 📌 নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তার সরকার মধ্যপ্রাচ্যের চিত্র বদলে দিয়েছে। হামাস ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যা, গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার নিরাপত্তা বলয় প্রতিষ্ঠা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
- 📌 রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর জোটের সামনে সরকার গঠনের জন্য জোটের সমীকরণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- 📌 সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিঙ্কাস বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে কোনো দলকে অস্বস্তিকর জোট আলোচনায় যেতে হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার পশ্চিম জেরুজালেমে নিজ দল লিকুদের সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, নির্বাচনের ‘প্রকৃত ফল’ জানতে আরও এক-দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী লিকুদই হতে যাচ্ছে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। চ্যানেল ১২ ও ১৩-এর পূর্বাভাসে দলটির আসনসংখ্যা ২৭ এবং আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির আসনসংখ্যা ২১ হতে পারে বলে জানানো হয়।
বক্তব্যে নেতানিয়াহু ২০২২ সালে বর্তমান মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর নিজের সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার সরকার মধ্যপ্রাচ্যের চিত্র বদলে দিয়েছে। হামাস ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যার পাশাপাশি গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার গভীরে নিরাপত্তা বলয় প্রতিষ্ঠা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল এবং ইসরাইল আরও শক্তিশালী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য জোটের সমীকরণ নেতানিয়াহুর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সাবেক ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিঙ্কাসের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে কোনো দলকে অস্বস্তিকর জোট আলোচনায় যেতে হতে পারে। তবে বিরোধী ভোটাররা নেতানিয়াহুর জোটের সঙ্গে সমঝোতা মেনে নিতে চাইবেন না। আল-জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা মনে করেন, বক্তব্যে নেতানিয়াহু নিজের দলের নির্বাচনী অবস্থানকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, লিকুদ সবচেয়ে বড় দল হলেও ২০০৯ সালের পর দলটি সবচেয়ে কম আসন পাওয়ার পরিস্থিতিতে রয়েছে—যা আড়াল করার চেষ্টা করেছেন নেতানিয়াহু।
"দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর প্রাথমিক ফল প্রকাশের সময় আমি বলেছি, ইসরাইলের অস্তিত্বের বিরোধী আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করা সম্ভব নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পশ্চিম জেরুজালেম (লিকুদ সদর দপ্তর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, গাদি আইজেনকোট, অ্যালন পিঙ্কাস, মারওয়ান বিশারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৪ শতাংশ (ভোট গণনা), ৫৪টি আসন (লিকুদ জোট), ৪৯টি আসন (আইজেনকোট জোট), ২৭টি আসন (লিকুদ), ২১টি আসন (ইয়াশার পার্টি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!