📌 জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে ফ্যাসিস্টদের অনুপ্রবেশ ঘটলে সরকারের দায়িত্ব। তিনি সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা ও বিএনপির ক্ষমতায়নকে সমালোচনা করেছেন
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে যৌক্তিক উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সরকারের দায়িত্বের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, যদি এই আন্দোলনে ফ্যাসিস্টদের অনুপ্রবেশ ঘটে থাকে, তবে এর সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। মঙ্গলবার বিকেলে পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দলীয় কর্মী সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে সরকারের আগেভাগেই সমাধান করতে পারলে বড় আকার ধারণ করতে হত না
- 📌 ফ্যাসিস্টদের অনুপ্রবেশ ঘটলে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতার দায়িত্ব নিতে হবে
- 📌 সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা বিরোধী দলের নজরদারি করে কিন্তু দেশের শত্রুদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে না
- 📌 বিএনপি সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা দেখিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় আন্দোলন মোকাবিলায় দক্ষতা নেই
- 📌 ১১-দলীয় জোটের বাইরে এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে
- 📌 ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগের যে ফ্যাসিস্ট অপপ্রচার চলছে, তা রাজপথে প্রতিহত করা হবে
- 📌 গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সরকার নতুন চুক্তি নবায়ন করতে ব্যর্থ, ভারতকে করিডোর দেওয়ার পরিকল্পনা করছে
📰 বিস্তারিত
পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত দলীয় কর্মী সভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, দুই সপ্তাহ ধরেই পোশাক খাতে মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের সম্ভাবনা ছিল। তিনি সরকারকে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আগেভাগেই মজুরি পুনর্নির্ধারণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো ন্যায্য আন্দোলনকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দায় এড়ানো যাবে না।
নাহিদ ইসলাম সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমালোচনা করে বলেন, ‘বিরোধী দল কে কোথায় যাচ্ছে, বসছে, কী করছে তা নজরদারিতে ব্যস্ত, কিন্তু দেশের শত্রুরা কী করছে, সে বিষয়ে তাদের কোনো খোঁজ নেই।’ তিনি ক্ষমতাসীন দল বিএনপিকে সমালোচনা করে বলেন, ‘সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বিএনপির আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে রাখা হয়েছে। তারা স্পেস দেওয়ায় যদি আওয়ামী লীগ সুযোগ নেয়, তবে তার দায়ও বিএনপিকে নিতে হবে।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, গত আট মাসে সরকার পরিচালনায় বিএনপি পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও আন্দোলন মোকাবিলার দক্ষতা সরকারের নেই। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কীভাবে আন্দোলন সমঝোতার মাধ্যমে নিরসন করা হয়েছিল, তা সবাই দেখেছে। সরকারের ওপর জনগণের আস্থা না থাকায় আন্দোলন থামছে না।
রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে তিনি জানান, ১১-দলীয় জোট সাংসদীয় জোট হিসেবে থাকলেও আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি স্বতন্ত্র ও এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তিনি বলেন, সারা দেশে আঞ্চলিক সমাবেশের মাধ্যমে দলকে সেই লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, ডিসেম্বর নিয়ে যে অপপ্রচার চলছে, তা রাজপথে প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের মতো ডিসেম্বর সব সময় জনগণেরই থাকবে।’ গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের ‘নতজানু’ পররাষ্ট্রনীতির কারণে নতুন চুক্তি তো দূরের কথা, মেয়াদ নবায়নও করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, উল্টো ভারতকে কীভাবে করিডোর দেওয়া যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
"যদি এতে কোনো গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে থাকে, তবে তা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চরম ব্যর্থতা। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিরোধী দল কে কোথায় যাচ্ছে, বসছে, কী করছে তা নজরদারিতে ব্যস্ত, কিন্তু দেশের শত্রুরা কী করছে, সে বিষয়ে তাদের কোনো খোঁজ নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাহিদ ইসলাম (এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ (১১-দলীয় জোট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!