📌 উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মুখে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহে নতুন রণকৌশল অবলম্বন করছে। বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের চুরির ঘটনায় তাদের ভূমিকা আবারো আলোচিত হয়েছে
উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মুখে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহে নতুন রণকৌশল অবলম্বন করছে। বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের চুরির ঘটনায় আবারো তাদের সক্রিয় ভূমিকা উঠে এসেছে। এছাড়াও, তারা বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী প্রেরণ ও অর্থ পাচারের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা ২০২৫ সালে অন্তত ২০০ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি
- 📌 বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের ভূমিকা আবারো আলোচিত হয়েছে
- 📌 চুরি করা অর্থের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির যোগসূত্র রয়েছে
- 📌 চীনসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় উত্তর কোরিয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি পাচার করে প্রচলিত মুদ্রায় রূপান্তর করছে
- 📌 উত্তর কোরিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আয় ও ক্রিপ্টো চুরির অর্থ পাচারে অন্তত ১৫টি চীনা ব্যাংক ব্যবহার করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বিশ্বের বড় বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ও ডিজিটাল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালিয়ে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা অন্তত ২০০ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে। এতে দেখা যায়, আগের বছরের তুলনায় এই অঙ্ক ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের চুরি করা ক্রিপ্টো সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬৭৫ কোটি মার্কিন ডলার।
বাইন্যান্সে হামলার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগের তুলনায় হামলার সংখ্যা কমলেও চুরি করা অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। অর্থাৎ উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা এখন রীতিমতো পুকুর চুরিতে নেমেছে। চুরির অর্থ যাচ্ছে কোথায় তা নিয়ে বিশ্লেষকদের সতর্কতা রয়েছে।
চুরি করা ক্রিপ্টোকারেন্সি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় ব্যবহারযোগ্য অর্থে রূপান্তর করা উত্তর কোরিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য তারা একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেট, বিভিন্ন ব্লকচেইন, ক্রিপ্টো বিনিময় ও অর্থ পাচারের মধ্যস্থতাকারী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের উদ্যোগে গঠিত বহুপক্ষীয় নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দল (এমএসএমটি) ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, চুরি করা ক্রিপ্টোকারেন্সি পাচারে চীনসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মধ্যস্থতাকারীদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উত্তর কোরিয়া।
চীন, রাশিয়া, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় চুরি করা ডিজিটাল সম্পদ প্রচলিত মুদ্রায় রূপান্তর করে উত্তর কোরিয়া। এ ক্ষেত্রে চীনের ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) ব্যবসায়ীদের ওপর তাদের নির্ভরতা বেশি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৌশলগত গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রথমে চুরি করা ক্রিপ্টোকারেন্সি একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হয়। এরপর বিভিন্ন ক্রিপ্টো বিনিময়ব্যবস্থা ও ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অর্থের উৎস আড়াল করার চেষ্টা চলে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্রিপ্টো মিক্সার ব্যবহারের মাধ্যমে একাধিক লেনদেনের অর্থ একত্র করে আবার ভাগ করা হয়। শেষ পর্যায়ে তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় তা ডলার বা অন্য প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করা হয়।
"উত্তর কোরিয়ার ক্রিপ্টো চুরির ঘটনা বিচ্ছিন্ন কিছু হ্যাকারের অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিভিন্ন দেশের সরকারি তদন্ত ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দেশটির রাষ্ট্রীয় সাইবার ইউনিটের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তর কোরিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, রাশিয়া, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, সংযুক্ত আরব আমিরাত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা, বিশ্লেষকেরা, সিএসআইএস গবেষকরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার (বাইন্যান্স থেকে চুরি), ২০০ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (২০২৫ সালে চুরি), ৬৭৫ কোটি মার্কিন ডলার (মোট চুরি), ৫১ শতাংশ (বৃদ্ধি), ১৫টি চীনা ব্যাংক (অর্থ পাচারে ব্যবহৃত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!