📌 মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) কর্মকর্তারা জমি জরিপে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। কাজ অসমাপ্ত রেখে তারা এলাকা ছেড়ে গেছেন, যার ফলে অনেকের জমি রেকর্ডভুক্ত হয়নি
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) কর্মকর্তারা জমি জরিপের কাজে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জমির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগে সার্ভেয়াররা কাজ অসমাপ্ত রেখে এলাকা ছেড়ে গেছেন। স্থানীয়রা দাবি করছেন, টাকা না দিলে জমি রেকর্ডভুক্ত করা হয় না এবং অন্যের জমি অন্যের নামে রেকর্ড করার ঘটনা ঘটেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিংগাইরে বিডিএস কর্মকর্তারা জমি জরিপে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে
- 📌 জমির মালিকদের দাবি: প্রতি শতাংশ জমি রেকর্ড করতে ৩০ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে
- 📌 কাজ অসমাপ্ত রেখে সার্ভেয়াররা এলাকা ছেড়ে গেছেন, যার ফলে অনেকের জমি রেকর্ডভুক্ত হয়নি
- 📌 স্থানীয়রা দাবি করছেন, টাকার বিনিময়ে অন্যের জমি অন্যের নামে রেকর্ড করা হয়েছে
- 📌 সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, জমি জরিপে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করা হবে
📰 বিস্তারিত
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চন্দহর ইউনিয়নের ফতেহপুর মৌজা এবং বিনোদপুর বড়খণ্ড মৌজায় বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) কর্মকর্তারা জমি জরিপ ও রেকর্ড তৈরির কাজ করছিলেন। তবে স্থানীয়রা দাবি করছেন, জমির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার মাধ্যমে কাজটি পরিচালিত হচ্ছে। বার্তা গ্রামের মো. সিরাজের বাবা ও চাচাদের নামে আড়াই বিঘা জমি রয়েছে। সিরাজ বলেন, জমির দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার প্রতি শতাংশের জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘জমির দামই যেখানে প্রতি শতাংশ ৩০ হাজার টাকা, সেখানে সার্ভেয়ারদের ৩০ হাজার টাকা করে দিলে জমি রাখব কীভাবে?’
একই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ১০ শতাংশ জমি রেকর্ড করতে ৯ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি বলেন, একই দাগে তাঁর ভাবির জমি রেকর্ড করতে এক দালালের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। ফতেহপুর গ্রামের রুহুল আমিনের দাবি, তাঁর জমির দলিল ও দখল তাঁর নামে থাকলেও প্রায় ছয় শতাংশ জমি অন্যের নামে রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, টাকার বিনিময়ে এ কাজ করা হয়েছে বলে তিনি রেকর্ড সংশোধনের জন্য বিভিন্ন অফিস-আদালতে সংশ্লিষ্টদের খুঁজছেন।
সার্ভেয়ার আলাউদ্দিন বলেন, তাঁদের কাজ আপাতত শেষ হয়েছে এবং কয়েক মাস পর আবার জরিপের কাজ শুরু হবে। তিনি দাবি করেন, মাঠপর্যায়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুন্নাহার পপি বলেছেন, ‘জমি জরিপের কাজে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
"জমির দামই যেখানে প্রতি শতাংশ ৩০ হাজার টাকা, সেখানে সার্ভেয়ারদের ৩০ হাজার টাকা করে দিলে জমি রাখব কীভাবে?" — মো. সিরাজ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিংগাইর উপজেলা, মানিকগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. সিরাজ, হাবিবুর রহমান, রুহুল আমিন, সার্ভেয়ার আলাউদ্দিন, খাইরুন্নাহার পপি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ হাজার টাকা (প্রতি শতাংশ), ৯ হাজার টাকা, ১০ শতাংশ জমি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!