📌 জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যুবসমাজ বাংলাদেশের প্রাণশক্তি ও উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। তিনি উল্লেখ করেছেন, ৮০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ২৫ লাখ আত্মকর্মসংস্থিত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৮৬১ কোটি টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে
জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (৩১ অক্টোবর) একটি বাণীতে বলেছেন, যুবসমাজ বাংলাদেশের প্রাণশক্তি ও দেশের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। তিনি স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে জাতীয় সংকট মোকাবিলা এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের অবদানকে অনস্বীকার্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যুবসমাজ যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি।
- 📌 ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠিত হয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
- 📌 ১৯৮১ সালে তৃণমূল পর্যায়ে যুব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- 📌 সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে দেশের সব জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেন।
- 📌 যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ৮০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যার মধ্যে ২৫ লাখ আত্মকর্মসংস্থিত হয়েছে।
- 📌 ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
- 📌 জাতীয় যুব পুরস্কারে এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী ও যুব সংগঠককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
- 📌 সরকার ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে।
- 📌 এই বছর জাতীয় যুব দিবসের প্রতিপাদ্য: ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।
📰 বিস্তারিত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি স্মরণ করেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতি গঠনে যুবসমাজের সম্ভাবনা উপলব্ধি করে ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এই মন্ত্রণালয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নামে পরিচিতি লাভ করে।
তিনি আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৮১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেন। তিনি দেশের সব জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ আত্মকর্মসংস্থিত হয়েছে এবং মাসে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। তিনি আরও বলেন, যুব উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
জাতীয় যুব পুরস্কারকে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নারী-পুরুষ ও যুব সংগঠককে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তিনি এই বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য যুবসমাজের কাছে অপরিহার্য। তিনি দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তরুণদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে বলেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি অনলাইনে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণে যুবসমাজের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় তরুণরা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান রাখছেন। তিনি স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিদেশি ভাষা শিক্ষা এবং নতুন সম্ভাবনাময় খাতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সরকার ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে। সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলো যাতে অর্থের অভাবে ব্যর্থ না হয়, সে লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি যুবসমাজকে নিজেদের প্রতিভা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
"দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ' — এই প্রতিপাদ্যে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় যুবসমাজ ক্রমবর্ধমানভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ লাখ (প্রশিক্ষিত তরুণ-তরুণী), ২৫ লাখ (আত্মকর্মসংস্থিত), ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা (যুবঋণ), ৫৪৬ জন (পুরস্কারপ্রাপ্ত), ৫০০ কোটি টাকা (স্টার্টআপ তহবিল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!