📌 নেপালের হিমবাহধসে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি। তিন হাজার মানুষ নিখোঁজ। দেয়ালে সাঁটানো ছবির মাধ্যমে স্বজনদের খোঁজাখুঁজি। মৃতদেহ শনাক্তে চ্যালেঞ্জ। ভারত থেকেও উদ্ধার হয়েছে কয়েকটি মৃতদেহ
নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের দেয়ালজুড়ে অসংখ্য ছবি। স্কুল ইউনিফর্ম পরা কিশোরী থেকে শুরু করে বিয়ের দিনের দম্পতি—সবার মুখেই একই আর্তি। তাদের কেউ খুঁজে পাননি নিজেদের প্রিয়জনকে। হিমবাহধসের কারণে সৃষ্ট প্রলয়ংকরী ঢলে পুরো গ্রাম ভেসে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার
- 📌 নেপালে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৭৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে
- 📌 চিতওয়ান শহরের মর্গগুলোতে মৃতদেহ সংরক্ষণে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী ভবন
- 📌 কিছু মৃতদেহ ভারত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রবল স্রোতের কারণে
- 📌 স্বজনদের ভিড় কমেনি ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে
📰 বিস্তারিত
গত শনিবার সকাল পর্যন্ত নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন হাজারে পৌঁছেছে। নেপালে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকায় এখনো সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ছাড়া পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। কাদামাটির নিচে আরও কত মানুষ চাপা পড়ে আছে তা কেউ বলতে পারছেন না।
চিতওয়ান শহরের মর্গগুলোতে বিপুলসংখ্যক মৃতদেহ সংরক্ষণে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মৃতদেহ রাখার জন্য তৈরি করতে হয়েছে অস্থায়ী ভবন। প্রবল স্রোতে কিছু মরদেহ এত দূরে ভেসে গেছে যে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে প্রতিবেশী ভারত থেকে।
ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে স্বজনদের ভিড় কমেনি। পুলিশ ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে একের পর এক মানুষ পরিবারের নিখোঁজ সদস্যদের নাম নিবন্ধন করছেন। প্রিয়জনেরা বেঁচে আছেন—এ আশায় হাসপাতালের ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শত শত আহত ব্যক্তির তালিকায় চোখ বুলিয়ে কেউ খুঁজছেন বাবা, কেউ সন্তান, কেউ স্বামী কিংবা ভাইকে।
"আমরা স্তব্ধ হয়ে গেছি। আমরা কতটা দুঃখিত ও বিধ্বস্ত, তা বলার মতো ভাষা নেই। আমাদের প্রধান লক্ষ্য এখন ছোট্ট সিজানকে খুঁজে বের করা। সে ছিল এত মিষ্টি আর নিষ্পাপ; সে আর আমাদের সঙ্গে নেই—এ কথা ভাবাও আমাদের পক্ষে অসম্ভব।"
রাসুয়া জেলার জায়দাদা গ্রামে থাকতেন ইয়াভরাজ লামার বোন, তাঁর স্বামী ও তাঁদের দুই সন্তান। পুরো গ্রাম ঢলের পানিতে ভেসে গেছে। সেই সময় থেকে নিখোঁজ লামার চার স্বজন। এক বছর বয়সী শিশু সিজান তাওয়াংয়ের ছবি দেয়ালে সাঁটানোর সময় চোখে পানি চলে আসে লামার। ছবিতে শিশু সিজান তার মায়ের কোলে। পাশেই সাঁটানো তার ১২ বছর বয়সী ভাই সাহিলের ছবি।
"আমাদের পরিবার ভয়াবহ মানসিক চাপের মধ্যে আছে। এতগুলো মানুষ হারিয়ে যাওয়ার পরও আমরা তাদের খুঁজে পাবো বলে আশা করছি।"
৩৬ বছর বয়সী তুলমায়া তামাং হাসপাতালে এসেছেন তাঁর পরিবারের ১২ সদস্যের কয়েকজনের ছবি নিয়ে। তাঁদের মধ্যে আছে তাঁর পাঁচ মাস বয়সী ভাতিজিও। সবাই রাসুয়ার একটি গ্রামে থাকতেন। দুর্যোগের পর থেকে তাঁদের কারও খোঁজ নেই।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপাল ও তিব্বত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইয়াভরাজ লামা, তুলমায়া তামাং
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ হাজার (নিখোঁজ), ৬৭৫ (উদ্ধারকৃত মৃতদেহ), ১২ (পরিবারের সদস্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!