📌 নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হলেও, একটি মার্কিন দম্পতি শেষ মুহূর্তে এভারেস্ট দেখার সিদ্ধান্ত নিলে বেঁচে যায়। তারা ৪৭ সদস্যের দলের একমাত্র বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি। নেপালের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের সমান হতে পারে
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া থেকে আসা একটি মার্কিন দম্পতি শেষ মুহূর্তে একটি সিদ্ধান্ত নিলে জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়। মিতা ও হেমন্ত পারিখ নামের এই দম্পতি নেপালের সুয়ানি এলাকার বাসিন্দা। তারা আগস্ট মাসে পবিত্র কৈলাস পর্বত তীর্থযাত্রায় যান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যবিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বন্যার দিন তারা দল থেকে আলাদা হয়ে এভারেস্ট দেখার সিদ্ধান্ত নিলে বেঁচে যান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিতা ও হেমন্ত পারিখ নামের মার্কিন দম্পতি নেপালের বন্যায় বেঁচে যান, কারণ তারা দল থেকে আলাদা হয়ে এভারেস্ট দেখার সিদ্ধান্ত নেন।
- 📌 বন্যায় ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ৫ হাজার নিখোঁজ। তাদের মধ্যে ৮০ জন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন।
- 📌 দম্পতির সাথে যাওয়া ৪৭ সদস্যের দলের কেউ বেঁচে যায়নি। তাদের মধ্যে ৭ জন গাইডও নিখোঁজ রয়েছেন।
- 📌 বন্যায় ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, সেতু, সড়ক ও কৃষিজমি ধ্বংস হয়েছে। পুনর্গঠনে ৫০০ কোটি ডলার খরচ হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
- 📌 নেপালের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় মৃতের সংখ্যা ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের সমান হতে পারে, যেখানে ৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
মিতা ও হেমন্ত পারিখের সিদ্ধান্তটি ছিল শেষ মুহূর্তের একটি অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত। তারা সাধারণত এমন অতিরিক্ত ভ্রমণে যেতেন না, কিন্তু এবার তারা একসাথে এভারেস্ট দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হেমন্ত সিবিএস আটলান্টাকে বলেন, তিনি পর্বতারোহণ করতে পারেন না, কিন্তু অন্তত দূর থেকে এভারেস্ট দেখতে চেয়েছিলেন। বন্যার দিন তারা দল থেকে আলাদা হয়ে এভারেস্টের দিকে যান। সেই সিদ্ধান্তই তাদের জীবন বাঁচিয়ে দেয়।
২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় একটি হিমবাহ ধসে পড়লে ভয়াবহ বন্যা হয়। কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই দ্রুতগতিতে পানি, পাথর ও কাদামাটি নেমে এসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এই তীর্থযাত্রায় মিতা ও হেমন্ত ১৫ বছর ধরে পরিকল্পনা করছিলেন। মিতা বলেন, এটি ছিল তাদের জীবনের একটি ইচ্ছা, যা তারা নিজেরা বেছে নেননি, বরং সময়ই তাদের সেখানে নিয়ে গিয়েছিল।
বন্যায় নিহতদের মধ্যে অন্তত ৮০ জন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। তাদের সাথে যাওয়া ৪৭ সদস্যের দলের কেউ বেঁচে যায়নি। দম্পতির সাথে থাকা ৭ জন গাইডও নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত ভয়াবহ। নেপালের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় মৃতের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের সমান হতে পারে। ওই ভূমিকম্পে ৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। বন্যায় কৃষিজমি, সেতু, সড়ক, ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং পুরোপুরি কিছু গ্রাম ধ্বংস হয়েছে। নেপাল পুনর্গঠনে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার খরচ করতে হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ভবনগুলোর ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করতে প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার প্রয়োজন হবে।
"এভারেস্ট পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত। আমি পর্বতারোহণ করতে পারবো না, কিন্তু অন্তত দূর থেকে এভারেস্ট দেখে আসতে চেয়েছিলাম।" — হেমন্ত পারিখ, সিবিএস আটলান্টাকে বলেন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপাল (সুয়ানি, নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকা), যুক্তরাষ্ট্র (জর্জিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিতা ও হেমন্ত পারিখ (মার্কিন দম্পতি), নেপালের অর্থমন্ত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার ৪০০ জন (নিহত), ৫ হাজার (নিখোঁজ), ৮০ জন (মার্কিন নাগরিক), ৪৭ সদস্য (দল), ৭ জন (গাইড), ১৫ বছর (পরিকল্পনা), ৯ হাজার (২০১৫ সালের ভূমিকম্পে নিহত), ১২টি (জলবিদ্যুৎ প্রকল্প), ৫০০ কোটি ডলার (পুনর্গঠনের খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!