📌 বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মাত্র ৩০ লাখ টাকায় সফলভাবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হচ্ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের বোন-বোনের মধ্যে লিভার দান করে নিজের বোনকে জীবন দান করেছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রতি বছর ১ হাজার রোগীর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হলেও দেশে এখনই সম্ভব এই বিপ্লবী চিকিৎসা
বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত পরিবারের বোন-বোনের মধ্যে লিভার দান করে নিজের বোনকে জীবন দান করেছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মাত্র ৩০ লাখ টাকায় সফলভাবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের মাধ্যমে এই বিপ্লবী চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে। এই চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বাইরে যেতে না পেরে মৃত্যুর মুখে পড়া অনেক রোগীকে জীবন দান করা সম্ভব হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাগেরহাটের ১৭ বছর বয়সী ইসমত আরাকে তার ২৪ বছর বয়সী বোন আয়েশা লিভার দিয়েছেন, ট্রান্সপ্ল্যান্টের পর উভয়েই সুস্থ
- 📌 নারায়ণগঞ্জের সুমাইয়া তার বাবাকে লিভার দিয়েছেন, সরকারি অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছে ট্রান্সপ্ল্যান্ট
- 📌 ঢাকার বনশ্রীতে থাকা জোসনা বেগম তার ছেলেকে লিভার দিয়েছেন, সফলভাবে সুস্থ হয়ে উঠেছেন
- 📌 বিএমইউতে মাত্র ৩০ লাখ টাকায় লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সুযোগ, দেশের বাইরে যেতে না পেরে মৃত্যুর মুখে পড়া রোগীদের জীবন বাঁচানো সম্ভব
- 📌 বাংলাদেশে প্রতি বছর ১ হাজার রোগীর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন, কিন্তু প্রতি বছর মাত্র ২২ থেকে ২৫ হাজার লিভার সিরোসিস ও ক্যানসারে মৃত্যু হয়
- 📌 বিএমইউ লক্ষ্য মাসে দু’টি এবং বছরে ২৪টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা, এ পর্যন্ত ছয়টি সফল ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মাত্র ৩০ লাখ টাকায় সফলভাবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি বিপ্লব সৃষ্টি হয়েছে। এই হাসপাতালে সম্প্রতি ছয়টি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে বোন-বোনের মধ্যে লিভার দানের ঘটনাও রয়েছে। বাগেরহাটের ১৭ বছর বয়সী ইসমত আরাকে তার ২৪ বছর বয়সী বোন আয়েশা লিভার দিয়েছেন। ইসমতের লিভার সিরোসিস ধরা পড়ার পর চিকিৎসকরা বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে রেফার করে। পরে সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার সময় লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সুযোগ জানানো হয়। আয়েশা তার বোনকে লিভার দিয়েছেন এবং উভয়েই সুস্থ আছেন।
নারায়ণগঞ্জের সুমাইয়া তার বাবাকে লিভার দিয়েছেন। সুমাইয়া জানিয়েছেন, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জ সদরে থাকি। সেখান থেকে এই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা করিয়াছি এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আমার বাবার লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে। আমি আবার বাবাকে লিভার দিয়েছি। গত ৩ জুলাই আমাদের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হয়।’ সুমাইয়া বলেন, ‘এ জন্য আমাদের কাছ থেকে কোনো খরচ রাখা হয়নি। এটা আমাদের সরকারিভাবে করেছে। তবে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার পর কয়েক লাখ টাকার ওষুধ লাগছে। সেগুলো আমাদের দিতে হয়েছে।’
ঢাকার বনশ্রীতে থাকা জোসনা বেগম তার ছেলেকে লিভার দিয়েছেন। জোসনা বলেন, ‘আমি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করাতে প্রথমে চাইনি। কিন্তু আমাকে বলল যে, আমার অনেক বড় সমস্যা হয়েছে, এটা না করলে আরও বেড়ে যাবে। পরে আমাকে সাহস দিলে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করানোর সম্মতি দিই। আমি সুস্থ আছি এবং হাসপাতালের প্রতিও আমি খুবই সন্তুষ্ট।’
বিএমইউর হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়াটিক ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক (ডা.) বিধান সি. দাস বলেছেন, ‘কেউ এলেই যে তিনি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করতে পারবেন বিষয়টি কিন্তু তা নয়। আমরা অনেক রোগী থেকে বাছাই করে ৫০ জন নিয়েছি। পরে সেখান থেকে বেছে আমরা দু’জন নিয়েছি। এত বড় সার্জিক্যাল জার্নিটা খুব সহজ নয়।’
"আমাদের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটে। সেখানে চিকিৎসক আমাদের বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতাল রেফার করে। পরে এখানে এসে চিকিৎসা নিলে হাসপাতাল থেকে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের কথা বলা হয়। আমি আমার বোনকে লিভার দিয়েছি। আমরা প্রায় ২৯ দিন হাসপাতালে ছিলাম। বর্তমানে আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না, আমরা দু’জন খুবই সুস্থ জীবন যাপন করছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল), বাগেরহাট, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকার বনশ্রী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইসমত আরা (১৭), আয়েশা (২৪), সুমাইয়া, জোসনা বেগম, ডা. মো. শাহিনুল আলম, ডা. বিধান সি. দাস, অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ লাখ টাকা (লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের খরচ), ১৭ বছর (ইসমত আরার বয়স), ২৪ বছর (আয়েশার বয়স), ২৯ দিন (হাসপাতালে অবস্থান), ৫ কোটি (লিভার রোগে আক্রান্ত মানুষ), ২২-২৫ হাজার (বছরে লিভার সিরোসিস ও ক্যানসারে মৃত্যু), ১ হাজার (প্রতি বছর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন), ৬ (সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!