📌 বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে জানা যায়, জনতা ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারে দীর্ঘদিনের অদাবিকৃত আমানত শনাক্তের ব্যবস্থা না থাকায় জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বেক্সিমকো ও ওরিয়ন গ্রুপের নামে সুদ আদায়ের সুযোগ হারিয়ে প্রায় ৮ হাজার ২৭০ কোটি টাকা বঞ্চিত হয়েছে ব্যাংক। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ব্যাংকের কার্যক্রমে অনিয়ম ধরা পড়েছে
ঢাকার জনতা ব্যাংক কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারে ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার কারণে জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাত ও পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ব্যাংকের সিবিএসে দীর্ঘদিনের অদাবিকৃত আমানত শনাক্তের ব্যবস্থা না থাকায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে লেনদেনহীন হিসাবের প্রকৃত তথ্য পাওয়া যায় না। এ কারণে জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে জনতা ব্যাংকের কোর সিস্টেমে ত্রুটি ও পরিচালনা পর্ষদের অদক্ষতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে
- 📌 ১০ বছরের বেশি সময় ধরে অদাবিকৃত ৯৪ কোটি টাকা আমানতের তথ্য পাওয়া যায়নি, যার মধ্যে জনতা ভবন করপোরেট শাখায় ৫৪ লাখ টাকা ১০ বছরের বেশি অদাবিকৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে
- 📌 বেক্সিমকো গ্রুপ ও ওরিয়ন অয়েল অ্যান্ড শিপিং লিমিটেডের নামে সুদ আদায়ের সুযোগ হারিয়ে ব্যাংক প্রায় ৮ হাজার ২৭০ কোটি টাকা বঞ্চিত হয়েছে
- 📌 সংযুক্ত আরব আমিরাতে জনতা ব্যাংকের কার্যক্রমে ৪১ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন দিরহামের শ্রেণিকৃত ঋণের তথ্য পাওয়া গেছে
- 📌 তিন ভারতীয় কর্মকর্তা নিয়োগের অনুমোদন ছাড়া এবং ২১ হাজার ৮৯২ দিরহামে কেনা ছয়টি ল্যাপটপের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে জানা যায়, জনতা ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারে দীর্ঘদিনের অদাবিকৃত আমানত শনাক্তের ব্যবস্থা নেই। ফলে ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অদাবিকৃত আমানতের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে দীর্ঘদিন অজ্ঞাত থাকা অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর ৫৮টি শাখার ৪৮৮টি হিসাবের মধ্যে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে অদাবিকৃত আমানতের পরিমাণ ছিল ৯৪ কোটি টাকা। তবে স্থানীয় কার্যালয়সহ অনেক শাখার তথ্য তালিকায় ছিল না। জনতা ভবন করপোরেট শাখায় তিনটি সুন্ড্রি হিসাবে ৫৪ লাখ টাকা ১০ বছরের বেশি সময় ধরে অদাবিকৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার অদক্ষতার কারণে বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে যথাসময়ে ডিমান্ড লোন সৃষ্টি না করায় প্রায় ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং ওরিয়ন অয়েল অ্যান্ড শিপিং লিমিটেডের নামে একই কারণে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা সুদ আদায়ের সুযোগ হারিয়েছে ব্যাংক। মোট প্রায় ৮ হাজার ২৭০ কোটি টাকা সুদ আদায়ের সুযোগ থেকে ব্যাংক বঞ্চিত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে জনতা ব্যাংকের কার্যক্রমেও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে ৪১ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন দিরহামের শ্রেণিকৃত ঋণ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কার্যালয়ে অনুমোদন ছাড়া তিন ভারতীয় কর্মকর্তা নিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। আবার ২১ হাজার ৮৯২ দিরহামে কেনা ছয়টি ল্যাপটপের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়াও, রফতানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) হিসাবেও নিয়ম ভঙ্গের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইডিএফের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক জনতা ব্যাংকের এফসি ক্লিয়ারিং হিসাব ডেবিট করলেও গ্রাহকের নামে যথাসময়ে দায় সৃষ্টি করা হয়নি।
"ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার তদারকির ঘাটতি, অদক্ষতা ও অকার্যকারিতার কারণে এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ; সংযুক্ত আরব আমিরাত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ হাজার ২৭০ কোটি টাকা (সুদ হারানো), ৯৪ কোটি টাকা (অদাবিকৃত আমানত), ৪১ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন দিরহাম (শ্রেণিকৃত ঋণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!