📌 কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার একই গ্রামের তিন তরুণ ইউরোপ যাত্রায় নৌকাডুবিতে দুজন উদ্ধার হলেও একজন নিখোঁজ। বায়েজিদ মিয়া (২০) সাগরে হারিয়ে গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে, আর রাহিম (২৪) ও কাউসার (২৫) গ্রিসের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে আছেন। পরিবার ও প্রশাসন বায়েজিদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছে
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আদর্শপাড়া গ্রামের একই পরিবার থেকে তিন তরুণ ইউরোপ যাত্রায় নৌকাডুবিতে দুজনকে উদ্ধার করা হলেও একজন নিখোঁজ রয়ে গেছেন। বায়েজিদ মিয়া (২০) সাগরে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আর রাহিম মিয়া (২৪) ও কাউসার মিয়া (২৫) গ্রিসের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে আছেন। পরিবার ও প্রশাসন বায়েজিদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বায়েজিদ মিয়া (২০) ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; পরিবার ও প্রশাসন তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছে
- 📌 রাহিম মিয়া (২৪) ও কাউসার মিয়া (২৫) উদ্ধার হলেও বায়েজিদের কোনো খবর পাওয়া যায়নি
- 📌 ১৪ সেপ্টেম্বর লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করে নৌকাটি ডুবে যায়; ৭৭ জনের মধ্যে ৫১ জন উদ্ধার, ২৫ জন নিখোঁজ
- 📌 ১৪ লাখ টাকা করে প্রত্যেকের জন্য চুক্তি হয়েছিল; প্রথমে ৯ লাখ টাকা দিতে হয়েছিল, বাকি পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল
- 📌 রাহিম ও কাউসার উদ্ধার হওয়ার পর তাদের পরিবারকে ফোন করে কান্নায় কান্নায় বলেছিল, ‘আব্বা, আমি বাইচ্চা আছি’
📰 বিস্তারিত
ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আদর্শপাড়া গ্রামের সাব মিয়ার বাড়িতে গত সোমবার দুপুরে কান্নার শব্দ শুনে পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বায়েজিদ মিয়া (২০) ইউরোপ যাত্রায় নৌকাডুবিতে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ১৪ সেপ্টেম্বর লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগরে নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন। ওই নৌকায় বায়েজিদের সঙ্গে একই গ্রামের আরো দুই তরুণ ছিলেন — রাহিম মিয়া (২৪) ও কাউসার মিয়া (২৫)।
রাহিম ও কাউসার উদ্ধার হলেও বায়েজিদের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বায়েজিদের পরিবার বলছে, দুর্ঘটনার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তিনি মারা গেছেন, এমন নিশ্চিত তথ্যও পরিবার বা প্রশাসনের কাছে নেই। বায়েজিদের বাবা সাব মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘কত জায়গায় খোঁজ নিচ্ছি, কত মানুষের খোঁজ পাচ্ছি। আমার বায়েজিদের খোঁজ নাই।’
রাহিম ও কাউসারের পরিবারকে ফোন করে তারা কান্নায় কান্নায় বলেছিল, ‘আব্বা, আমি বাইচ্চা আছি’। রাহিমের বাবা কামাল মিয়া বলেন, ‘ফোনের অপর প্রান্ত থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পেয়েছি। এরপর কাঁদতে কাঁদতে রাহিম বলেছিলেন, ‘আব্বা, আমি বাইচ্চা আছি’।’ কাউসারের বাবা ছিদ্দিক মিয়া বলেন, ‘ছেলের গলার আওয়াজ শুনে আমি কান্নায় ভেঙে পড়েছি। আমার পুত কেমনে বাইচ্চা আছে, এইডাই বড় কথা না, বাইচ্চা আছে—এইডাই বড় কথা।’
বায়েজিদের পরিবার জানায়, স্থানীয় দালাল সোহাগ মিয়ার মাধ্যমে গ্রিসে পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। প্রত্যেকের জন্য ১৪ লাখ টাকা করে চুক্তি হয়েছিল। প্রথমে ৯ লাখ টাকা দিতে হয়েছিল, বাকি পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। বায়েজিদ ও কাউসার প্রায় দেড় মাস আগে দেশ ছাড়েন। রাহিম এক মাস আগে যান। প্রথমে তাঁদের সৌদি আরব নেওয়া হয়, সেখানে ওমরাহ পালন করেন। এরপর মিসর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। লিবিয়ায় এক মাসের বেশি সময় থাকার পর ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রিসের উদ্দেশে নৌকাটি ছাড়ে। গ্রিসের গাভদোস দ্বীপের দক্ষিণে নৌকাটি ডুবে যায়। বার্তা সংস্থা এএফপির খবর অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত নৌকায় ছিলেন ৭৭ জন। এ ঘটনায় ৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়, একজনের মরদেহ পাওয়া যায়, আর ২৫ জন নিখোঁজ আছেন।
"আমার বায়েজিদের খোঁজ নাই"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা, আদর্শপাড়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বায়েজিদ মিয়া (২০), রাহিম মিয়া (২৪), কাউসার মিয়া (২৫), সাব মিয়া, কামাল মিয়া, ছিদ্দিক মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ সেপ্টেম্বর (নৌকা ছাড়ার তারিখ), ৭৭ জন (নৌকায় যাত্রী), ৫১ জন (উদ্ধার), ২৫ জন (নিখোঁজ), ১৪ লাখ টাকা (প্রতি ব্যক্তির চুক্তি), ৯ লাখ টাকা (প্রথমে দিতে হয়েছিল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!