📌 হিমালয়ের ধস ও বন্যায় নেপাল ও চীনে মৃত্যু ১ হাজার ২৭০ ছাড়িয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনও আটকে থাকা শ্রমিকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি তথ্যমতে, নেপালে ১ হাজার ২৫২ জনের মৃত্যু এবং ৪ হাজার ২১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনে মৃত্যু ২১ জন এবং নিখোঁজ ৫৪১ জন।
হিমালয়ের ধস ও বন্যায় বিধ্বস্ত নেপাল ও চীনে মৃত্যুপুরী পরিণত হয়েছে। গত সপ্তাহে তিব্বতের লাংটাং লিরুং পর্বতের কাছে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় দুই দেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২৭০ জনের বেশি এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৭০০-এর অধিক মানুষ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২৫২ জনের এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২১৬ জন
- 📌 চীনের তিব্বত অঞ্চলে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪১ জন
- 📌 নেপালের রসুয়া জেলায় শতাধিক শ্রমিক হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের টানেলে আটকে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে
- 📌 জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অনুমান অনুসারে, বন্যায় কমপক্ষে ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ সৃষ্টি হয়েছে
- 📌 নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকবে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে
📰 বিস্তারিত
গত সপ্তাহে তিব্বতের লাংটাং লিরুং পর্বতের কাছে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় নেপাল ও চীনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২৭০ জনের বেশি এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৭০০-এর অধিক মানুষ। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২৫২ জনের এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২১৬ জন।
চীনের তিব্বত অঞ্চলে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪১ জন। নেপালের সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা সঞ্জয় কেসি বলেন, "আমরা এখনও টানেলের ভেতরে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা করছি। টানেলটি একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের অংশ হওয়ায় পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।"
নিখোঁতদের পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন সকালে খবর পাওয়ার আশায় জড়ো হচ্ছেন। প্রাতিক রানা নামে এক ব্যক্তি বলেন, "প্রতিদিন সকালে আমি এখানে আসি আমার বাবাকে খুঁজে পাওয়ার আশায়। কিন্তু সূর্যাস্তের সময় আমার আশা ক্ষীণ হয়ে আসে। একজন পিতা সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমার জীবনে তিনি ছিলেন অতি প্রয়োজনীয়।"
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অনুমান অনুসারে, বন্যায় কমপক্ষে ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে ফরেনসিক দল মৃতদেহ শনাক্তকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আল জাজিরার জেসিকা ওয়াশিংটন জানিয়েছেন, অনেক মৃতদেহই পচনশীল অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, "ফরেনসিক দল জানিয়েছে, শরীরের ট্যাটু বা গয়না শনাক্তকরণে সাহায্য করতে পারে, তবে অনেক মৃতদেহই এমন অবস্থায় রয়েছে যে শনাক্ত করা খুবই চ্যালেঞ্জিং।"
বুধবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ জীবিতদের খোঁজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করবে। এনডিআরআরএমএ প্রধান ধর্ম রাজ উপ্রেতি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রায় ২০ হাজার ঘর পুনর্নির্মাণ করতে হবে, যার মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, "একই স্থানে ঘর পুনর্নির্মাণের কোনো মানে হয় না, কারণ তা মানুষকে একই ঝুঁকির মুখে ফেলবে।" উপ্রেতি আরও জানান, কর্তৃপক্ষ নিরাপদ এলাকা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে যেখানে সম্প্রদায়গুলোকে স্থানান্তর করা হবে।
"আমরা এখনও টানেলের ভেতরে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা করছি। কারণ এটি একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের অংশ হওয়ায় পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।"
"প্রতিদিন সকালে আমি এখানে আসি আমার বাবাকে খুঁজে পাওয়ার আশায়। কিন্তু সূর্যাস্তের সময় আমার আশা ক্ষীণ হয়ে আসে। একজন পিতা সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমার জীবনে তিনি ছিলেন অতি প্রয়োজনীয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপাল ও চীনের হিমালয় অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ, ধর্ম রাজ উপ্রেতি, প্রাতিক রানা, সঞ্জয় কেসি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: মৃত্যু ১ হাজার ২৭০+, নিখোঁজ ৪ হাজার ৭০০+, ধ্বংসাবশেষ ২২ লাখ টন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!