📌 সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণসহ কয়েকটি খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে
জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় পৌনে ১৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে মাত্র ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। বাকি অংশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে জামায়াতের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভারতের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে
- 📌 বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, আমদানি হয়েছে প্রায় ১১ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলারের
- 📌 ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল যথাক্রমে ৭ হাজার ৩১৩ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ও ৭ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার
- 📌 সরকার রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল ও সেমিকন্ডাক্টর খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে
- 📌 দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট থ্রি-হুইলার যানবাহনের আমদানি নিষিদ্ধ, তবে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার উৎপাদনে যন্ত্রাংশ আমদানি করা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জাতীয় সংসদে জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় পৌনে ১৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে মাত্র ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যেখানে ভারতে বাংলাদেশের আমদানি হয়েছে প্রায় ১১ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলারের। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।’
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল ও সেমিকন্ডাক্টর খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এসব খাতের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নীতি সহায়তা ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘যেসব খাত এখনও রপ্তানির উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছায়নি, সেগুলোকেও সেই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’
ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন মুক্তাদির। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারতের দিক থেকে কিছু বাধা থাকার পাশাপাশি গত দুই বছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে বলে সংসদে উল্লেখ করেন তিনি। ওই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। সরকার এ প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
"আমাদের যেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার দরকার, সেটি হচ্ছে আমাদের ওভারঅল এক্সপোর্টের অ্যাবিলিটি বাড়ানো দরকার।"
ভারত থেকে বেশি আমদানির কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, আমদানির বড় অংশ সরকার নয়, বেসরকারি খাত করে। ব্যবসায়ীরা যেখান থেকে প্রতিযোগিতামূলক কম দামে পণ্য পান, সেখান থেকেই আমদানি করেন। তিনি বলেন, ‘সুতরাং উৎস হিসেবে যদিও এখানে ভারত একটি দেশের ক্ষেত্রেই ব্যবধানটা এত বেশি, কিন্তু যারা আমদানি করেন, তারা তাদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়েই সেখান থেকে আমদানি করেন।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খন্দকার আবদুল মুক্তাদির (বাণিজ্যমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ বিলিয়ন ডলার (দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য), ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার (রপ্তানি), ৭ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার (২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঘাটতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!