📌 ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন রাসেল রানা। তাঁর বাবা পিন্টু রহমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে জানান, ছেলেকে বিদায় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি জানতে পারেন তাঁর বুকে গুলি লেগেছে। তিন দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন রাসেল
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল চারটার দিকে নিজের ছেলে রাসেল রানার কাছ থেকে ফোন পেয়ে পিন্টু রহমান শুনেছিলেন, ‘আব্বু আমি আন্দোলনে যাচ্ছি, আমার জন্য দোয়া করো।’ কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাঁর কাছে খবর আসে, নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে রাসেল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁর বুকে গুলি লেগেছে এবং তাঁর অবস্থা ভালো নয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল চারটায় রাসেল রানা তাঁর বাবা পিন্টু রহমানকে ফোন করে বলেন, ‘আব্বু আমি আন্দোলনে যাচ্ছি, আমার জন্য দোয়া করো।’
- 📌 একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাসেলের এক বন্ধুর ফোন থেকে পিন্টু রহমান জানতে পারেন, তাঁর ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
- 📌 গুলিবিদ্ধ হওয়ার তিন দিন পর, অর্থাৎ ২২ জুলাই সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন রাসেল রানা।
- 📌 পিন্টু রহমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন।
- 📌 নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পিন্টু রহমান চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে অংশ নেন।
📰 বিস্তারিত
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন রাসেল রানা। তাঁর বাবা পিন্টু রহমান জানান, ছেলেকে বিদায় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি জানতে পারেন তাঁর বুকে গুলি লেগেছে। পিন্টু রহমান নওগাঁ জেলায় বসবাস করেন। কারফিউ চলার কারণে তিনি ঢাকায় আসতে পারেননি। ফলে তাঁর আত্মীয় বুলবুল ও চাচাতো ভাই রফিকুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান তিনি।
২২ জুলাই সকালে বুলবুল তাঁকে ফোন করে জানান, রাসেল মৃত্যুবরণ করেছেন। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁর মরদেহ নওগাঁয় নিয়ে আসা হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
জবানবন্দিতে পিন্টু রহমান আরও উল্লেখ করেন, পত্রপত্রিকা, ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, রাসেল গুলিবিদ্ধ হওয়ার দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, ভিকি, সাংবাদিক রাজু, রিয়াদ, ডিস বাবুসহ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা গুলি করতে করতে চাষাঢ়া এলাকা থেকে বিবি রোড ও নয়ামাটি এলাকার দিকে যান।
"আমি আন্দোলনে যাচ্ছি, আব্বু আমার জন্য দোয়া করো।" — রাসেল রানা, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল চারটার দিকে তাঁর বাবা পিন্টু রহমানকে ফোন করে বলেছিলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পিন্টু রহমান, রাসেল রানা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ জুলাই, ২২ জুলাই, ১২ জন আসামি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!