📌 মহাবিশ্বের অজানা শক্তি ও গ্যালাক্সির গঠন সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে নাসার অত্যাধুনিক রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। এটি মহাকাশের L2 পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটারের রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করবে
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯এ থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২৬ মিনিট) উৎক্ষেপণ করা হয়েছে নাসার সর্বাধুনিক ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। ৩০ আগস্ট, রোববার মহাশূন্যের অজানা রহস্য উদ্ঘাটনে যাত্রা শুরু করা এই নভোযানটি ফ্যালকন হেভি রকেটে চেপে গভীর মহাকাশের দিকে রওনা দেয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯এ থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় রোমান স্পেস টেলিস্কোপ
- 📌 স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২৬ মিনিট) মহাকাশযানটি যাত্রা শুরু করে
- 📌 মহাবিশ্বের ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটারের রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করবে এই টেলিস্কোপ
- 📌 পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরের L2 পয়েন্টে অবস্থান করবে রোমান টেলিস্কোপ
- 📌 প্রাথমিক মিশনটি চলবে পাঁচ বছর এবং মহাকাশের বিশাল জরিপ পরিচালনা করবে
📰 বিস্তারিত
দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উদ্ঘাটনে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছে নাসার অত্যাধুনিক ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২৬ মিনিট) কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯এ থেকে ফ্যালকন হেভি রকেটে চেপে মহাকাশযানটি যাত্রা শুরু করে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত এই অভিযানের মাধ্যমে মহাবিশ্বের দূরতম প্রান্তের রহস্যময় শক্তিগুলো সম্পর্কে মানুষের জানার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রোমান টেলিস্কোপ মহাবিশ্বের গ্রহ-নক্ষত্র থেকে শুরু করে মহাজাগতিক বিভিন্ন ঘটনার বিশদ ছবি তুলতে সক্ষম হবে। হাবল ও জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর এটি মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণা পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
রোমান টেলিস্কোপটি মহাকাশের একটি বিশেষ স্থান ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ২ (L2)-তে অবস্থান করবে, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই স্থানটি মহাকর্ষীয় টানের কারণে মহাকাশযানকে স্থির অবস্থায় রাখতে সক্ষম। ফলে টেলিস্কোপটি পৃথিবীর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে পারবে এবং মহাবিশ্বের ছবি তোলার সময় কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হবে না। উল্লেখ্য, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপও একই স্থানে অবস্থান করছে।
রোমান টেলিস্কোপের প্রাথমিক মিশনটি পাঁচ বছর ধরে চলবে। এই সময়ে এটি মহাবিশ্বের ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটারের মতো রহস্যময় বিষয়গুলো সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহ করবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ডার্ক এনার্জি মহাবিশ্বের প্রসারণ ঘটাচ্ছে, অন্যদিকে ডার্ক ম্যাটার গ্যালাক্সিকে একত্রে ধরে রাখছে। তবে এখন পর্যন্ত এদের সরাসরি অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়নি। রোমান টেলিস্কোপ এই রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
রোমান স্পেস টেলিস্কোপের প্রকল্প বিজ্ঞানী জুলি ম্যাকএনারি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘রোমান এমন কিছু অসাধারণ জরিপ পরিচালনা করবে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় বিপ্লব ঘটাবে। আমরা অন্যান্য নক্ষত্রের চারপাশের গ্রহগুলোর একটি বৈপ্লবিক শুমারি করব। এমনকি, মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের বর্তমান স্ট্যান্ডার্ড মডেলও রোমানের তথ্যে পরিবর্তিত হতে পারে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রোমানের সবচেয়ে বড় জরিপ থেকে প্রাপ্ত একটি ছবি দেখতে হলে একজন ব্যক্তির কমপক্ষে ৫ লাখেরও বেশি ফোর-কে রেজ্যুলেশনের টিভি প্রয়োজন হবে। হাবল টেলিস্কোপ যেখানে আকাশের একটি ক্ষুদ্র অংশের ছবি তুলতে পারে, সেখানে রোমানের দেখার পরিধি হাবলের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি। অর্থাৎ, হাবলের ১০০টি ছবির সমান এলাকা রোমান মাত্র একটি ছবিতে ধারণ করতে পারবে।
‘রোমান এমন কিছু অসাধারণ জরিপ চালাতে প্রস্তুত, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় বিশাল প্রভাব ফেলবে। আমরা অন্যান্য নক্ষত্রের চারপাশের গ্রহগুলোর একটি বৈপ্লবিক শুমারি করব। এমনকি, মহাবিশ্ব নিয়ে আমাদের বর্তমান যে স্ট্যান্ডার্ড মডেলটি আছে, রোমানের তথ্যে সেটি ভুলও প্রমাণিত হতে পারে!’ — জুলি ম্যাকএনারি, সিনিয়র প্রজেক্ট সায়েন্টিস্ট, রোমান স্পেস টেলিস্কোপ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কেনেডি স্পেস সেন্টার, ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 প্রধান ব্যক্তি: জুলি ম্যাকএনারি (সিনিয়র প্রজেক্ট সায়েন্টিস্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: উৎক্ষেপণ সময় ৭টা ২৬ মিনিট, L2 দূরত্ব ১৫ লাখ কিলোমিটার, প্রাথমিক মিশন ৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!