📅 ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞে শহীদ বিপ্লবী কবি খেৎ থি

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞে শহীদ বিপ্লবী কবি খেৎ থি

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ২০২১ সালে বিপ্লবী কবি খেৎ থিকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তাঁর স্ত্রীকে প্রতারণার মাধ্যমে হত্যার খবর জানানো হয়। তাঁর মৃত্যু মিয়ানমারের সামরিক শাসনবিরোধী সংগ্রামে নতুন প্রেরণা যোগিয়েছে

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ২০২১ সালের ৮ মে সন্ধ্যায় বিপ্লবী কবি খেৎ থি ও তাঁর স্ত্রী সও সুকে তাঁদের শোয়েবো শহরের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তাঁদেরকে প্রথমে স্থানীয় থানায় আটক রাখা হয়। পরবর্তীতে কবি খেৎ থিকে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা করে কাছের একটি সামরিক ছাউনিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাতেই তাঁকে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 ২০২১ সালের ৮ মে সন্ধ্যায় সামরিক জান্তা কবি খেৎ থি ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়
  • 📌 কবিকে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা করে সামরিক ছাউনিতে নিয়ে হত্যা করা হয়
  • 📌 পরদিন স্ত্রীকে জানানো হয় স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, কিন্তু পরে জানা যায় তিনি মৃত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিলেন
  • 📌 কবির মৃতদেহে অভ্যন্তরীণ অঙ্গ কেটে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়
  • 📌 সামরিক জান্তা বিস্ফোরক সামগ্রী মজুতের অভিযোগে কবিকে আটক করেছিল, কিন্তু কোনো প্রমাণ পায়নি
  • 📌 খেৎ থির জন্ম ১৯৭৬ সালে, তাঁর আসল নাম জও তুন
  • 📌 সামরিক অভ্যুত্থানের পর দুই মাসের মধ্যে তিনজন কবিকে হত্যা করা হয়
  • 📌 খেৎ থি ছাড়া অন্য দুই শহীদ কবি ছিলেন কে জা উইন (৩৯ বছর) ও কিই লিন্ আয়ে (৩৬ বছর)
  • 📌 খেৎ থি প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করলেও সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন
  • 📌 শহীদ হওয়ার দুই বছর আগে তিনি বিবাহ করেন

📰 বিস্তারিত

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ২০২১ সালের ৮ মে সন্ধ্যায় বিপ্লবী কবি খেৎ থি ও তাঁর স্ত্রী সও সুকে তাঁদের শোয়েবো শহরের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তাঁদেরকে প্রথমে স্থানীয় থানায় আটক রাখা হয়। পরবর্তীতে কবি খেৎ থিকে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা করে কাছের একটি সামরিক ছাউনিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাতেই তাঁকে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়।

পরদিন ৯ মে সকালে কবির স্ত্রীকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁকে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আহত হওয়ায় তাঁর স্বামীকে মনিওয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্ত্রী হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন যে তাঁর স্বামীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মর্গে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তাঁর স্বামীর ক্ষতবিক্ষত লাশ সেখানে পড়ে আছে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গ কেটে খুলে নেওয়া হয়েছে।

কবি খেৎ থিকে বিস্ফোরক সামগ্রী মজুত করেছেন, এ সন্দেহে সামরিক জান্তা তাঁকে আটক করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এর সপক্ষে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ তারা খুঁজে পায়নি। বহু নির্যাতনের পরেও তাঁর কাছ থেকে কোনো স্বীকারোক্তি আদায় করতে পারেনি সামরিক বাহিনী। মৃত্যুঞ্জয়ী এই কবি আমৃত্যু মুখ খোলেননি।

খেৎ থির জন্ম ১৯৭৬ সালে। তাঁর আসল নাম জও তুন। তিনি সাগাইং অঞ্চলে ২০২১-এর মার্চে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মাত্র দুই মাসের মধ্যে মোট তিনজন কবিকে হত্যা করে সামরিক জান্তা। ৪৫ বছরে পা রাখা খেৎ থি ছাড়া শহীদ অন্য দুই কবি ছিলেন ৩৯ বছর বয়সী কে জা উইন ও ৩৬ বছর বয়সী কিই লিন্ আয়ে।

সামরিক জান্তা কবি খেৎ থিকে হত্যা করেছে, কিন্তু তাঁর চেতনাকে হত্যা করতে পারেনি। তাঁরা তাঁর দেহের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, কিন্তু তাঁর ভাবধারাকে স্পর্শ করতে পারেনি। তাঁরা একজন জীবন্ত কবিকে নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ফিরিয়ে দিয়েছে তাঁর মৃতদেহকে। তাঁরা ভেবেছিল, এভাবে তাঁরা কবিকণ্ঠকে চিরস্তব্ধ করে দেবে, কিন্তু কবির শব্দাবলি এখন সারা মিয়ানমারে এবং দেশের বাইরেও ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

ওরা মাথায় গুলি করে, কিন্তু ওরা জানে না বিপ্লব থাকে হৃদয়ে।

খেৎ থি লিখেছিলেন: "আমি যদি আর এক মিনিটও বাঁচি আমি চাই, আমার বিবেক যেন পরিষ্কার থাকে।" আমৃত্যু তিনি নিজের বিবেক পরিষ্কার রেখে গেছেন, কোনো মূল্যের বিনিময়েই তাঁকে জনবিরুদ্ধতার কালিমালিপ্ত হতে দেননি।

২০২১-এর ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে উল্লিখিত তিন কবিসহ কমপক্ষে ৭৬১ জন নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়।

খেৎ থি প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন। ২০০৪ থেকে ২০১২ পর্যন্ত তিনি কালায়, শোয়েবো ও মনিওয়া পৌরসভায় জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি চাকরি ছেড়ে দেন সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য। তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি খণ্ডকালীনভাবে নিজেদের তৈরি কেক ও আইসক্রিম বিক্রি করতেন। শহীদ হওয়ার মাত্র দুই বছর আগে তিনি বিবাহ করেন।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সাগাইংয়ের পালেতে সামরিক একনায়কতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনে খেৎ থি ছিলেন একজন সম্মুখসারীর অংশীদার। তাঁর শাহাদাতবরণের সময় তাঁর নিজের ভাই মনিওয়া কারাগারে বন্দী ছিলেন সামরিক জান্তাবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে। তাঁর মৃত্যুসংবাদ তাঁর বৃদ্ধ মায়ের কাছে গোপন রাখা হয়।

মিয়ানমারে সামরিক শাসনের প্রতিপক্ষ হিসেবে গঠিত জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কবি উ য়ী মন্ তাঁর ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘খেৎ থিসহ মনিওয়ার তিনজন কবি শহীদ হয়েছেন। আমি শোকার্ত। জয় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ।’

কবি খেৎ থির মৃত্যুকে মিয়ানমারের আরেক বিপ্লবী কবি ইয়ো খাৎ দেখেছেন কবিতার জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে। তিনি বলেছেন, মিয়ানমারে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে যাঁরা প্রতিরোধ করছেন, তাঁদের কাছে তিনি চিরসম্মানিত হয়ে থাকবেন। ইয়ো খাৎ বলেন, ‘আদিকাল থেকে কবিরা তাঁদের হৃদয় ও মস্তিষ্ক দিয়ে অন্যায়ের প্রতিরোধ করেছেন। খেৎ থি ঠিক এটাই করে আসছিলেন বিপ্লবের শুরু থেকেই।’

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: শোয়েবো শহর, মনিওয়া প্রদেশ, সাগাইং অঞ্চল, মিয়ানমার
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কবি খেৎ থি, স্ত্রী সও সু, কবি উ য়ী মন্, কবি ইয়ো খাৎ
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ মে ২০২১, ৯ মে ২০২১, ৪৫ বছর, ৩৯ বছর, ৩৬ বছর, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ৭৬১ জন

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖