📌 তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ইরানকে লক্ষ্য করে নয় বলে দাবি করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। চুক্তির আওতায় তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ইরানকে লক্ষ্য করে নয় বলে দাবি করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। চুক্তিতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান দাবি করেছেন, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ইরান বা অন্য কোনো দেশকে অভিন্ন হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেনি।
- 📌 চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
- 📌 চুক্তির প্রস্তুতি চলছিল প্রায় দুই বছর আট মাস ধরে।
- 📌 চুক্তিটি ‘কারিগরিভাবে’ ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর আদলে তৈরি করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গত শুক্রবার সৌদি আরবের মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির আওতায় তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, চুক্তিতে কোনো অভিন্ন হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর মতে, চুক্তিতে সই করা দেশগুলোর কোনো একটির ওপর হামলা না করা কোনো দেশকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।
ফিদান জানান, চুক্তিটির প্রস্তুতি চলছিল প্রায় দুই বছর আট মাস ধরে। অর্থাৎ ইরানকে ঘিরে বর্তমান উত্তেজনার জেরে হঠাৎ করে চুক্তিটি তৈরি করা হয়নি। চুক্তিটি ‘কারিগরিভাবে’ ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর আদলে তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ন্যাটোর এ যৌথ প্রতিরক্ষা ধারায় কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, এ ধরনের হামলার জবাব কেমন হবে, তা নির্ভর করবে পরিস্থিতির ওপর।
চুক্তি অনুযায়ী, কোনো দেশ আক্রান্ত হলে প্রথমে তাকে সহায়তার অনুরোধ জানাতে হবে। একই সঙ্গে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, সেটিও নির্দিষ্ট করতে হবে। সেই সহায়তার পরিধি গোয়েন্দা তথ্য ও রসদ সরবরাহ থেকে শুরু করে গোলাবারুদ কিংবা সামরিক ইউনিট মোতায়েন পর্যন্ত হতে পারে। নতুন জোটের আওতায় রাজনৈতিক ও সামরিক কমিটিও গঠিত হবে। এসব কমিটিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর প্রধানেরা থাকবেন। সৌদি আরবে থাকবে একটি সচিবালয়। তিন দেশ যৌথ প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, রসদ সরবরাহ, হুমকি মূল্যায়ন ও সামরিক সক্ষমতার পারস্পরিক সমন্বয় নিয়ে কাজ করবে বলে জানান ফিদান।
"আমরা লিখিতভাবে কোনো অভিন্ন হুমকির কথা উল্লেখ করিনি। তাঁর বক্তব্য, চুক্তিতে সই করা দেশগুলোর কোনো একটির ওপর হামলা না করা কোনো দেশকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মক্কা, সৌদি আরব
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, মোহাম্মদ বিন সালমান, শাহবাজ শরিফ, হাকান ফিদান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দুই বছর আট মাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!