📌 ইংল্যান্ডের উদ্যোক্তা কাইলি ডিক্সন ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে নিজের স্বপ্নের পথে হাঁটেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত অনলাইন কমিউনিটি দ্য নর্দান ল্যাস লাউঞ্জ এখন প্রায় ৬ হাজার ৫০০ নারীকে সরাসরি সহায়তা করছে। নারী উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন এমবিই খেতাবপ্রাপ্ত কাইলি
ইংল্যান্ডের ইস্ট ডারহামের সিহ্যাম অঞ্চলের একটি ছোট অ্যালটমেন্টের কুঁড়েঘরে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী নারীরা সমবেত হন। তাঁদের মধ্যে কেউ নিজের অসমাপ্ত স্বপ্ন নিয়ে আসেন, কেউবা জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার সাহস খুঁজতে। তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে কাইলি ডিক্সন বারবার বলেন, যেকোনো উদ্ভাবনী আইডিয়াই একদিন সফল ব্যবসায় পরিণত হতে পারে। ব্যাংকের নিরাপদ চাকরি ছেড়ে মাশরুমের ছবি এঁকে ব্যবসা শুরু করা কাইলি আজ অসংখ্য নারীর কাছে আশা ও সাহসের প্রতীক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্যাংকের ১৮ বছরের চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে হাঁটেন কাইলি ডিক্সন এমবিই
- 📌 ইংল্যান্ডের সিহ্যাম অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত দ্য নর্দান ল্যাস লাউঞ্জ নামক অনলাইন কমিউনিটি প্রায় ৬ হাজার ৫০০ নারীকে সরাসরি সহায়তা করছে
- 📌 পরোক্ষভাবে ২০ হাজারের বেশি নারী উপকৃত হচ্ছেন এই প্ল্যাটফর্ম থেকে
- 📌 নারী উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত ব্যবসার হার উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে মাত্র ১৫ শতাংশ
- 📌 ভেঞ্চার ক্যাপিটালের মাত্র ২ শতাংশ অর্থ পান নারী প্রতিষ্ঠাতারা
📰 বিস্তারিত
৪৫ বছর বয়সী কাইলি ডিক্সন এমবিই যুক্তরাজ্যের একজন স্বনামধন্য উদ্যোক্তা ও লেখক। তিনি দ্য নর্দান ল্যাস লাউঞ্জ নামক অনলাইন কমিউনিটির প্রতিষ্ঠাতা, যা ব্যবসা শুরু করতে ও সম্প্রসারণে আগ্রহী নারীদের সহায়তা করে। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে মেন্টরিং, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও পারস্পরিক সহায়তার মাধ্যমে সরাসরি প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জন এবং পরোক্ষভাবে ২০ হাজারের বেশি নারীকে সহায়তা করছে। পরে এটি একটি লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়, যার পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন সাত সদস্য।
নারী ব্যবসায়ে বিশেষ অবদানের জন্য কাইলি রাজা তৃতীয় চার্লসের জন্মদিনের মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি বিশ্বাস করেন, যেকোনো উদ্ভাবনী আইডিয়াই একদিন সফল ব্যবসায় পরিণত হতে পারে। তিনি একটি ব্যাংকে টানা ১৮ বছর চাকরি করেছেন। স্থায়ী আয় আর নিরাপদ জীবন—সবই ছিল তাঁর। কিন্তু মনের ভেতরে ছিল অন্য এক ডাক। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি চাকরি ছেড়ে নিজের স্বপ্নের পথে হাঁটেন।
কাইলি শুধু ব্যবসাতেই থেমে থাকেননি। তিনি মাশরুমকে কেন্দ্র করে শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন, শিশুদের জন্য বই লিখেছেন এবং মাশরুম-অনুপ্রাণিত পণ্য বাজারে এনেছেন। তাঁর প্রথম ব্যবসা মাশরুম মার্ভেলাস গড়ে উঠেছিল তাঁর আঁকা ছবি ও শিল্পকর্ম থেকে। পরে এটি শিশুতোষ বইয়ের সিরিজ ‘দ্য ম্যাজিক্যাল ওয়ার্ল্ড অব মাশরুম মার্ভেলাস’-এ রূপ নেয়।
‘আমি মাশরুমের ছবি এঁকে একটি সফল ব্যবসা গড়ে তুলেছি। মানুষ আমাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়। তারা ভাবে, যদি আমি এটা করতে পারি, তাহলে তারাও তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।’
নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে কাইলি এমবিই সম্মাননায় ভূষিত হন। তাঁর মতে, ব্যবসা শুরু করার পর অনেক নারীই বাস্তবতার মুখোমুখি হন। কর পরিশোধ, ওয়েবসাইট তৈরি ও অর্থায়নের মতো প্রশ্ন তাঁদের আত্মবিশ্বাস নাড়িয়ে দেয়। পরিসংখ্যানও সেই কঠিন বাস্তবতার কথাই বলে। জেন্ডার ইনডেক্স ২০২৫ অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের মাত্র ১৫ শতাংশ ব্যবসা নারীদের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। অন্যদিকে, ভেঞ্চার ক্যাপিটালের মাত্র ২ শতাংশ অর্থ নারী প্রতিষ্ঠাতাদের হাতে পৌঁছায়, যেখানে শুধু পুরুষদের নিয়ে গঠিত দলগুলো পায় মোট তহবিলের প্রায় ৮০ শতাংশ।
কাইলির ভাষায়, ‘অনেক নারী এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েন যে একসময় মনে হয় তাঁদের কণ্ঠ যেন চাপা পড়ে যায়।’ সংসারের দায়িত্ব, সন্তান লালন-পালন, এমনকি মেনোপজের মতো শারীরবৃত্তীয় অভিজ্ঞতাও একজন নারী উদ্যোক্তার পথ কঠিন করে তোলে। তিনি মনে করেন, শিশু যত্নের আরও ভালো ব্যবস্থা, নিউরোডাইভার্স নারীদের জন্য বিশেষ সহায়তা এবং শক্তিশালী নারী রোল মডেল তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইংল্যান্ডের ইস্ট ডারহামের সিহ্যাম অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাইলি ডিক্সন এমবিই
- 🔢 সরাসরি সহায়তাপ্রাপ্ত নারী: প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জন
- 🔢 পরোক্ষভাবে উপকৃত নারী: প্রায় ২০ হাজার জন
- 🔢 উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে নারী-নেতৃত্বাধীন ব্যবসার হার: ১৫ শতাংশ
- 🔢 ভেঞ্চার ক্যাপিটালের নারী প্রতিষ্ঠাতাদের প্রাপ্ত অর্থের হার: ২ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!