📌 জার্মানির ৩৪টি শহরে জেন-জি বিক্ষোভে ফ্রাঙ্কফুর্টে সহিংসতা দেখা দিলে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাসের দাবিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের মধ্যে লুটপাট ও দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে
জার্মানির ৩৪টি শহরে জেন-জি বিক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি, জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বাতিলের দাবিতে হাজারো তরুণ অংশ নেন। তবে ফ্রাঙ্কফুর্টে সহিংসতা দেখা দিলে পুলিশের হিমশিম খেতে হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জার্মানির ৩৪টি শহরে অনুষ্ঠিত জেন-জি বিক্ষোভে ফ্রাঙ্কফুর্টে সহিংসতা দেখা দেয়, লুটপাট ও দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে
- 📌 ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশের মতে, সহিংস বিশৃঙ্খলা অব্যাহত রয়েছে, পেট্রলবোমাও নিক্ষেপ করা হচ্ছে
- 📌 আয়োজকদের প্রাথমিক আশা ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার বিক্ষোভকারী, কিন্তু শুধুমাত্র ১৮ হাজার অংশ নেন
- 📌 জেন-জি রেগেল্ট গোষ্ঠী শিক্ষা ও সামরিক নিয়োগ বাতিলের দাবি তুলে ধরেছে
- 📌 জার্মান কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, উগ্রপন্থি গোষ্ঠী আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে
📰 বিস্তারিত
শনিবার জার্মানির বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ ৩৪টি শহরে জেন-জি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এই বিক্ষোভের আয়োজন করে জেন-জি রেগেল্ট নামের একটি গোষ্ঠী, যার অর্থ জার্মান ভাষায় ‘জেন-জিই দায়িত্ব নিচ্ছে’। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ে তরুণ প্রজন্মের ওপর চাপ বাড়ছে। তারা শিক্ষাব্যবস্থায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বন্ধের দাবি তুলে ধরেছেন।
ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। সেখানে হুডি ও মুখোশ পরা দাঙ্গাকারীরা অন্তত দুটি দোকানে লুটপাট চালায় এবং আরও কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। পুলিশের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ‘সহিংস বিশৃঙ্খলা অব্যাহত রয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমাও নিক্ষেপ করা হচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষকে শহরের কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে চলার অথবা ওই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
আয়োজকদের প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৮২ হাজার বিক্ষোভকারীর অংশগ্রহণের আশা ছিল, কিন্তু শুধুমাত্র ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নেন। অন্যদিকে, আয়োজকদের ওয়েবসাইটে প্রায় ৩৬ হাজার অংশগ্রহণকারীর তথ্য উল্লেখ করা হয়। জার্মান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্যালোইন উৎসবের সঙ্গে একই সময়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।
বার্লিনের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শন বেকার জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা তুলে ধরতে তিনি বিক্ষোভে অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘ভেতরে ঢুকে কক্ষগুলোতে প্রবেশ করলে মনে হয়, এটি যেন পরিত্যক্ত কোনো ভবন। অথচ আমাদের নিয়মিত এখানে এসে পড়াশোনা করতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর বর্তমান অবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগজনক এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনা প্রয়োজন।
"আমরা আজ এখানে যুদ্ধ ও জবরদস্তির পক্ষে নয়, বরং শান্তি ও স্বাধীনতার দাবিতে লড়াই করতে এসেছি। আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য আরও ভালো সহায়তা নিশ্চিত করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জার্মানির ৩৪টি শহর (বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লিনা ফ্রিডরিখ (জেন-জি রেগেল্টের মুখপাত্র), শন বেকার (শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৪টি শহর, ১৮ হাজার বিক্ষোভকারী, ৩৬ হাজার আশা করা অংশগ্রহণকারী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!