📌 যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত স্থায়ীভাবে খারিজ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা। বিচারক ড্যারিন গেইলস বলেছেন, ট্রাম্প ‘প্রকৃত বিদ্বেষ’ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে মামলাটি করা হয়েছিল
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত স্থায়ীভাবে খারিজ করেছে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং এর মালিক রুপার্ট মারডকসহ সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে করা এই মামলা বিচারক ড্যারিন গেইলসের আদেশে খারিজ হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ‘প্রকৃত বিদ্বেষ’ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা মামলা সফল করতে অপরিহার্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত স্থায়ীভাবে খারিজ করেছে ট্রাম্পের ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা।
- 📌 বিচারক ড্যারিন গেইলস বলেছেন, ট্রাম্প ‘প্রকৃত বিদ্বেষ’ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
- 📌 দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে মামলাটি করা হয়েছিল, যেখানে জেফরি অ্যাপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল।
- 📌 ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে ট্রাম্পের নামে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা সম্পর্কে তথ্য ছিল।
- 📌 ট্রাম্প দাবি করেন, প্রতিবেদন ‘মিথ্যা, বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর’।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের বিচারক ড্যারিন গেইলস গত শনিবার (১ নভেম্বর) স্থায়ীভাবে খারিজ করেন ট্রাম্পের ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ‘প্রকৃত বিদ্বেষ’ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে মানহানি মামলা সফল করতে অপরিহার্য। বিচারক গেইলস বলেন, ট্রাম্পের মামলা ছিল ‘খড়কুটো আঁকড়ে ধরার’ চেষ্টা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংশোধিত অভিযোগপত্রেও প্রকৃত বিদ্বেষের অভিযোগ প্রতিষ্ঠার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।
মামলাটি দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ২০০৩ সালে জেফরি অ্যাপস্টেইনের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তার সংকলনে ট্রাম্পের নামে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা ছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাজ্যের কুখ্যাত সমাজকর্মী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল এই বার্তাগুলো সংগ্রহ করেছিলেন। অ্যাপস্টেইন যৌন পাচারচক্রে জড়িত থাকার দায়ে বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখিত বার্তায় ট্রাম্পের স্বাক্ষর এবং একজন নারীর অবয়বের ছবি ছিল। ট্রাম্প নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন।
বিচারক গেইলস বলেন, ট্রাম্পের আইনজীবী দল দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তদন্তপ্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল, এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা করেছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়েছিল, কারণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় অ্যাপস্টেইনের যৌন অপরাধসংক্রান্ত নথি প্রকাশ না করা হয়েছিল। অ্যাপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ট্রাম্প দাবি করেন, অ্যাপস্টেইন তাঁর মার-আ-লাগো অবকাশকেন্দ্র থেকে নারী কর্মীদের ‘চুরি’ করার পর তিনি তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
"দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা করে ট্রাম্প ‘খড়কুটো আঁকড়ে ধরার’ চেষ্টা করছেন। সংশোধিত অভিযোগপত্রেও প্রকৃত বিদ্বেষের অভিযোগ প্রতিষ্ঠার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।"
২০২৫ সালের ১৮ জুলাই মিয়ামির ফেডারেল আদালতে ট্রাম্প মামলা দায়ের করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সাংবাদিকেরা ‘জেনেশুনে এবং বেপরোয়াভাবে’ অসংখ্য মিথ্যা, মানহানিকর ও অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিবেদনের কারণে তাঁর আর্থিক ও সুনামগত ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত (মিয়ামি), নিউইয়র্ক, যুক্তরাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিচারক ড্যারিন গেইলস, রুপার্ট মারডক, জেফরি অ্যাপস্টেইন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বিলিয়ন ডলার, ১৭ জুলাই ২০২৫, ৫০তম জন্মদিন, ২০ বছর কারাদণ্ড, ১৩ মাস কারাভোগ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!