📌 অধিকৃত পশ্চিম তীরের সেবাস্তিয়া প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান দখলের উদ্যোগ নিয়েছে ইসরাইল। ইউনেস্কো একে 'বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের' তালিকাভুক্ত করলেও স্থানীয়দের উচ্ছেদ অব্যাহত রয়েছে। আবু মুদিফসহ স্থানীয়রা ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের ভূমির অধিকার রক্ষায় প্রতিবাদ জানাচ্ছেন
অধিকৃত পশ্চিম তীরের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সেবাস্তিয়ার রোমান স্তম্ভগুলোর ওপরের পাহাড়ের ঢালে বিস্তীর্ণ জলপাই বাগান রয়েছে। বংশপরম্পরায় এসব জমিতে চাষাবাদ করে আসছে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো। স্থানীয়দের মধ্যে অন্যতম জমির মালিক আবু মুদিফ জানান, তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে যে তার জমিও সেই ৪৫০ একর জায়গার অংশ, যা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ দখল করতে যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ অধিকৃত পশ্চিম তীরের সেবাস্তিয়া প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানকে কেন্দ্র করে ৪৫০ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।
- 📌 স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করলে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি হারানোর বৈধতা দেওয়া হবে বলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করছেন।
- 📌 ইউনেস্কো স্থানটিকে 'বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের' তালিকাভুক্ত করেছে এবং ইসরাইলের ভূমি দখলকে প্রধান হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
- 📌 গত সপ্তাহে ইসরাইল পশ্চিম তীরের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণে প্রায় ১১ কোটি ৩০ লাখ শেকেল (২৭.৮ মিলিয়ন পাউন্ড) বরাদ্দ দিয়েছে।
- 📌 স্থানটিতে রোমান, ক্রুসেডার ও অটোমান যুগের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
আবু মুদিফ জানান, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দখলদারির কারণে তিনি নিজেকে শরীর থেকে আত্মা ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো অনুভব করছেন। তার মতে, জমি হারানো মানে কেবল আয় হারানো নয়, বরং নিজের অস্তিত্ব হারানো। স্থানীয় রেস্তোরাঁ মালিক নাহেদ সাখা বলেন, প্রাচীন এই স্থান থেকে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের বিচ্ছিন্ন করাই ইসরাইলের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে হচ্ছে। তিনি জানান, খনন ও পুনরুদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে এবং জমির মালিকদের চাষাবাদ বা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
সেবাস্তিয়ার প্রবেশপথের একপাশে প্রাচীন রোমান যুগের ফোরাম এবং অন্যপাশে ব্যাসিলিকার স্তম্ভ রয়েছে। স্থানীয়দের ভয়, ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ঝামেলা এড়াতে তারা এলাকাটি পরিষ্কার করতেও ভয় পাচ্ছেন। সেবাস্তিয়ার মেয়র মোহাম্মদ আজেম জানান, স্থানটি দুই ভাগে বিভক্ত—এলাকা বি (ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণাধীন) ও এলাকা সি (ইসরাইলিদের নিয়ন্ত্রণাধীন)।
ইসরাইলি অধিকারকর্মী অ্যালন আরাদ বলেন, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি মনে করেন, স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটির উন্নয়ন করতে হবে। ফিলিস্তিনের পর্যটন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাবে।
"আসল কথা হলো, ইসরাইল এই জায়গার মালিক নয়। এটি একটি ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী স্থান। একে ইতিবাচকভাবে উন্নত করতে হলে স্থানীয় সম্প্রদায় এবং পৌরসভার সঙ্গেই তা করতে হবে, যাতে তারা উপকৃত হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অধিকৃত পশ্চিম তীরের সেবাস্তিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু মুদিফ, নাহেদ সাখা, মোহাম্মদ আজেম, অ্যালন আরাদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫০ একর, ১১ কোটি ৩০ লাখ শেকেল, ২৭.৮ মিলিয়ন পাউন্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!